প্রতিবেদনঃআসাদুল্লাহ
#Blogger:Asadullah
সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশে করোনা নামক ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করেছে।এটি একটি নতুন ভাইরাস ও এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি।করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শেষ পরিণতি মৃত্যু। চীনে প্রায় শতাধিকের মৃত্যু হয়েছে ও প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে আগামী ২-১ বছরের মধ্যে প্রায় ৬ কোটির মতো মানুষের মৃত্য হবে এই করোনা ভাইরাসে।
এই পর্যন্ত পৃথিবীর প্রায় ১১ টি দেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস কোথায় থেকে বিস্তার লাভ করে তার সঠিক তথ্য জানা যায় নি তবে বাদুর,মাছউ ও সাপের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি-কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে অন্যজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে চীন সরকার এই করোনা ভাইরাস নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং চীনের এক প্রদেশের লোক অন্য প্রদেশে যাতায়াত করতে পারছে না।তাছাড়া বাস, ট্রেন ও বিনান বন্দরগুলোও প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চীনের মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন-রাত অতিবাহিত করছে।
করোনা ভাইরাস কি উইঘুরদের দোয়ার ফল নয়?
আপনারা জানেন যে বর্তমানের পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত জাতি হচ্ছে চীনের জিংজিয়ান প্রদেশের মুসলিম উইঘুর জাতি। পৃথিবীর অন্য দেশের মুসলিমরা আল্লাহ শব্দ বলতে পারে, নামাজ, রোজা এবং ইসলামের আকিদাগুলো পালন করতে পারে কিন্তিু চীনের উইঘুর এমন এক মুসলিম জাতি যাদের আল্লাহ শব্দ উচ্ছারন করতেও নিষেদ! শুধু কি তাই? কখনো না বরং যারা দাঁড়ি রাখে তাদেরকে ধরে দাঁড়ি কেঁটে দিচ্ছে, মা ও বোনেরা রাস্তায় হিজাব পড়তে ও পর্দা করতে দেওয়া হয় না। ১৮ বছরের নিচে যারা তাদেরকে মসজিদে যাওয়া নিষেদ করা হয়েছে। তাছাড়া জিংজিয়ান প্রদেশের মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্চে। উইঘুর এমন এক জাতি যারা নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয়টুকুও দিতে পারে না !
পৃথিবীর বুকে বর্তমানে উইঘুর এমন এক মুসলিম জাতি যাদের উপর অমানবিক নির্যাতন -অত্যাচার, ধর্ষণ আর হত্যা করা হচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ উইঘুরদেকে চীনের বন্ধী শিবরে বন্দী রেখে তাদের উপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার। উইঘুরদের উপর চীনের এই অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচারের পিছনের আসল কাহিনী কি? জিংজিয়ান প্রদেশের আয়তন প্রায় ৪৬ কোটি ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার। এই জিংজিয়ান প্রদেশে প্রকৃতি সম্পদে ভরপুর বিশেষ করে তেল খনি, গ্যাস ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন খনি। এই সম্পদের পাহার দেখে চীন কমিউনিষ্ট সরকার তাদের লোভ সামলাতে পারে নি। তারপর থেকে এখান থেকেই শুরু করে উইঘুরদের সাথে খেলা। প্রথমে তাদের ধর্মের উপর আঘাত হানে ও তাদেরকে পৃথিবীর বুক থেকে নিঃশেষ করে দেওয়ার নীল নকশা প্রণয়ণ করে।
আল্লাহর কসম! আল্লাহ নিশ্চয় এর বিচার করবেন ও করেতেছেন।তারপর প্রশ্ন ওঠে যে, জাতিসঙ্ঘে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে মানবতা বিরোধী কাজের অভিযোগ উঠলে ৩৭টি দেশ জাতিসংঘকে চিঠি দিয়ে বলেছিল যে চিনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেটা মিথ্যা, এই ৩৭টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশ ছিল মুসলিম, তাদের সকলেই বলেছিল চিন সেখানকার মুসিলিমদের প্রতি কোন নির্যাতন করছে না বরং তাদের সহযোগিতা করছে এবং তাদের শিক্ষার ব্যাবস্থা করছে এবং চীন সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান করছে।
হায়, আজ কোথায় বিশ্ব বিকেক ও বিশ্ব মানবতা? কোথায় ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জাতি?
এই করোনা ভাইরাস নামক গজব কি পবিত্র আল কুরআন পরিবর্তনে গজব নয়?
গত মাসে মানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ২৯ শে ডিসেম্বর চীন সরকার ঘোষণা করে যে তারা পবিত্র আল কোরআন সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ফেলবে ও নতুন করে লিখবে! নাউযুবিল্লিল যে পবিত্র আল কোরআনা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন " আমি এই কোরআন নাজিল করেছি পবিত্র মাসে ও আমিই এই কোরআন রক্ষা করব " ইহা সেই আসমাসী কিতাব যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে। ইহা সেই কোরআন যে কোরআনের সাথে এই পর্যন্ত যেই বেয়াদবী করেছে সাথে-সাথে আল্লাহ পক্ষা থেকে গজব নাজিল হয়েছে। আল্লাহ নিজেই বলে দিয়েছেন আমি এই কোরআন সংরক্ষণ করব আর এর প্রতি উত্তরে চীন কমিউনিষ্ট প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন তারা কোরআন নতুন করে লিখবে!! আর এর গজব আল্লাহর উপর থেকে আসতে মোটেও দেরি হয় নি। যা চীনের বর্তমান অবস্থা করোনা ভাইরাতের মহামারি আকার ধারন কনেছে।
আমাদের আল্লাহ কি না পারে? আমাদের রব সেই রব যিনি সকল কিছুর উর্ধ্বে ও তিনিই এই আসমান ও জমিনের মালিক। আমাদের প্রভু সেই প্রভু যিনি যুগে-যুগে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শক্তিশালী ব্যক্তিদের ধ্বাংস করেছেন সাধারন বস্তুু দিয়ে। আমাদের আল্লাহ সেই আল্লাহ যিনি মুসার (আ) এর শত্রু যিনি নিজেকে রব দাবি করতেন সেই ফেরাউনকে সাধারন পানি দ্বারা ধ্বংস করেছেন ও আজ পর্যন্ত এমন কি কিয়ামত পর্যন্ত ফেরাউনের লাশকে সংরক্ষণ করেছেন পৃথিবীর বুকে কারন পৃথিবীর মানুষ যেন এটা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। আমাদের আল্লাহ সেই আল্লাহ যিনি ইব্রাহিম (আ) এর শত্রুকে সাধারন মশা দ্বারা ধ্বংস করেছে। তিনি সেই মহান শক্তিশালী যিনি লুত জাতিকে আসমানের উপর ওঠিয়ে নিয়ে তারপর তাদের জমিনকে আবার নিচে ফেলিয়ে দিয়ে তারপর পাথর বৃষ্টি দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করেছেন। তিনি সেই আল্লাহ যিনি আদ জাতিকে ধ্বং করেছেন, করেছেন সামুদ জাতিকে ধ্বংস।তিনি সেই আল্লাহ যিনি হস্তীবাহী বাহিনীকে হুদ-হুদ পাখি দ্বারা ধ্বংস করেছেন যারা আল্লাহর ঘর কাবাকে ধ্বংস করতে যাচ্ছিলেন!!!!
আর তিনি কি চীনের ১৫০ কোটি মানুষকে ধ্বং করতে পারবেন না? পূর্বের জাতিদেরকে তো মশা,মাছি,পানি,পাখি,বাতাস,ঝঢ়-বৃষ্টি ইত্যাদি সাধারন বস্তু দিয়ে পৃথিবীর বুক থেকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর তিনি চীন জাতিকে এর চেয়ে ক্ষুদ্রতম প্রাণী যাদেরকে চোখেই দেখা যায় না সেই করোনা ভাইরাস দ্বারা ধ্বংস করতেছেন!!! আল্লাহু আকবর, সুবহানাল্লাহ।চীনের উপর যে গজব নাজিল হয়েছে খোদার কসম সেই গজব আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই গজব এসেছে উইঘুরদের দোয়ার মাধ্যমে এই গজব এসেছে আল্লাহর কোরআন পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়ার কারনে এর ফলে।
তাদের দ্বারাই তারা মৃত্যু ডাকে আনে:
চীনা এমন এক জাতি যারা খাবারে বাজ-বিচার করে না। তারা শুকুর,সাপসহ হারাম প্রাণীদের বক্ষণ করে থাকে।অথচ আল্লাহ এসব হারাম করেছেন না খাওয়ার জন্য। তাছাড়া করোনা ভাইরাস এসব প্রাণী শকুর,বাদুর,সাপ ইত্যাদির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। চীন এমন এক জাতি যারা সতত চিন্তায় মগ্ন থাকে কিভাবে মুসলিমদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া যায় তা নিয়ে। এই যে জীবানু করোনা ভাইরাস হয়ত এমনও হতে পারে এটা তাদেরই আবিষ্কার ও তারাই করোনাকে ডেকে এনেছে। চীন এমন এক জাতি যারা জীবানু অস্ত্র নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা করে ও এই জীবানু দিয়েই অতি সহজে ধ্বংস করতে চাই মুসলিমদেরকে। এরকম ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে চায় মুসলিম দেশগুলোতে। আর আজ তাদের আবিষ্কার তাদেরই বিরুদ্ধে।আল্লাহর গজবে নিক্ষিপ্ত চীন জাতি।
তারপরও যদি চীনারা সঠিক পথে না আসে ও উইঘুরদের উপর নির্যাতন বন্ধ না করে এর ফল পৃথিবীর মানুষ অতি দ্রুত দেখতে পাবে তাদের উপর আল্লাহর লানত ও গজব।
উইঘুর সেই জাতি যারা প্রতিনিয়ত চেয়ে আছে মুসলিম বিশ্বের দিকে কখন তাদেরকে রক্ষা করবে এই জালিমের হাত থেকে।
আজ মুসলিম শাসকগন কুফফারদের কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় তোমাদের উপর চালানো নির্যাতনের ঘটনাকে অস্বীকৃত জানিয়েছে!!! আজ মুসলিম বিশ্ব ভুলে গেছে
যে প্রিয় নবী (স) বলেছেনঃ পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের কোন মুসলিম আঘাতপ্রাপ্ত হলে শরিরের একটা অঙ্গে আঘাত লাগলে যেমন সারা শরির ব্যাথা পায় তেমন সারা পৃথিবীর মুসলিমদেরও ব্যাথা পাওয়া উচিত, আর এটাই হল মুসলিম উম্মাহ।
তোমরা বিশ্বাস কর প্রভুর সত্য বাণী ও পবিত্র কুরআনের এই আয়াত
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَسَوْفَ يَأْتِى اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُۥٓ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكٰفِرِينَ يُجٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَآئِمٍ ۚ ذٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ ۚ وَاللَّهُ وٰسِعٌ عَلِيمٌ
"হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।"
অবশেষে তোমাদের শান্তনা দিয়ে বলি, আর একটু অপেক্ষা কর আর একটুখানি। পৃথিবীর কেনো দেশ বা জাতি তোমাদের উদ্ধার করবে না ইমাম মাহদীর সৈনিকগন তোমাদের উদ্ধার করবে ইনশাআল্লাহ। তোমরা আর কিছুক্ষন ধৈয্যধারন কর, নিশ্চয় কষ্টের পরই শান্তি। তোমাদেরকে চির শান্তি ও আযাদ করবে ও সোনালী অতিতের দিনগুলো ফিরিয়ে দিবে ইমাম মাহদী ও তার দল ইনশাআল্লাহ।
হে মুসলিম জাতি! তোমরা জেগে ওঠ এখনই জেগে ওঠার মহা সময়। আমাদের নির্যাতিত মুসলিম জাতিকে এই জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আর যদি আমরা তা করি তাহলে আল্লাহর গজব আমাদের উপর আসতেও দেরিরি করবে না। আর এসব মহামারি সকল থেকে রোগ-শোক, জীবানু থেকে আমরা রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করব যা আমাদের প্রিয় নবি জানিয়ে দিয়েছেন
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্ববাসীকে এক নতুন আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে যা থেকে মুক্তির জন্য এক সহীহ দোয়া শিখে নিন। আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া করতেন।
اَللَّھُمَّ اِنِّیْ اَعُوْذُبِکَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُوْنِ وَالْجُذَامِ وَسَیِّءِ الْاَسْقَام
ِ উচ্চারনঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া ছাইয়্যি ইল আসকম’
অর্থ: হে আল্লাহ অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ,কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার মারাত্নক ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হায় আল্লাহ আপনি আমাদের মুসলিমদেরকে ইহুদি-মুশরিক-খ্রিষ্টানদের হাত থেকে রক্ষা করুন ও আমাদের হাত দ্বারা তাদেরকে লাঞ্চিত-বঞ্চিত করুন। আমিন ছুম্মা আমিন।
ইনশাআল্লাহ-বি-ইজনিল্লাহ-জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ।
প্রতিবেদনের তারিখঃ ২৯-০১-২০২০ ইং
সময়ঃ বিকেল ৪ টায়





Comments
Post a Comment