Skip to main content

নির্যাতিত মুসলিম উইঘুরদে প্রতি আমার চিঠি



নির্যাতিত মুসলিম উইঘুরদে প্রতি আমার চিনঠি

আসসালামু আলাইকুম। হে আমার নির্যাতিত মুসলিম উইঘুর জাতি, এই মুহুর্তে তোমাদের প্রতি দোয়া আর শান্তনা ছাড়া কি বিসর্জন দিতে পারি?  বর্তমানের দাজ্জালীয়াতের ফেতনা আর সূচনা লগ্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পৃথিবীতে তোমরাই সেই জাতি যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। তোমরা হয়ত ভাবতেছ তোমাদের ব্যাথায় আমরাও কেন ব্যথিত হলাম না? তোমরা বিশ্বাস কর, আগুন তোমাদের দেহে কিন্তুু এর উত্তাপ এখন থেকেও পাচ্ছি,ব্যথাময় হৃদয় তোমাদের কাছে কিন্তুু বিষন্নতায় ভোগছি এখন থেকে, আঘাত তোমাদের প্রতিটি অঙ্গে কিন্তুু ব্যথা যে আমরাও পাচ্ছি,প্রিয় সুন্নত দাঁড়ি কাঁটা হচ্ছে তোমাদের কিন্তুু আমাদের কলিজায় যে আঘাত লাগতেছে, রোজা ভাঙ্গানো হচ্ছে তোমাদের কিন্তুু আমরাও যে আফসোস করতেছি,নামাজ পড়তে দেওয়া হচ্ছে না তোমাদের কিন্তুু আহ ধ্বনি যে আমাদের মুখেও।



হে আমার নির্যাতিত মুসলিম উইঘুর জাতি! তোমাদের পূর্বের সোনালী ইতিহাস আমার জানা আছে তাই তো আজ তোমাদেে ব্যথার অংশীদার।
পূর্বে তোমরা ছিলে উইঘুরিস্থান নামে পরিচিত ও স্বাধীন দেশ ও জাতি। কিন্তুু বড়ই আফসোস আজ তোমাদেরকে করে দেওয়া হলো " জিংজিয়ান " নামে পরিচিত এক রাষ্ট্র!!! জিংজিয়ান মানে নতুন প্রদেশ। তারপর এখান থেকেই চীনা কমিউনিষ্ট সরকার শুরু করে তাদের খেলা। নতুন প্রদেশ সুতরাং নতুন-নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা লাগবে। তারপর আস্তে-আস্তে আঘাত আনে ধর্মের উপর। তারা মুচে দিতে চাই ধর্ম ও জাতি। মনে পড়ে যায় যায় মধ্যযুগে এক রাজাকে পরাজয় করার পর থেকে শুরু হয় সেখানে ইসলাম প্রচার ও অবশেষে উইঘুরিস্থানের মানুষ আস্তে-আস্তে ইসলামে প্রবেশ করে।


চীনা সরকার তোমাদের উপর এত অত্যাচার আর জুলুম কেন করতেছে?তোমাদের মধ্যে এরকম কি আছে যা তাদের লোভ সামলাতে পারতেছে না। হে আমার উইঘুর মুসলিম জাতি তোমাদের জিংজিয়ান প্রদেশ প্রায় ১৬ লক্ষ ৪৭ হাজার চরশত বর্গমাইল নিয়ে গঠিত যা আমার বাংলাদেশের প্রায় ১২ গুন বড়!!! তোমাদের এই জিংজিয়ান প্রদেশে খনিসম্পদে ভরপুর, তৈল, প্রাকৃতিক গ্যাস,খনিজ সম্পদে ভরপুর যা চীনের অন্য কোথাও নাই। আর এই লোভটাই তারা সামলাতে পারতেছে না যার ফলে চীনা সরকার ধর্মের উপর আঘাত আনে ও তোমাদের ধ্বংস করে দিয়ে এই সম্পদের মালিক হতে চাই। আর এটাই তাদের লক্ষ ও কাজ করে যাচ্ছে।


হে আমার উইঘুরিস্থানের মুসলিম জাতি!! বড়ই আশ্চার্য লাগে এই জন্য
বর্তমানে সারা বিশ্বের সংখ্যালঘু মুসলিম দেশগুলির মধ্যে তোমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, ফিলিস্তিন, মায়ানমার,চেসনিয়া, বসনিয়া,ইরাক,ইরাস,সোমালিয়া,কাশ্মির  বলেন সেখানকার মুসলিমগন এখনও আল্লাহ বলতে পারে, নামাজ পড়তে পারে, কোরআন পড়তে পারে কিন্তু উইঘুর মুসলিমরা মুখে আল্লাহ শব্দও উচ্চারন করতে পারে না, তারা নামাজ, রোজাসহ ইসলামদের কোন কিছুই পালন করতে পারেনা, এমনকি নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয়ও দিতে পারেনা, জাতিসঙ্ঘে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে মানবতা বিরোধী কাজের অভিযোগ উঠলে ৩৭টি দেশ জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে বলেছিল যে চিনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেটা মিথ্যা, এই ৩৭টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশ ছিল মুসলিম, তাদের সকলেই বলেছিল চিন সেখানকার মুসিলিমদের প্রতি কোন নির্যাতন করছে না বরং তাদের সহযোগিতা করছে এবং তাদের শিক্ষার ব্যাবস্থা করছে এবং চিন সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান করছে।

চীনের এই নির্যাতন দেখে উইঘুর যুবক ভাইগন বসে থাকে নি বরং তারা প্রতিবাদী ও বিদ্রোহ হয়ে ওঠেছে। কিন্তুু চীনা সরকার  ১০ লাখ উইঘুরকে বন্দি শিবিরে বন্দি করে রেখেছে ও বলতেছে তাদেরকে সেখানে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তা কখনো না বরং ঐখানে যে নির্যাতন আর স্টীমরুলার চালানো হচ্ছে তা তারাই বলতে পারবে। সেখানে কোনো সাংবাদিককে প্রবেশে করতে দেওয়া হয় না। যারা প্রাণে কোনো মতে বেচে আসতে পেরেছে তারাই এর বর্ণনা দিতে পেরেছে।




আজ মুসলিম শাসকগন কুফফারদের কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় তোমাদের উপর চালানো নির্যাতনের ঘটনাকে অস্বীকৃত জানিয়েছে!!! আজ মুসলিম বিশ্ব ভুলে গেছে
যে প্রিয় নবী (স) বলেছেনঃ পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের কোন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত হলে শরিরের একটা অঙ্গে আঘাত লাগলে যেমন সারা শরির ব্যাথা পায় তেমন সারা পৃথিবীর মুসলিমদেরও ব্যাথা পাওয়া উচিত, আর এটাই হল মুসলিম উম্মাহ।


অবশেষে তোমাদের শান্তনা দিয়ে বলি, আর একটু অপেক্ষা কর আর একটুখানি। পৃথিবীর কেনো দেশ বা জাতি তোমাদের উদ্ধার করবে না  ইমাম মাহদীর সৈনিকগন তোমাদের উদ্ধার করবে ইনশাআল্লাহ। তোমরা আর কিছুক্ষন ধৈয্যধারন কর, নিশ্চয় কষ্টের পরই শান্তি। তোমাদেরকে চির শান্তি ও আযাদ করবে ও সোনালী অতিতের দিনগুলো ফিরিয়ে দিবে ইমাম মাহদী ও তার দল ইনশাআল্লাহ।

আসাদুল্লাহ (বাংলাদেশ)


Comments

Popular posts from this blog

কাব্যঃ অপরিচিতা||কবিঃ আসাদুল্লাহ||একুশে বই মেলা ২০২৫ ইং||নরসিংদী,বাজার হাসনাবাদ,রায়পুরা,নরসিংদী||

কাব্যঃ অপরিচিতা কবিঃ আসাদুল্লহ                                কাব্যঃ অপরিচিতা                   কবিঃ আসাদুল্লাহ প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা ২০২৫ ইং কবি পরিচিতিঃ আসাদুল্লাহ এর জম্ম ১৫ ই মার্চ ২০০১ সালে ঐতিহ্যবাহী নরসিংদী জেলার বৃহত্তম রায়পুরার উপজেলার পূর্ব রায়পুরার চরাঞ্চলের চর মধুয়া ইউনিয়নের চর মধুয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে।আসাদুল্লাহ এর বাবার নাম হাজ্বী আঃ খালেক এবং মাতা মরহুম শিরিনা আক্তার।৬ ভাইয়ের মধ্যে আসাদুল্লাহ ৫ম,কোনো বোন নাই।বাড়ির সাথে ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্সের আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দি মাদ্রাসার(স্থাপিতঃ ১৯২১ সালে) উস্তাজুল উলামা সদর হুজুর(দা.বা) নানাজ্বীর একমাত্র  প্রিয় খাদেম ছিলেন,সদর হুজুর ১০৬ বছর বয়সে ৩১-১-২০২১ ইং ইন্তেকাল করেন। শিক্ষা জীবনঃ আসাদুল্লাহ ২০০৬ সালে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের বড়ই তলা গ্রামের নানাীর বাড়ি থেকে প্লে-তে ভর্তি হন "চরসুবুদ্ধি ফুলকুড়ি কিন্ডারগার্টেনে" ২০০৭ সালে নার্সারী পড়া শেষ করে জম্মভূমি চর মধুয়া ...

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ এবং আরজ আলীর সমীপে pdf বই ডাউনলোড করুন ও পড়ুন

"প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ" আরিফ আজাদ আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোন।আজ আপনাদের সাথে নিয়ে আসলাম আরিফ আজাদ ভাইয়ে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ বই দুটি এবং "আরজ আলীর সমীপে" বইটি। সারা বাংলার ভাইরাল বই "প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ " বই দুটি। যদি বইগুলো না পড়ে থাকুন এখনই ডাউনলোড করে পড়া শুরু করুন। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ: ডাউনলোড প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ : ডাউনলোড আরজ আলীর সমীপে: ডাউনলোড আপনার কোন বইটি দরকার?  তা কমেন্ট বক্সে লিখুন। ধন্যবাদ Asadullah News & Library

"একই রজনীতে দু'জন ব্যক্তি আল্লামা মামুনূল হক সাহেব ও শাইখের স্বপ্ন যিয়ারতে ধন্য"!!

"একই রজনীতে দু'জন ব্যক্তি আল্লামা মামুনূল হক সাহেব ও শাইখের স্বপ্ন যিয়ারতে ধন্য"!!  "একই রজনীতে দু'জন ব্যক্তি আল্লামা মামুনূল হক সাহেব ও শাইখের স্বপ্ন যিয়ারতে ধন্য"!! #Blog_post:91 (20-11-2020)4:00 pm #Blogger_Asadullah #Asadullah_News_&_Library আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ বহু মাস পর ভালো কিছু ও নেককার বান্দাদের স্বপ্ন যিয়ারতে ধন্য হয়।হে আমার প্রিয় মহাব্বতের দু'জন শাইখুল হাদিসকে আজ পবিত্র জুম্মা রজনীতে স্বপ্নে দেখতে পায়,আলহামদুলিল্লাহ শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনূল হক(দা.বা) সাহেব আমার বাসায় আসেন,সাহেবকে বসতে দেয় ও খাবার পরিবেশন করি সাথে তার খাদেমও ছিল।কিছু কথা বলি ও আমাকে কিছু নসিহত করেন। গত মাসে মামুনূল হক সাহেবে একটা লেকচার আপলোড দেয় আমার আইডিতে সেটা প্রায় ১০ হাজারের উপরে ভিউ যে হয়ে সেটাও বলেছিলাম।অবশেষে হযরত আমাদের বাড়ি থেকে বিদায় নেয়। আলহামদুলিল্লাহ, পরে স্বপ্নে দেখি আমাদের ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দির শাইখুল হাদিস যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে হাদিসের দরসের খেদমত করে যাচ্ছেন  এবং বর্তমানে তিনি এই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মোহতামীমের দায়িত্ব পালন...