Skip to main content

উস্তাজুল ওলামা মাওঃ তৈয়্যবুুর রহমান ছদর হুজুর(দা.বা) এর জীবনী


ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্স

আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দি

"উস্তাজুল ওলামা মাওঃ তৈয়্যবুুর রহমান ছদর হুজুর(র)"

ইহা এমন এক আমানতদারী যে আমানতের খেয়ানত করিলে পরপারে জবাবদিহি করতে হবে। ইহা সেই দ্বীনের প্রদ্বীপ যাহা অর্জন করার জন্য বাড়ি-ঘর,মা-বাবা,সুখ ইত্যাদিকে বিসর্জন দিয়ে জীবনের একটা অংশ কঠোর মেহনত, পরিশ্রম করিতে হয়। এই প্রদ্বীপ এমন এক প্রদ্বীপ যার আলোতে ব্যক্তির জীবন শুধু আলোকিত হয় না বরং সারা পৃথিবী আলোকিত হইয়া যায় এমন কি প্রভুর আরশে ঐ প্রদ্বীপদারী ব্যক্তিকে নিয়া মহান আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাদের সামনে প্রদ্বীপদারী ব্যক্তির আলোচনা করে। যার ফলে ফেরেস্তাগন ও মানবকুলের কাছে ঐ দ্বীনের প্রদ্বীপ ধারনকারী ব্যক্তির মর্যাদা বহু গুন বেড়ে যায়। তার সম্মান,ইজ্জত,মর্যাদা ও মহাব্বত সকলে দিতে জানে ও সকলে তাকে ভালোবাসে।
এত গুন অর্জন করার জন্যই শর্ত হলো আমানতের খেয়ানত না করা সেই আমানতের সঠিক পাবন্দী করা। আর এই দ্বীনের আমানত ১৪০০ বছর পূর্বে মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম দিয়েছিলেন মানবকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবি হজরত মুহাম্মদ(স) কে। অথচ তাকে এই আমানত দেওয়ার পূর্বে আল্লাহ তায়ালা এই আমানত দিতে চেয়েছিলেন আকাশ,মাটি, পাহাড়-পর্বত,সাগর,জীব-জন্তুকে পৃথিবীর প্রতিটি উপাদানকে কিন্তুু তাহারা কেহ সেই আমানত নিতে রাজি হয় নি কারন এই আমানত এমন এক আমানত যার খেয়ানত করিলে এর পরিনতি হবে ভয়াবহ!!!

হ্যাঁ, এটা সেই আসমানী কিতাব পবিত্র আল-কোরআনের আমানত। এই আমানতই সর্বপ্রথম অর্পিত করা হয় সর্বশেষ নবি ও আখেরী নবি হযরত মুহাম্মদ(স) কে, তারপর এই আমানতের সাথে আরেকটি আমানত যুক্ত হয়ে যায় আর সেটা হলো হাদিস। পবিত্র আল কোরআন ও হাদিস এই দুটো আমানতকে যুগের পর যুগ একে অপরের কাছে আমানত দিয়ে গেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা নবীর কাছে, নবী সাহাবীদের কাছে, সাহাবী তাবেয়ীদের কাছে,তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীদের কাছে, সর্বশেষ তাবে তাবেয়ীরা উলামাদের কাছে। আর এই উলামারা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এই কোরআন-হাদিসের আমানত রক্ষা করবে ও এর প্রদ্বীপ পৃথিবীর মানবকুলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে পৃথিবী ও মানব জীবনকে আলোকিত করিবে ইনশাআল্লাহ।


     ছবিঃ (ছদর হুজুরের বড় ছেলে মাওঃ নাসিম)

হ্যাঁ, বলতেছিলাম আমাদের সকলের চোখের মনি,মহাব্বত ও ভালোবাসার ব্যক্তি উস্তাজুল উলামা হযরত মাওলানা ছদর হুজুর তৈয়্যবুর রহমান ফরিদপুর হুজুরের কথা। আল্লাহর রহমতে তিনি পেয়েছেন এক দীর্ঘ নেক হায়াত জিন্দেগি যাহা আমল, আখলাক আর কুরআন ও হাদিস দ্বারা আলোকিতময় নেক হায়াত জিন্দেগী। যার প্রতি আল্লাহ তায়ালা রাজি-খুশি ও তিনিও মহান আল্লাহর উপর রাজি-খুশি।তার এই শতবর্ষ জিন্দিগীর সূচনা লগ্নের একটা সময় পাড়ি দিতে হয়েছে এলমের সাগর, যে সাগরে পাড়ি দিতে গিয়ে ত্যাগ ও বিসর্জন দিতে হয়েছে মা-বাবা,বাড়ি-ঘর, আনন্দ-উল্লাসক ইত্যাদিকে। ঐ এলমের সাগরে তাকে পাড়ি দিতে গিয়ে দিন-রাত কঠোর মেহনত ও অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। রাতের সুখের ঘুমকে হারাম করতে হয়েছে, পেটের ক্ষুদাকে মিটাতে হয়েছে বডিং এর সাধারন ডাল-ভাত খেয়ে। দুঃখগুলোকে একাই সহ্য করতে হয়েছে, ভাগা-ভাগি করতে পারে নি কারো সাথে।
এই এলম সাগর থেকে দ্বীনের এলম হাসিল করার জন্য পাড়ি দিতে হয়েছে বহু পথ-প্রান্তর, দেশ-দেশান্তর। নিজেকে কোরবান ও সপে দিয়েছে আল্লাহর রাস্তায় যার হাতে তার প্রাণ ও যিনি পরম করুরাময়, যিনি ইজ্জতের মালিক ও সম্মানিত করার মালিক। সাত ভাই-বোনদের মধ্যে তিনিই সর্ব কনিষ্ঠ ছিলেন ও মা-বাবার আদরের ছিলেন। দ্বীনী এলম হাসিল করা কারো ভাগ্যে জুটে নি শুধু তিনিই এলম হাসিল করতে পেরেছেন। এই এলম হাসিল করার সময় তাকে সহ্য করতে হয়েছে এমন সব দুঃখ-কষ্ট যা সহ্য করার মতো ছিল না! আর সহ্য করেছে বলেই আজ তার এত সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা। তলেবুল এলম ছাত্র অবস্থায় যখন যিনি মাদ্রাসায় পড়েন তখন একবার বাড়ি থেকে চিঠি আসে কিন্তুু সময় মতো চিঠি হাতে পেয়েও পেল না!  তখন তার পরীক্ষা চলতেছিল যদি এই চিঠি তাকে দেয় তাহলে পরীক্ষা দিতে পারবে না, আলেম হতে পারবে না হয়ত তখন লালবাগ মাদ্রসায় দাওরায়ে হাদিসে পড়েন। পরীক্ষা শেষ হলো তারপর উস্তাদজ্বীরা তাতে ডেকে নিয়ে বলে যে, তৈয়্যবুর রহমান তোমার বাড়ি থেকে  চিঠি এসেছিল এই নাও পড়। নানা হুজুরের এই একশত বছরের জিন্দেগীতে যদি কোনো বড় ধরনের দুঃখের ও হাহাকারের দিন থেকে থাকে তাহলে সেদিনের সেই দিনটাই ছিল। আহ এত দুঃখ কিভাবে সহ্য করবে, আর কারার মতো হলেই তো করত! কিন্তুু সহ্য করেছে বলেই আজ উচ্চ শিখরে আরোহন করিতে পেরেছে।
হুজুর চিঠি খোলে দেখে যে তাতে লেখা;  " তৈয়্যবুর রহমান তুমি অতি দ্রুত বাড়িতে আস তোমার বাবা ইন্তেকাল করেছেন। " হৃদপিন্ড তার হৃদস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দিল, দেহের শিরা-নালিগুলোতে দ্রুত বেগে গরম রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল,শরীলটে কাঁপুনি দিয়ে উঠিল, অন্তরটা নাড়া দিয়ে বেদনাকাতর হয়ে গেল,দু'চোখে লোনা জলের স্রোত বয়তে লাগল আর মনে পড়ে গেল বাবার যত স্মৃতি-বিস্মৃতিগুলো। হুজুর আপনারা চিঠি আমাকে আগে দেন নি কেন? চিঠি দিলে পরীক্ষা দেওয়াত হতো না, ফেল করিত তাই দেন নি। উস্তাদজ্বিরা যা করেন ভালোর জন্যই। নানা হুজুর বাড়িতে গেল,গ্রামে প্রবেশ করার সময় পথের মধ্যে যাদের সাথে দেখা হচ্ছিল তারা সকলের একই কথা তৈয়্যবুর রহমান তুমি এতদিন পরে আসলে? তোমার বাবা ইন্তেকাল করেছে.....


ছাত্র অবস্থায় এরকম দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছে বলেই আজ এত মর্যাদা ও সম্মানের পাত্র।তারপর এলো আমানতের সেই বিষয়টা। লালবাগ মাদ্রসা থেকে আলেম হয়েছেন। তারপর নানা হুজুরের উস্তাদজ্বী আল্লামা মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (র) তাকে একটা চিঠি দিয়ে পাঠিয়ে দেন এই মনোমুগ্ধকর সবুজ-শ্যামল অপরূপ লীলাভূমি ও গ্রাম্য প্রাকৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্সে। আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (র) চিঠিতে লিখেছিলেন যে ;" আমি মাওলানা তৈয়্যবুর রহমানকে আপনাদের এখানে শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দিলাম আপনারা তাকে গ্রহন করুন। " এই যে ঘটনা এটা আজ থেকে ৬৪ বছর পূর্বের ঘটনা। আর এই দীর্ঘ ৬৪ টি বছর নানা হুজুর এইখানে থেকেছেন। কারন তার উস্তাদ তাকে আমানত হিসেবে পাঠিয়েছেন ও তিনি সেই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। তার উস্তাদ পৃথিবীতে নাই কিন্তুু তিনি আল্লাহর রহমতে এখনও আছেন এই আমানতের দায়িত্ববার নিয়ে।

প্রথম দিকে প্রতিমাসে ৪৩ টাকা বেতন বাতা পেতেন!!! তারপর কয়েক বছর পর নানা হুজুরকে মোহতামীমের দায়িত্ব অর্পিত করা হয় ও সেই মোহতামীমের দায়িত্ব তিনি টানা দীর্ঘ ১৮ বছর পালন করেছেন!!! নানা হুজুর বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্স এ দীর্ঘ প্রায় ৬৪ বছর যাবৎ শিক্ষকতা করে  আসতেছেন ও আল্লাহর রহমতে ও করুনায় এখনও শিক্ষক ও উস্তাজুল আসাতাজায়ে, উস্তাজুল উলামা হিসেবে আছেন। আমি নানা হুজুরের খেদমকে প্রায় ১০ বছর যাবৎ আছি ও নানা হুজুরের শেষ জীবনে সকল সুখ-দুঃখের ও খেদমতের অংশীদার হিসোবে আছি ইনশাআল্লাহ। একদিন বললাম যে হুজুর আপনার স্বাথ্য অনেক সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যায় সুতরাং শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেও তো পারেন। বললেন এটা একটা আমানত তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রক্ষা করতে হবে ও নানা হুজুর চাই শিক্ষক অবস্থায় ঐপাড়ে যেন পাড়ি জমায়।
এই আমানত রক্ষা করার জন্য তিনি ত্যাগ করেছেন তার জম্মভূমি, আত্মীয়-স্বজন, সহায়, সম্পত্তি ইত্যাদি।

নানা হুজুরকে নিয়ে আমার স্বপ্নে যিয়ারতঃ

                 (ছবি: আমি ও নানা হুজুর)
নানা হুজুরের খুব কাছের ও অন্তরের মহাব্বতের একজন হয়ে গেছি । একদিন বলি যে, হুজুর আমি আপনাকে প্রায় ১০০ বারের চেয়ে বেশি আপনার স্বপ্ন জিয়ারত লাখে ধন্য হয়েছি ও প্রতিটি স্বপ্নের কথা আপনাকে শুনিয়াছি ও আপনি সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। হুজুর বলল যে, "তুমি আমার অন্তরের খুব কাছা-কাছি আছ ও অন্তরের একজন।"  কয়েকমাস পূর্ব একদিন স্বপ্নে দেখলাম যে ; " নানা হুজুর জামিয়ায় প্রবেশ করতেছেন দুইহাতে দুটো বড় গাভী গরু নিয়ে সেই সাথে হুজুরের পিছনে পিছনে আসতেছিল দুটো বড় ধরনের সাপ। " 
স্বপ্নের ব্যাখ্যাটা নানা হুজুরকে জিজ্ঞাসা করতে পারি নি তাছাড়া নানা অসুস্থ। আমার মনে হয় এটার ব্যাখ্যা এমন হবে যে, নানা হুজুর এই কমপ্লেক্স এ এমন এলম নিয়ে প্রবেশ করেছেন যার দ্বারা সকলে উপকৃত হবে তাছাড়া গাভী গরু মানুষের উপকারই করে দুধ নিয়ে। আর পিছনের দুটো সাপ হয়ত নানা হুজুরের দু'কাঁধের দু'জন ফেরেস্তা কারন এই দুজন ফেরেস্তা সকলের সাথেই থাকে। 
কয়েক বছর পূর্বে স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, আমি আর নানা হুজুর কমপ্লেক্স এর জোহরের নামাজ পরে বারান্দায় আসলাম ও নানা হুজুরকে বললাম যে, হুজুর মসজিদের পাশে মিনারের সাথে এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে দাওরায়ে হাদিসের জন্য। তখন হুজুরকে বললাম যে, হুজুর আমাদের দুজনের অনেক বয়স হয়েছে আমার চারশত বছর ও নানা হুজুরের চারশত বিশ বছর। আলহামদুলিল্লাহ, এর চারমাস পরেই আমাদের প্রাণের প্রিয় কমপ্লেক্সে দাওরায়ে হাদিস শ্রেণি চালু হয়। নানা হুজুর দোয়া করতেন মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস যেন চালু হয় তার দোয়ার বরকতেই আমারা আজ পরিপূর্ণ একটা মাদ্রসা দেখতে পেরেছি।
আমার প্রতিটি স্বপ্ন দেখেই নানা হুজুরের কাছে গিয়ে এর স্বপ্নের  ব্যাখ্যা খুজতাম ও শিক্ষা গ্রহন করতাম। একদিন দেখি যে, আমি জোহরের নামাজ পড়ান জন্য কমপ্লেক্সের মসজিদে দ্রুত প্রবেশ করতেছি। নানা হুজুর তার রুম থেকে বের হলেন নামাজের জন্যই। পিছন দিক থেকে হুজুর আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, আসাদুল্লাহ তোমাকে আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তুমি নবির কোলে উলঙ্গ অবস্থায়। আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় পরে নানা হুজুরের কাছে স্বপ্নের কাহিনী বলি ও ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বলি। নানা হুজুর বললেন তুমি কি নবিজির উপর দূরদ পাঠ কর? হ্যাঁ, প্রতিদিন ৩০০-৫০০ বারের মতো পাঠ করি। পরে হুজুর বলেন যে, স্বপ্নে দ্বারা এটাই বুজা যাচ্ছে যে, তোমার ঈমান দূর্বল। কত সুন্দর ব্যাখ্যা।
আরেকদিন স্বপ্নে দেখি যে, আমি বালুয়াকান্দির কবরস্থানে প্রবেশ করি ও কবরস্থানের পশ্চিশ পাশের সকল কবরের মাইয়্যাতগন কবর থেকে ওঠে আমাকে বলতেছে যে আমাদের জন্য দোয়া কর। আমি ভয় পেয়ে গেলাম ও ভাবতে লাগলাম হয়ত পশ্চিশ পাশের কবরের লোকগুলো কবরে কোনো সমস্যায় আছে। নানা হুজুরের কাছে খোলে বললাম ও হুজুর এর ব্যাখ্যা দিলেন। পরে হুজুর বলল তুমি কবরবাসীর জন্য নিয়মিত দোয়া করতে কিন্তুু এখন হয়ত কর না আর।  আমি বললাম হ্যাঁ, হুজুর আমার প্রতিটি দোয়া্র একটা অংশ ছিল কবরবসীর জন্য। কিন্তুু একদিন নফনের ধোকায় পড়ে যায় ও বলি যে, তাদের জন্য দোয়া করলে আমার কি লাভ তাছাড়া এই কবরে তো আমার কোনো আপন জন নাই সুতরাং দোয়া কেন করব? হুজুর বলল যে, নিয়মিত তাদের জন্য দোয়া করতে থাক ও তোমারও উপকার আছে। যারা পৃথিবী থেকে কবরবাসীর জন্য দোয়া করে কবরবাসীরাও কবর থেকে ঐ ব্যক্তির জন্য দোয়া করে। 
আরেকদিন স্বপ্নে দেখি যে, নানা হুজুরের বাড়িতে দুটি গাছ মানে বৃক্ষ এত বড় হয়েছে যে ঐ বৃক্ষ দুটোর সোজা-সোজি আসমানে চলে গেছে এর কোনো শেষ নাই। অথচ বৃক্ষে গোড়ি নানা হুজুরের বাড়িতে। নানা হুজুরকে স্বপ্নের কাহিনী শুনালাম ও শোকরিয়া আদায় করতে লাগল। আর আমিও স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা ধারনা করছি তাই। বললাম, হুজুর আপনার জিকির কখনো বৃথা যায় নি। এর উত্তস প্রতিদান আল্লাহ দিবেন ইনশাআল্লাহ।
আমি নানা হুজুরের অন্তরের একজন হয়ে গেলাম, স্বপ্নে দেখি যে নানা হুজুর খুবই অসুস্থ হয়ে গেছেন পরে সকালে গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি নানা হুজুর অসুস্থ হয়ে গেছেন।নানা হুজুর অসুস্থ অথচ জামাতের সহিত নামাজ পড়তে চান। ফজরের সময় একলা যেতে কষ্ট হয়। তাই আমাকে বলল যে, আমি যেন ফজরের সময় নানা হুজুরকে মসজিদে নিয়ে যায়ে। আমাদের বাড়ি থেকে হুজুরের বাড়িতে যেতে কয়েক মিনিট লাগে তাছাড়া দুজনের মহল্লার মসজিদ একই। হুজুরকে গিয়ে ডেকে ঘুম থেকে ওঠাতাম ও অযু করিয়ে আমাদের জামতলার জামে মসজিদে নিয়ে আসতাম।

আল্লাহু আকবর, সুবহানআল্লাহ। নানা হুজুর কামিয়াব ও সফলকাম আর স্বপ্ন এটাই বলে ইনশাআল্লাহ। আমি একদিন স্বপ্নে দেখি নানা হুজুর পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। আমি বালুয়াকান্দি কবরস্থানে নানা হুজুরের কবর যিয়ারত করার জন্য গেলাম। কবরস্থানের মধ্যখানে চার রাস্তার মোড়ে যেখানে পশ্চিম পাশে কমপ্লেক্সের সাবেক সভাপতি আব্দুল রউফ সরকার সাহেবের কবর এর পূর্ব দিকেই নানা হুজুরের কবর। আমি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আছি তখন একজন মুসাফির আগুন্তুুক ব্যক্তি আমার কাছে এল। তিনি ছদর হুজুর সাহেবের কবর খুজতেছেন যিয়ারত করার জন্য। হুজুরের জীবন দশায় হুজুরের সাথে দেখা করতে পারে নি ও খেদমতে আসতে পারে নি। আমি দেখলাম যে, হুজুর ইন্তেকাল করেছেন দশ বছর হয়ে গেছে, এই দশ বছর পর  ঐ ব্যক্তি হুজুরের কবর যিয়ারত করতে এসেছে। আমাকে ঐ ব্যক্তি বলল, বড় হুজুরের কবরটা কোথায় আর তখন আমি হুজুরের কবরের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। ঐ বুড়ো ব্যক্তিকে আমি নানা হুজুরের কবরটা হাত দিয়ে দেখিয়ে বললাম এটা হুজুরের কবর। আল্লাহু আকবর, সুবহানআল্লাহ। কবরের ভিতর থেকে হুজুরের লাশটা উপরে ভেসে উঠল। খোদার কসম, এরকম চেহারা, এরকম নূরানী মুখ আমি দেখার জন্য প্রস্তুুত ছিলাম না। আমি সহ্য করতে পারতেছিলাম না এরকম চেহারা দেখে। নানা হুজুরের চেহারা নূরে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এত সুন্দর চেহারা পৃথিবীতে আগে কারো দেখি নি ও এমন চেহারা আমি কখনো কল্পনাও করি নি। ঐ ব্যক্তি হুজুরের চেহারা দেখল ও কবর যিয়ারত করে চলে গেল। হুজুরের লাশটা কবরের ভিতর চলে গেল। হুজুরের কাছে গিয়ে স্বপ্নের কাহিনী খোলে বললাম, হুজুর কান্না করতেছেন, চোখ দিয়ে পানি পড়তেছে। বললাম হুজুর এটা সুভাগ্য আল্লাহ আপনাকে কবুল করেছেন। পরে বললাম হুজুর আপনার কবরটা কি এখানে হবে আমি স্বপ্নে যে জায়গায় দেখেছি, বলল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পরে বললাম হুজুর যে ব্যক্তির দেহ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না তার দেহ এই মাটি কিভাবে স্পর্শ করবে? হুজুর আমার তো মনে হয় আপনার লাশটা কিয়ামতের হাশরের মাঠে দাড়ানোর আগ পর্যন্ত কবরে অক্ষত অবস্থায় থাকিবে ইনশাআল্লাহ ।

ছদর হুজুর নবিজ(স) এর স্বপ্নে যিয়ারতে ধন্যঃ


আল্লাহু আকবার, সুবহানআল্লাহ। সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর উপর। যিনি ১৪০০ বছর পূর্বে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছেন দ্বীনের আলো। যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও সর্বশেষ নবি। নবির দেখানো পথে যারা চলেছে তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন কামিয়াবী। প্রতিটি মুসলিম চাই নবিজির স্বপ্ন যিয়ারত লাভ করার জন্য। যারা নবিজীর দ্বীন, ধর্ম, সুন্নাতকে আকরে ধরে রেখেছে স্বয়ং নবিজি স্বপ্নে এসে তাদের সালান দেন। ছদর হুজুর একজন আল্লাহভীরু, একজন পরহেজগার,জাকিরিন, একজন আমানতদার, পরোপকারী। প্রায় সকল গুনের অধিকারী। হুফফাজুল উলামা মানে যেকোন কিতাব দিবেন পড়ে দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ, হুফফাজুল উলামা।

এ জীবন ধন্য দুনিয়া ও আখেরাতে ইনশাআল্লাহ। নবি (স) বলেছেন আমাকে যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখিল সে যেন আমাকে বাস্তবেই দেখিল। আবার বলেছেন যে, যে ব্যক্তি আমার স্বপ্নে যিয়ারত লাভ করিবে জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।বছর ৪-৫ বছর পূর্বে নানা হুজুরের বাড়ির ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে একটা কিতাব পড়েছিলাম হাদিসের আলোকে ৭০ জন ব্যক্তির নবিজির স্বপ্নে যিয়ারতে ধন্যের ঘটনা। সেখানে ওলামায়ে হিন্দের ঘটনাই পড়েছিলাম। বইটি পড়ে শেষ করলাম। আমি নানা হুজুরকে এমনভাবে একটা প্রশ্ন করলাম যেন তার মুখ থেকে কথাটা বের করতে পারি। বললাম, হুজুর আমার বুজে ধরে না এটা সম্ভব না সেই হাজার বছর পূর্বের ব্যক্তিকে যে কখনো দেখে নি সে কিভাবে নবির স্বপ্ন যিয়ারত লাভ করিবে। এটা যে সম্ভব তা তো জানি আমার মতলব ছিল অন্যটা।
পরে হুজুর বলতে বাধ্য হলো। এরকম প্রশ্ন হুজুরকে পূর্বে কখনো কেহ জিজ্ঞাসা করে নি। হ্যাঁ, এই প্রশ্নের উত্তর ও এই কথা শুধু আমি ও আমাদের বাড়িতে আগে থাকিত মাদ্রসার সাবেক হুজুর জানিত। হুজুরের কাছে আমার ওয়াদা দিতে হয়েছিল যে, হুজুরের জীবনদশায় এই কথা কারো কাছে না বলার জন্য। জিজ্ঞাসা করিলাম কেন বলিল হয়ত মানুষ বিশ্বাস করবে না। তাছাড়া এটা জানা-জানি হলে হয়ত অনেকে মনে করবে নিজের খ্যাতি অর্জনের জন্য প্রকাশ করেছে। হুজুর নিজেকে কেন জানি খুবই ছোট মনে করেন আর আল্লাহভীরু, বুজুর্গদের বৈশিষ্ট্যই এটা।


ছদর হুজুর তখন এই মাদ্রাসার মোহতামীমের দায়িত্বে ছিলেন। এটা এমন এক রজনী যে রজনী ছিল হুজুরের জীবনের একমাত্র স্মরণীয় রজনী। মাদ্রসার উত্তর পাশে পূর্বের পোরনো বিল্ডিং কিতাবখানাটা ছিল।সেই পোরনো প্রসাশনিক ও একাডেমিক ভবনে মোহতামীমের জন্য ছোট্ট একটা রুম ছিল। হুজুর রাতে ঘুমিয়ে গেল। স্বপ্নে হযরত মুহাম্মদ (স) এর যিয়ারত লাভে ধন্য হয়। রুমের জানালা পাশ থেকে দাঁড়িয়ে হাস্যজ্জ্বল মুখে নবি করিম (স) ছদর হুজুরকে সালাম পেশ করে ও সালাম দিয়ে চলে যান। আল্লাহু আকবর আমারা গর্ববোধ করি আজকে এই ১০০ বছর পূর্তী অনুষ্ঠানের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে। এই কমপ্লেক্স আল্লাহর কাছে কবুলিয়াত ও কামিয়াব। আমরা ধন্য ও স্বার্থক এই জন্য যে স্বয়ং নবি করিম (স) এই কমপ্লেক্স এর মাটিতে পা রেখেছেন। নবি বলেছেন যে, আমাকে যে স্বপ্নে দেখিল সে যেন আমাকে বাস্তবেই দেখিল।
আমাদের এই প্রতিষ্ঠান পূর্ব পুরুষগনের অপরিশ্রম মেহনত, চিন্তা-ফিকির, আর্থিক সহযোগিতার ফলেই আজকের এই ফসল। আর তাতে ছিল উস্তাদগনের দোয়া ও উস্তাজুল ওলামার দোয়ার বরকত। 

( ছবিঃছোট ভাই হাফেজ আব্দুল্লাহ ও নানা হুজুর)
দীর্ঘ প্রায় ৬৪ বছর ধরে নানা হুজুর এই প্রাণের প্রিয় আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দিতে আছেন ও আমৃত্যু। তাহার জীবন, এলম, জান-মাল, মেহনত, দোয়া ইত্যাদি ব্যয় করেছেন এই কমপ্লেক্সে কারন তার উপর যে দায়িত্ব সেটা তার উস্তাদের দেওয়া আমানত। তার দ্বারা অত্র এলাকাবাসী জেলা ও দেশের মানুষ উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘ বছর তিনি মনুষ্য রোগীদের সেবা দিয়েছেন। উস্তাজুল উলামার দোয়ার ও এলমের বরকতে তার হাত দ্বারা হাজার-হাজার ছাত্র আলেম, মুফতি,মোহাদ্দেস, শাইখুল হাদিস হয়েছে। আজ নানা হুজুরের হাজার-হাজার ছাত্র দেশের বিভিন্ন মাদ্রসা,জামিয়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্বীনের খেদমতে নিযুক্ত আছেন কেহ মাওলানা ,মুফতি, মোয়াদ্দেস, শাইখুল হাদিস, শাইখ, ইত্যাদি । তাছাড়া বিদেশে আছেন অসংখ্য ছাত্র যারা বিদেশের মাটিতে ইমামতি ও মাদ্রসার খেদমতে।
উস্তাজুল উলামা যে দ্বীনের প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে গেছেন ও প্রদ্বীপের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আলোকিত করেছেন দেশের মানুষ ও দেশকে সেই প্রদ্বীপের আলো অনন্তকার প্রজ্বলিত হবে ইনশাআল্লাহ। 


আজ শতবর্ষের মাঝে আমরা এটাই বলতে পারি যে, ছদর হুজুর তার উস্তাদের দেওয়া আমানত রক্ষা করতে পরেছেন। দ্বীনের আলো পৌছে দিয়েছেন সকলের মাঝে আর সেই আলোতে আলোকিত এই তলেবুল এলম ছাত্রদের জীবন ও আখেরাত। সেই সাথে তার দোয়ার বরকতে ও সেবায় রোগীরা রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করতে পেরেছে।
আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দির ১০০ বছর পূর্তী অনুষ্ঠান ও নানা হুজুরকে সংবর্ধনা এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশে মানুষ ও সকল প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ পুলকিত নানা হুজুরকে আমাদের মাঝে পেয়ে। আমরা দোয়া করি উস্তাজুল উলামাকে আল্লাহ তায়ালা দীর্ঘজীবী ও নেক হায়াত দান করুক সেই সাথে উস্তাজুল উলামাকে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক আমিন। 


প্রতিবেদনের নামঃ আসাদুল্লাহ (বালুয়াকান্দি)
তারিখঃ ০৮-০১-২০২০ ইং
সময়ঃ রাত ১ টায়

ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্স
আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দি

ঐতিহ্যবাহী কূয়া যা শতবর্ষের স্মৃতি ধারন করে আছে ............ 

Comments

Popular posts from this blog

কাব্যঃ অপরিচিতা||কবিঃ আসাদুল্লাহ||একুশে বই মেলা ২০২৫ ইং||নরসিংদী,বাজার হাসনাবাদ,রায়পুরা,নরসিংদী||

কাব্যঃ অপরিচিতা কবিঃ আসাদুল্লহ                                কাব্যঃ অপরিচিতা                   কবিঃ আসাদুল্লাহ প্রথম প্রকাশঃ একুশে বইমেলা ২০২৫ ইং কবি পরিচিতিঃ আসাদুল্লাহ এর জম্ম ১৫ ই মার্চ ২০০১ সালে ঐতিহ্যবাহী নরসিংদী জেলার বৃহত্তম রায়পুরার উপজেলার পূর্ব রায়পুরার চরাঞ্চলের চর মধুয়া ইউনিয়নের চর মধুয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে।আসাদুল্লাহ এর বাবার নাম হাজ্বী আঃ খালেক এবং মাতা মরহুম শিরিনা আক্তার।৬ ভাইয়ের মধ্যে আসাদুল্লাহ ৫ম,কোনো বোন নাই।বাড়ির সাথে ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্সের আল জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দি মাদ্রাসার(স্থাপিতঃ ১৯২১ সালে) উস্তাজুল উলামা সদর হুজুর(দা.বা) নানাজ্বীর একমাত্র  প্রিয় খাদেম ছিলেন,সদর হুজুর ১০৬ বছর বয়সে ৩১-১-২০২১ ইং ইন্তেকাল করেন। শিক্ষা জীবনঃ আসাদুল্লাহ ২০০৬ সালে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের বড়ই তলা গ্রামের নানাীর বাড়ি থেকে প্লে-তে ভর্তি হন "চরসুবুদ্ধি ফুলকুড়ি কিন্ডারগার্টেনে" ২০০৭ সালে নার্সারী পড়া শেষ করে জম্মভূমি চর মধুয়া ...

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ এবং আরজ আলীর সমীপে pdf বই ডাউনলোড করুন ও পড়ুন

"প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ" আরিফ আজাদ আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোন।আজ আপনাদের সাথে নিয়ে আসলাম আরিফ আজাদ ভাইয়ে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ বই দুটি এবং "আরজ আলীর সমীপে" বইটি। সারা বাংলার ভাইরাল বই "প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২ " বই দুটি। যদি বইগুলো না পড়ে থাকুন এখনই ডাউনলোড করে পড়া শুরু করুন। প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ: ডাউনলোড প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ : ডাউনলোড আরজ আলীর সমীপে: ডাউনলোড আপনার কোন বইটি দরকার?  তা কমেন্ট বক্সে লিখুন। ধন্যবাদ Asadullah News & Library

চটি গল্পের সেক্সের দুনিয়া থেকে হেদায়েতের পথে || Asadullah News & Library||

  #চটি_গল্পের_সেক্সের_দুনিয়া_থেকে_হেদায়েতের_পথে!#Hacked_Facebook_id!! ভাবলাম এই যুব সমাজ মিডিয়া আর ফেইজবুকের কল্যাণে তার অপব্যবহারের ফলে অশ্লীলতার চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে!  এদোরকে কিভাবে থামানো যায়?কিভাবে এদের যৌবনের উষ্ণ রক্তকে শীতল করা যায়।আর এর জন্যই আমার একটু প্রয়াস তাদেরকে হেদায়েতের পথে আহব্বান করার। #প্রথম_মিশন আমার প্রথম মিশন ছিল একজন বড় ভাইয়ের উপর।সে বলেছিল চট্রগ্রামে থাকে,তার প্রায় সব গোপন কথায় জেনে গিয়েছিলাম,পরে তার আইডি আমার দখলে নিয়ে আসি।তার সমস্ত ডাটা ও ডিটেলস জানতে পারি।সে আমাকে বলেছিল বাংলাদেশের চট্রগ্রামে থাকে কিন্তুু দেখলাম বিদেশে থাকে ও দোবাইয়ে এবং বাড়ি কক্সবাজারে।যাহোক,তাকে বুজানোর পর তার মুখ দিয়ে যেসব বাক্যগুলো এসেছিল "ভাই,তোমার সাথে আমার আরো আগে পরিচিত হলো না কেন?ভাই,হে সত্যিই তো আমারও তো একজন বোন আছে, আমার বোনকে কেহ যদি সেক্স ভিডিও,পিক ও অশ্লীল কথা বলে তখন আমার কাছে কেমন লাগবে?আর আমি তো এমন অজস্র মেয়েদের সাথে এরকম করে আসতেছি!!হে ভাই,তুমি আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছ!তোমার কাছে ওয়াদা দিলাম জীবনে আর কখনো এরকম করব না। আর আমি এসব পথে এসেছি একটাই কারন সময় কাঁটানোর জ...