গল্পঃ বিজয় দিবস উপলক্ষে
" স্বাধীনতার চেতনায় ডা: জয়া ও
স্বাধীনের প্রেম যুদ্ধ "
লেখক: আসাদুল্লাহ
স্বাধীন আর জয়া সেই শৈশব থেকে এক সাথে বড় হয়েছে, একে অপরের সুখে- দুঃখের অংশীদার হয়েছে। আজ তারা অনেক বড় হয়েছে, শুধু বড় হয়নি জীবনকে বহু দূর এগিয়ে নিয়েছে। স্বাধীন বয়সে জয়ার চেয়ে একদিনে বড়। এই সবুজ ঘেরা, মনোরম পরিবেশে, মেঘনার তীরে একসাথেই দুজনের নিকেতন।স্বাধীনের পরিবারে তার মা, বাব আর সেই।ঠিক জয়াদের পরিবারেও একই দশা।দুজনের মধ্যে প্রায় সময় সামান্য বিষয় নিয়া তর্ক- বিতর্ক, মারা -মারী, হাতা- হাতি ইত্যাদি লেগেই থাকে। আবার কিছুক্ষণ পরেই মিল কারন দুজন দুজনকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকতে পারে না। এতটাই একে অপরের আপনজন যেমন নদীর বন্ধু পানি, নদী যেমন পানি ছাড়া থাকতে পারে না ঠিক দুজনও একে অপরের মাধ্যে মিশে আছে। স্বাধীন দেখতে সুদর্শন বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। জয়াও যেন আকাশের ধবল পূর্ণিমারাতে চাঁদ।গ্রামের সকলে তাদেরকে খুব ভালোবাসে, ছোট-বড়,বৃদ্ধা, ইত্যাদি। এমন এক মনোমুগ্ধকর গ্রাম্য মেঘনার তীরে তাদের জম্ম যেন হাজার,কোটি বছর ধরে এই দুজনেরই অপেক্ষায় ছিল এই নদী ঘেরা মনোমুগ্ধকর গ্রামটি, নদীটি, পখিগুলো,বৃক্ষরাজিরা এবং এই পরিবেশ। কোটি বছরের অপেক্ষায় ছিল এই পরিবেশ শুধু তাদের জন্যই। হ্যাঁ, স্বাধীন যেমন জয়া থেকে বয়সে একদিন এগিয়ে স্কুল জীবন, কলেজ জীবনেও স্বাধীন এগিয়েই থাকত সব সময় সে ১ম আর জয়া ২য় হতো। এসব নিয়া যে তাদের মধ্যে কত তর্ক- বিতর্ক, মারা- মারি, অভিমান হয়েছে সেটা যেন এক ইতিহাস। আবার মিল আবার ঝগড়া এ যেন জীবন নয় এক হাসি- উল্লাসের জীবন, এ দুটি জীবন চাই যুগের পর যুগ অনন্তকাল বেঁচে থাকতে। তাদের মধ্যে যেন কখনো এ কথা প্রশ্নই আসে নি যে; মৃত্যু নামে কোনো এক ভয়ংকর শব্দ আছে। অবশ্যই দুজনেই আবার সাহিত্যেও এগিয়ে, সেই কলমে, সেই সাহিত্যে কোটি-কোটি শব্দ আছে কিন্তু একটি শব্দ নাই, সেই শব্দ তারা জানেনা, শিখেনি, সেই শব্দ নিয়ে কখনো ভাবেও নি, নেই শব্দ কখনো যেন কারো কাছে শুনেনি, সেই শব্দ তারা শুনতে,শিখতেও চাই না আর তা হলো " মৃত্যু" নামক শব্দটি। তাই তো দুজনের মধ্যে কখনো দুঃখ,হতাশা,নিরাশা, হাহাকার, ইত্যাদি আসে নি। এমন স্বাধীন জীবনে, উল্লাসে ভরপুর জীবনে কি মৃত্যুর কথা স্মরন করলে সেই আনন্দ মাখা জীবনের স্বাদ উপভোগ করতে পারবে।।।
আজ এমন একটি দিনের মধ্যে তারা উপনিত হয়েছে যে দিনটির জন্য দুজনই অপেক্ষায় ছিল একযুগ ধরে, ১২ বছর অধ্যায়ন করেছে শুধু এইদিনটি পাবার জন্য, এই দিনে আনন্দে পড়ন্ত বিবেলে মেঘনা নদীতে নৌকায় বেসে, স্রোতে চলে যাবে দূর বহুদূর। আজ সেই দিনটি তারা পেয়েছে, পেয়েছে অনেক সাধনার পর, অনেক পরিশ্রমের পর। আজ দুজনে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সুখী।যেন তাদের পরিবেশটের প্রত্যেকটি উপাদানগুলোও আনন্দের মেলায় মেটে ওঠেছে। আজ দুজনে একে অপরের হৃদয় গহিনে চলে যেতে চাই এবং কানে ফিস - ফিস করে বলতে চাই " এই তোর জন্যই তো, তোর মুখে হাসি দেখার জন্যই তো এই দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম বহু বছর"। আজ তারা এই চাঁদনী রাতে ঘুমাবে না, মেঘনার তীরে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার আলোতে একে অপরকে ভালো করে দেখবে আর গল্পে - গল্পে কাটিয়ে দিবে রাএি। তাদের মনের কথাগুলো ঐ চাঁদকে বলে দিবে, চাঁদ কোটি বছর ধরে বেঁচে আছে এবং থাকবে। হাজার বছর পরে যখন তাদের দুজনের মতো এরকম দুজন এই গ্রামে আসবে তাদেরকে চাঁদ বলে দিবে স্বাধীনের আর জয়ার এই গল্প।তাই চাঁদকে তারা বলতেছে যত ভালোসাবার গল্প। মেঘনা নদীটিও শান্ত মনে চুপ করে আছে,তার কলকল ধ্বনি বন্ধ করে দুয়েছে শুধু দুজনের গল্প শুনার জন্য। আজ এই চাঁদ উদিত হয়ছে কোটি বছর অপেক্ষা করার পর। এই চাঁদ অপেক্ষা ছিল এই রাতের আশায় দুজনের গল্প শুনার জন্য।
এই জয়া আজ রাতের খাবার খেয়ে নদীর পারের আম গাছের তলায় এসে পড়িস। তাকে নিয়ে গল্প করিব, সুখের উম্মদনা।জয়ার আর বুজতে বাকি রইল না।
হ্যঁ, তাদের দুজনের স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তাদের স্বপ্ন সাদা এপ্রোন পড়বে। আজ তারা দুজনেই মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। কখনো কল্পনা করেনি যে : দুজনেই ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়ে যাবে। এই আজকের দিনের আজকের রাতের অপেক্ষায় ছিল প্রায় এক যুগ ধরে। আজ সেই মহাক্ষন, মহা উল্লাসের দিন।সেই স্কুল জীবন থেকেই সাদা এপ্রোন বানিয়ে রেখেছে। সে দিনের অপেক্ষায় যখন তারা একই সাথে মেডিকেলে যাব। এবং এই সাদা এপ্রোন একে অপরকে পড়িয়ে দিবে।
জয়ার আর বুজতে বাকি রইল না, রাতের খাবার খেয়ে চলে আসল। জয়ার হাতেও ছিল সেই এপ্রোন। আজ সেই রাএি যে রাএির অপেক্ষায় তারা ছিল এবং একজন আরেক জনকে এপ্রোনন উপহার দিবে। স্বাধীনেরটা জয়াকে, জয়ারটা স্বাধীনকে উপহার দিল। তারপর সারা রাএি দুজন দুজনের আড্ডা চলতে থাকে।
আজ সকাল বেলা স্বাধীনের মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। কখনো তাকে এরকম চিন্তিত থাকতে দেখে নি জয়া। তার মনের মধ্যে কেউ যেন তাকে আঘাত দিয়েছে এবং সেই আঘাতে যেন সে অন্য রকম হয়ে গেল।জয়া স্বাধীনকে বলল;" ওহে ডাক্তার সাহেব! আমার কথা শুনতে পারছেন তো, এরকম হয়ে মরার মতো বসে আছেন কেন? আগামীকাল থেকে মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হবে, ১ম দিনে যাওয়ার সময় আমাকে না বলেছিলে কি যেন উপহার দিবে নূপুর নাকি কি?
স্বাধীন উওর দিল ; জয়া রে, আজ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে রেডিও খবরে বলে দিল। দেশের করুন, ভয়াবহ অবস্থা। চারিদিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পাকিস্তানিরা যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখানেই হত্যা করতেছে। এদিকে স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। সবাই মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছে। আমার এই মাতৃভূমিকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে স্বাধীন করাে জন্য।ঐ যে দেখ নদীর এপারে হানাদারদের স্টিমার ভিড়তেছে। এগুলো কি বলতেছত স্বাধীন? হ্যাঁ, সত্যি বলতেছি। আর শুন বাড়ি থেকে একদম বের হবি না। তারা মা- বোনদেরকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করে ফেলে। বললাম একদম বাড়ি থেকে বের হবি না। আর নদীতে গোসল করা আজ থেকে নিষেদ। বাড়িতে গোসল করিস। আর এখন থেকে তোর থাকে আর বেশি দেখা হবে না। কোনো প্রয়োজন লাগলে মিন্টু কে দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে দিন? যা বলার চিঠিতে বলিস, আমি উওর দিয়ে দিমু নে। আমাকেও বাড়িতে বেশি একটা দেখতে পারবি না। গ্রামরর লোকেরা, মুরুব্বিরা যেভাবে চলে সেভাবে চলতে হবে। সকলেই যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়ে গেছে। যা জয়া এখন বাড়িতে চলে যা। আর শুন বাড়ি থেকে বের হবি না।
জয়াকে এটা কি শুনাল? জয়া সারাদিন বাড়িতে বসে থাকে। আর চারিদিকে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। নদী দিয়ে প্রতিদিন হানাদারদের স্টিমার যাই।জায়া কখনো এরকমভাবে কাটাই নি যেভাবে আজ সে একাকীত্ব হয়ে আছে।যে স্বাধীনকে ছাড়া একটা মূহুর্তও থাকতে পারত না আজ প্রায় ১মাস হয়ে গেছে অথচ স্বাধীনের দেখা নাই,তার সাথে নাই।
অবশেষে জয়া বাধ্য হয়ে চিঠি লিখল এবং তা পাঠিয়ে দিল। এদিকে দেশের অবস্থা খুবই ভয়াবহ।স্বাধীন চিঠি পেয়ে উওর পাঠিয়ে দিল। তারা আগামীকাল রাত ৮ টার দিকে দেখা করবে। তবে এবার আর সেই শৈশবের প্রিয় জায়গা নদীর তীরের আম গাছের নিচে না। জয়াদের নিমবাগানে দেখা করবে। কারন নদীর তীরে দেখা করা নিরাপদজনক নয়। অন্ধকার রাত, ঐ দিকে গুলাগুলির শব্দ শুনা যাচ্চে। গ্রামের কুকুর আর শিয়ারগুলো ডাকছে। জয়া যা বলার দ্রুত বল, হাতে বেশি সময় নাই। ঐ দিকে মুক্তি যুদ্ধদের জন্য রাতের খাবার নিয়ে যেতে হবে। স্বাধীন তুমি কেমন আছ? তোমাকে ১মাস ধরে দেখি না? আমার কথা কি মনে পড়ে না তোমার? এসব প্রশ্নের উওর দেওয়ার সময় এখন কি আছে? তারা কিছুক্ষন কথা- বার্তা বলল।এদিকে হাবিব এসে স্বাধীনকে ডাকতেছে খাবার নিয়ে এখনই চলে যেতে হবে। মুক্তি যুদ্ধরা আজ পাশের গ্রামের প্রাইমারী স্কুলটা উড়িয়ে দিবে। তাতে হানাদাররা ক্যাম্প তৈরি করেছে। স্বাধীন জয়ার কাছ থেকে বিদায় নিল।এই শোন, আবার কবে তোমার সাথে দেখা হবে? বলতে পারি না, যখন ভালো লাগবে না তখন চিঠি পাঠিও দেখা করতে আসব নে।
এভাবে চলে গেল প্রায় ৮ টি মাস। আজ রাতে শহীদ হয়ে গেল স্বাধীনের বাবা। যুদ্ধের পূর্ব মুহুর্কেও স্বাধীনকে বলে গিয়ে ছিল, বাবা রে! তোর উপর আমার বিশ্বাস আছে, তুই কখনো দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবি না। জীবন দিয়ে হলেও এই দেশটাকে স্বাধীন করবি।স্বাধীন তার বাবার কথা রাখল।এর কিছু দিন পর জয়ার বাবাও মুক্তি যুদ্ধে শহিদ হয়ে গেল।
স্বাধীনের কাছে কেমন যেন লাগতেছে, কত বছর অপেক্ষা করেছে শুধু একটি কথা বলা জন্য যে; জয়া খুব বেশি ভালোবাসে, এমন কি জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। না আর পারতেছে না এবার বলেই দিবে যে; জয়া তোকেই ভালোবাসি, সারা জনম আমার পাশে যেভাবে থেকেছিস এবং সারা জীবন আমার সাথে থাকবি।স্বাধীন জয়াকে চিঠি লিখল।তারা আজ রাতে নদীর তীরে দেখি করবে। জয়াকে বলবে কি করে সে সাহসটা তার নাই। প্রশ্ন করার আগেই জয়া বলে ফেলল এই স্বাধীনতার জন্য লাখো মানুষের প্রাণ দিতে হয়য়েছে এমন কি দুজনের বাবারও। তোমার সাথে এখন কোনো কথাই হবে না, যা বলার এবং যা করার দেশ স্বাধীন করে বলবে। আগে দেশ থেকে শক্রদেরকে বিতাড়িত কর। আমার মনেও হাজার হাজার কথা জমে আছে সেগুলো তো তোমার সাথে তখনই বলব যখন দেশটা স্বাধীন হবে।তারা আজকের মতো বিদায় নিল।
প্রায় ৯ মাস হয়ে গেল মুক্তি যুদ্ধের। আজ সকাল ১০ টার দিকে নদীর ও পাড় থেকে এক মুক্তি যুদ্ধা ডাকতেছে এ পাড়ে আসার জন্য। স্বাধীন নৌকাটা নিয়ে রওনা দিল তাকে আনার জন্য।জয়া নিমবাগানে বসে আছে আর স্বাধীনের দিকে তাকিয়ে আছে। আহ! হঠাৎ নদীর বহুদূর থেকে হানাদারদের গুলি এসে আঘাত করল স্বাধীনের বুকে। সে রক্তাক্ত অবস্থায় নৌকায় পড়ে গেল।জয়া দ্রুত নৌকা নিয়ে চলতে লাগল। স্বাধীনকে ঝড়িয়ে ধরল।এদিকে জয়ধ্বনি করতে লাগল " জয় বাংলা " বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেল।রেডিওর মাধ্যে প্রচার হয়ে গেল।সেদিন স্বাধীন জয়ার দেওয়া এপ্রোনটা পড়েছিল।সাদা এপ্রোন দেহের তাজা লাল রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল।এদিকে নদীর তীরের প্রাইমারী স্কুলের সকল ছাএ- ছাএী পতাকা উওোলিত করল।বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলিরা এ দৃশ্যটা তাকিয়ে দেখেছে। প্রিয় শিক্ষকরা স্বাধীনকে অনেক ভালোবাসত।বিদ্যালয়ের এবং গ্রামের গর্ব সে। স্বাধীন পড়ে রইল জয়ার বুকে। জয়া আমি আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী। কারন আমি তোমার বুকে মাথা রেখে মরতে পারব। তোমার দেওয়া এপ্রোন পড়েছি,। জয়া,আমার আর আক্ষেপ নাই, কারন আমি স্বাধীনতাে জয়ধ্বনি শুনতে পেরেছি। জয়া তুমি তাকিয়ে দেখ ঐ যে বিদ্যালয়ের লাল সবুজের পতাকাটা বাংলার মুক্ত আকাশে চপল বাতাসে আপন মনে উড়তেছে। জয়া,তোমার কি মনেনে পড়ে সেই বিদ্যালয়ের শৈশবের স্মাতি।আমাকে আর তোমাকে দিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হতো এবং স্যারেরা পতাকা আস্তে আস্তে উড্ডয়ন করত।আজ সেই কথাগুলো মননে পড়তেছে বার বার।আমরা দুজনে পতাকাকে হাত উঠিয়ে সালাম করে জাতীয় সংগীত গাইতাম। জয়া ঐ স্মাতিগুলো কোটি কোটি বছর বেঁচে থাকবে এই স্বাধীন বাংলায়।গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নদীর তীরে দাড়িয়ে আছে আর চোখের জল ফেলতেছে। জয়া, আমি সেদিন তোমাকে একটা কথা বলার জন্য চেয়েছিলাম কিন্তু বলতে পারি নি,তুমি বলেছিলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বলতে। আজ সে কথাটা বলব; জয়া আমি তোমাকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি। তুমি শুধু আমার জয়।জয়া তুমি শুন; আমার নাম স্বাধীন আজ জীবন দিয়ে এই বাংলাকে স্বাধীনতা করেছি।আর তোমার নাম জয়া তোমার ভালোবাসার চেতনায় জয় ছিনিয়ে এনেছি। ওগো ভালোবাসার জয়া,তোমাকে এনে দিলাম জয়।জয়া একটু হাস, তোমার হাসিটা দেখার জন্য এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। জয়া তুমি শুন, যখন মনটা খারাপ লাগিবে আমার কবরের পাশে গিয়ে বসে কথা বলিব, তোমার কথার জবাব দিব। তুমি কি জান না যে; শহিদেরা অমর হয়ে থাকে। জয়া এই নদীর ধারের আমগাছটির নিচে বলিও আমার কবর দিতে। স্বাধীন তুমি চলে গেলে আমি বেঁচে থাকব কি করে? আমি তোমাকে ছাড়া এক মূহুর্তও থাকতে পারব না। আমি তোমাকেই ভালোবাসি। জয়া তোমার সব কথা পূরণ করতে পেরেছি কিন্তু মেডিকেল কলেজে তোমার সাথে একসাথে বসে আর ক্লাস করতে পারলাম না। নিয়মিত ক্লাস করিও, বড় ডাক্তার হয়ে আমার স্বাধীন দেশের মানুষের সেবা করিও। জয়া তোমার পা দুটো দাও, এপ্রোন থেকে নূপুর দুটি খোলে জয়ার পায়ে লাগিয়ে দিল।স্বাধীনের হার্টবিট আর চলতেছে না। জয়াকেকে বলল: আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। এই স্বাধীন বাংলার আকাশ,বাতাস, এই মেঘনা নদী সাক্ষী শুধু তোমার ভালোবাসায় স্বাধীনতার চেতনায় আমি জীবন দিয়েছি। অবশেষে স্বাধীনের দুচোখ বন্ধ হয়ে গেল, সে আর কথা বলে না। জয়া এক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।স্বাধীনের কথা মতো তাকে নদীর পারের আম গাছের নিচে কবর দেওয়া হলো। ৭ দিন পর জয়ার জ্ঞান ফিরল।প্রতিদিন কবরে স্নন্ধা প্রদীপ জ্বেলে চোখের অশ্রু ফেলিয়ে জয়া দিন অতিবাহিত করে।জয়া বড় ডাক্তার হলো এবং দেশের গ্রামের মানুষের সেবা করতে লাগল।জয়া আর বিয়ের পিরিতে বসল না, কারনরন সে তো শুধু স্বাধীনকেই ভালো বাসত।
এসব কথা গুলো জয়া নদীর তীরের আম গাছটির নিচে স্বাধীনের কবরের পাশে বসে ভাবতেছে।আজ জয়ার বয়স প্রায় ১২০ বছর আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূরণ হলো। ঠিক এমন ১০০ বছর আগের ১৬ ই ডিসেম্বরের সকাল ১০ টার দিকে চির দিনের মতো জয়ার কাছ থেকে স্বাধীন বিদায় নিয়েছিল।আজকের এমন দিনে এমন সময়ে ঠিক ১০০বছর পূর্বের ঘটনাগুলো ডা: জয়া বলতে শুরু করল।আর হাজার হাজার বড় বড় facebook এর গ্রুপে জয়ার সাক্ষাৎকার একসাথে প্রচার করারা হচ্ছে, দেশের প্রতিটি টেলিভিশে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সাক্ষাতকার নিচ্ছেন। সেই সাথে হাজার হাজার youtube চ্যানেলেও।
আজ বাংলাদেশের ১০০ তম বিজয় দিবসে ডা: জয়াকে নিয়ে আনন্দের সাথে, উল্লাসে, ঝাক- জমজ করে ১০০ তম বিজয় দিবস ১৬ ই ডিসেম্বর পালন করা হলো।
ডা: জয়ার মনের ব্যথাগুলো যদি কেউ দেখতে পারত? ডা: জয়া স্বাধীনের নামে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল,স্কুল, মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণ করেছেন। মেঘনা নদীর তীরে আম গাছের নিচে খুবই মনোমুগ্ধকর একটি স্বাধীনতা ফলক নির্মাণ করেছেন যা দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভীড় জমায়।প্রতি বছরের ১৬ ই ডিসেম্বর গ্রামের সকলকে দাওয়াত করা হয় এবং নদীর তীরে অনুষ্ঠান করা হয়।
ডা: জয়া কিছু দিন পর মারা গেল, এবং তার কথা মতো তাকে নদীর তীরের আম গাছটির নিচে তার চির প্রেমিক স্বাধীনের কবরের পাশেই কবর দেওয়া হয়।তারা দুজনে এই পৃথিবী ছেড়ে এক নতুন পৃথিবীতে পাড়ি জমাল, যেখানে আর কোনো মৃত্যু নাই।।। ( সমাপ্ত?)
=================================
উৎসর্গ করিলাম: (সেইসব প্রেমিক- প্রেমিকাদেরকে যারা প্রেমকে বিসর্জন দিয়ে মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছে এবং আমার fb বন্ধু পাকিস্তানের Dr.Asadullah Yousafjy কে)।
তাং:১৬-১২-২০১৮:ইং
সময়: সন্ধা ৬ টায় শেষ হলো

Comments
Post a Comment