নির্যাতিত মুসলিম উইঘুরদে প্রতি আমার চিনঠি
হে আমার নির্যাতিত মুসলিম উইঘুর জাতি! তোমাদের পূর্বের সোনালী ইতিহাস আমার জানা আছে তাই তো আজ তোমাদেে ব্যথার অংশীদার।
পূর্বে তোমরা ছিলে উইঘুরিস্থান নামে পরিচিত ও স্বাধীন দেশ ও জাতি। কিন্তুু বড়ই আফসোস আজ তোমাদেরকে করে দেওয়া হলো " জিংজিয়ান " নামে পরিচিত এক রাষ্ট্র!!! জিংজিয়ান মানে নতুন প্রদেশ। তারপর এখান থেকেই চীনা কমিউনিষ্ট সরকার শুরু করে তাদের খেলা। নতুন প্রদেশ সুতরাং নতুন-নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা লাগবে। তারপর আস্তে-আস্তে আঘাত আনে ধর্মের উপর। তারা মুচে দিতে চাই ধর্ম ও জাতি। মনে পড়ে যায় যায় মধ্যযুগে এক রাজাকে পরাজয় করার পর থেকে শুরু হয় সেখানে ইসলাম প্রচার ও অবশেষে উইঘুরিস্থানের মানুষ আস্তে-আস্তে ইসলামে প্রবেশ করে।
চীনা সরকার তোমাদের উপর এত অত্যাচার আর জুলুম কেন করতেছে?তোমাদের মধ্যে এরকম কি আছে যা তাদের লোভ সামলাতে পারতেছে না। হে আমার উইঘুর মুসলিম জাতি তোমাদের জিংজিয়ান প্রদেশ প্রায় ১৬ লক্ষ ৪৭ হাজার চরশত বর্গমাইল নিয়ে গঠিত যা আমার বাংলাদেশের প্রায় ১২ গুন বড়!!! তোমাদের এই জিংজিয়ান প্রদেশে খনিসম্পদে ভরপুর, তৈল, প্রাকৃতিক গ্যাস,খনিজ সম্পদে ভরপুর যা চীনের অন্য কোথাও নাই। আর এই লোভটাই তারা সামলাতে পারতেছে না যার ফলে চীনা সরকার ধর্মের উপর আঘাত আনে ও তোমাদের ধ্বংস করে দিয়ে এই সম্পদের মালিক হতে চাই। আর এটাই তাদের লক্ষ ও কাজ করে যাচ্ছে।
হে আমার উইঘুরিস্থানের মুসলিম জাতি!! বড়ই আশ্চার্য লাগে এই জন্য
বর্তমানে সারা বিশ্বের সংখ্যালঘু মুসলিম দেশগুলির মধ্যে তোমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, ফিলিস্তিন, মায়ানমার,চেসনিয়া, বসনিয়া,ইরাক,ইরাস,সোমালিয়া,কাশ্মির বলেন সেখানকার মুসলিমগন এখনও আল্লাহ বলতে পারে, নামাজ পড়তে পারে, কোরআন পড়তে পারে কিন্তু উইঘুর মুসলিমরা মুখে আল্লাহ শব্দও উচ্চারন করতে পারে না, তারা নামাজ, রোজাসহ ইসলামদের কোন কিছুই পালন করতে পারেনা, এমনকি নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয়ও দিতে পারেনা, জাতিসঙ্ঘে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে মানবতা বিরোধী কাজের অভিযোগ উঠলে ৩৭টি দেশ জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে বলেছিল যে চিনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেটা মিথ্যা, এই ৩৭টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশ ছিল মুসলিম, তাদের সকলেই বলেছিল চিন সেখানকার মুসিলিমদের প্রতি কোন নির্যাতন করছে না বরং তাদের সহযোগিতা করছে এবং তাদের শিক্ষার ব্যাবস্থা করছে এবং চিন সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান করছে।
চীনের এই নির্যাতন দেখে উইঘুর যুবক ভাইগন বসে থাকে নি বরং তারা প্রতিবাদী ও বিদ্রোহ হয়ে ওঠেছে। কিন্তুু চীনা সরকার ১০ লাখ উইঘুরকে বন্দি শিবিরে বন্দি করে রেখেছে ও বলতেছে তাদেরকে সেখানে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তা কখনো না বরং ঐখানে যে নির্যাতন আর স্টীমরুলার চালানো হচ্ছে তা তারাই বলতে পারবে। সেখানে কোনো সাংবাদিককে প্রবেশে করতে দেওয়া হয় না। যারা প্রাণে কোনো মতে বেচে আসতে পেরেছে তারাই এর বর্ণনা দিতে পেরেছে।
আজ মুসলিম শাসকগন কুফফারদের কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় তোমাদের উপর চালানো নির্যাতনের ঘটনাকে অস্বীকৃত জানিয়েছে!!! আজ মুসলিম বিশ্ব ভুলে গেছে
যে প্রিয় নবী (স) বলেছেনঃ পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের কোন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত হলে শরিরের একটা অঙ্গে আঘাত লাগলে যেমন সারা শরির ব্যাথা পায় তেমন সারা পৃথিবীর মুসলিমদেরও ব্যাথা পাওয়া উচিত, আর এটাই হল মুসলিম উম্মাহ।
অবশেষে তোমাদের শান্তনা দিয়ে বলি, আর একটু অপেক্ষা কর আর একটুখানি। পৃথিবীর কেনো দেশ বা জাতি তোমাদের উদ্ধার করবে না ইমাম মাহদীর সৈনিকগন তোমাদের উদ্ধার করবে ইনশাআল্লাহ। তোমরা আর কিছুক্ষন ধৈয্যধারন কর, নিশ্চয় কষ্টের পরই শান্তি। তোমাদেরকে চির শান্তি ও আযাদ করবে ও সোনালী অতিতের দিনগুলো ফিরিয়ে দিবে ইমাম মাহদী ও তার দল ইনশাআল্লাহ।
আসাদুল্লাহ (বাংলাদেশ)

Comments
Post a Comment