পল্লীর রূপের রাণী
আসাদুল্লাহ
=================================
খুজেছি বহু পথে-পল্লীতে জড়াব বলে অন্তরে,
আজি পেয়েছি তারে মম পল্লীর দখিন প্রান্তরে।
এ যে দীব্যাঙ্গনা!যেন মুখখানি পূর্ণিমাতিথির চাঁদ,
সেদিন কুঞ্জে পহেলা দর্শনে হৃদে জম্মিল তার প্রতি অনুরাগ।
উড়ছে লম্বা এলো অলক,পড়ে নাহি মম পলক,
কি হে তাহার রূপের ঝলক?পড়িয়াছে যে নোলক
রাঙ্গা চরনের নূপরের ঝুমুরে হৃদে লাগিয়াছে দোল,
তাহার কায়ার হাওয়ায় ভাঙ্গল যে মোর হৃদয় কূল
একাকীত্বে বহু বছর ছিনু কবে পাব তাহার দেখা,
অপেক্ষায় যবে দেখিব হবে তাহার রূপের কবিতা লেখা।
সেদিন নির্জন কাননে তাহার
দৃষ্টির উপর ফেলিয়া মম দৃষ্টি,
ঈক্ষণের ভাষায় বুজিয়াছিনু চৈতন্য,
যেন তাহার সনে হৃদের বন্ধন হয় সৃষ্টি।
তুমি আসবে বলে অপেক্ষায় ছিনু হৃদয় নীড়ে,
তোমার মাঝে মিশেছিনু আজি এসেছি হৃদ গভীরে।
তোমার মাঝে লুকায়িত মম যত কবিতার ছন্দ,
ওগো প্রয়সী!তোমা হৃদয় দ্বার কভু করিও না বন্ধ
শুন ওরে ভাই! পুষ্পিতা দেখিতে কিন্তু মন্দ না,
এ পাষাণে পাবার জন্য যুগ-যুগ ধরে করিয়াছি বন্দ না।
চন্দ্রনা কোনো কালেও কিন্তুু অন্ধ না,
মোর কাব্যের নন্দিনী কিন্তুু দেখিতে মন্দ না।
এত রূপ তাহার, এ রূপে দ্ধগ্ধ হয় মোর আঁখি,
যেন রূপ কেহ না দেখে, মম হৃদ পরশের চাঁদরে ডাকিয়া রাখি।
সে যে মোর পল্লীর রূপের রূপসী রাণী,
কাব্যে নিয়ে খেলি তারে করি টানা-টানি।
এত কাছে ছিলে তুমি ওগো মোর রাণী?
কাছে থেকেও দুজনার হয় নি কভু জানা-জানি।
ওগো প্রিয়া!কাছে থেকেও দূরে,আমার বুকে ভয়,
জানতে গিয়ে আজও জানা হয় নি তোমা পরিচয়
তোমা রূপে হলো যে মম হৃদয় কূল ক্ষয়,
ওগো জাদু রাণী!প্রেম সমরে হয় যেন মোর জয়।
আমার হৃদ দর্পণে আজি তোমার রূপের ছবি,
তোমায় ভেবে রচি কাব্য আমি তোমার কবি।
আমার চোখে বয়ে চলে তোমা রূপের কায়া,
হঠাৎ করে মম হৃদয় মরুতে ফেলিলে তোমা ছায়া
যদি কভু ভ্রান্তি করি যেওনা দূরে করিও না রাগ,
সুখের আচলে বাঁধিয়া রাখিও দিও না ব্যাথার দাগ।
মোর বাঁশির সুরে আসিও কুঞ্জে,বসিও হস্ত ধরে,
একদিন তোমায় চিরতরে বধূ করে নিব মম ঘরে।
তুমি যে গো মোর পল্লীর অপরূপের রূপসী রাণী,
তোমার সনে প্রেম বাধিয়াছে বাঁধন প্রভু, তা জানি গো জানি।
তোমায় দেখিয়া বারে-বার মিটে নাহে আঁখির তৃপ্তি,
অনন্তকাল থাকিও পাশে দিও মোরে ভালোবাসার যত দীপ্তি।
=================================
কাব্যঃ "কবি রাণী কাব্যের" দ্বিতীয় কবিতা এটি
তারিখঃ ১৬-১২-২০১৯ ইং
সময়ঃ রাত ১১ টা ৩০ মিনিট
উৎসর্গ করিলাম পল্লীর নিকেতনের সামনের অপরূপ রূপের নন্দিনীকে।
My social address :
Facebook id: Md Asadullah
Youtube Channel : Asadullah TV.BD
My Webside : Asadullah News & Library
Facebook page : Asadullah TV.BD
E-mail : mdasadullah3434@gmail.com
mobile: 01625101319
আমার ফেইজবুকের সর্বশেষ স্ট্যাটাসটিঃ
তারিখঃ ০১-০১-২০২০ ইং
ঐতিহ্যবাহী আটকান্দী কুঠিবাড়ির ইতিহাস
শেষ বছরের ২০১৯ সালের শেষ দিনের শীতের বিকেলের সূর্যটা যখন রক্তিম হয়ে ডুবে যাচ্ছে আর তখনই দু'বাহু উঠিয়ে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়া রহিলুম আগানগরের সরিষা ক্ষেতে ও খালপাড়ে দাড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী আটকান্দীর কুঠিবাড়ির দিকে।
আমি তখন চোখ বন্ধ করিয়া প্রায় ১৫০ বছরের পিছনে চলিয়া গেলুম। এই যে মোর সামনে হলুদে আবৃত কৃষাণের জমি। একদিন তাহাতে ইংরেজরা নীল চাষ করাত আটকান্দী গ্রামের কৃষকদের বাধ্য করিয়া। পড়ে গেল ইংরেজ ৩ বাচ্ছা ডব্লিও ওয়াটস, জি,পি, ওয়াইজ ও জর্জ লেমন তিনজন কুটিল ইংরোজ ব্যবসায়ীর কথা।তারপর ইংরেজদেরকে তারাল মাওলানা বিদ্রোহী আলিম উদ্দিন।
আমার মনে পড়ে গেল পিছনের ইতিহাস, মনে পড়ে গেল চাবুকের আঘাতে শহিদ করা হয়েছিল আটকান্দী গ্রামের কৃষক সলিমউদাদিন চাচাকে। মনে পড়ে গেল সলিমউদ্দিন চাচার ছেলের গর্বভর্তী বউকে ইংরেজ বাচ্ছারা পেটে লাথি মেরে হত্যা করেছিল!!
তারপর মনে পড়ে যায় মাওলানা বিদ্রোহী, সুদর্শন পুরুষ মাওলানা জমির উদ্দিন সাহেবের একমাত্র ছেলে মাওলানা আলিম উদ্দিন সাহেবকে। আর তাকে নিয়েই এই নীল কুঠির ইতিহাস। সাথে সেই রমণী যিনি তার ঐশ্বর্য ত্যাগ করেছেন, ত্যাগ করেছেন তার রাজ প্রসাদ। সেই বগুরার নবাব পরিবারের একমাত্র অপরূপের কন্যা ছাদেতুন্নেছাকে।
ঢাকার নবাব পরিবার আলিম উদ্দিনকে ছোট বেলা থেকে লালন-পালন করে, তারপর দেওবন্দ পাঠায় লেখাপড়া করার জন্য ও মাওলানা হন। কিন্তুু আলিম উদ্দিন কেন তাদের সাথে প্রতারনা করিল। বগুরার নবাব যখন ঢাকার নবাবের কাছে এই বলে চিঠি রিখে যে " আমার একমাত্র কন্যাকে আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাই " আর এই চিঠির জবাব লিখে চলে যায় আলিম উদ্দিন। তারপরের ইতিহাস শুনালে হয়ত অশ্রু ফেলবেন!!!
দেওবন্দ থেকে লেখা-পড়া শেষ করে আলিম উদ্দিন যখন দেশে আসলেন তখন ঢাকার নবাব পরিবারে তাকে একটি পদে নিযুক্ত করেন মানে অন্য নবাবদের চিঠি-পত্র তার দায়িত্বে ছিল। যখন বগুরার নবাব ঢাকার নবাবের কাছে তার মেয়ে বিয়ে দেওয়ার চিঠি পাঠায় তখনই আলিম উদ্দিন সুযোগ কাজে লাগায়। চিঠির জবাব দিয়ে চলে যায় ঢাকার নবাব পরিবারের ছেলে ছলিমুদ্দিন সেজে বগুরায়। বিয়ের বন্দোবস্ত হয়ে যায়, আর এদিকে তিনি ঢাকার নবাবের কাছে বলেন যে, তিনি ছুটির জন্য গ্রামে যাবেন। কিন্তুু গেলের বগুরায়।
বগুরায় নবাব পরিবারের কাছে গিয়ে তার কয়েকটা ভুল ধরা পড়ে যেমনঃ মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আলিম উদ্দিন নিজের পায়ের জুতা হাত দিয়ে নিজে খোলেছেন!! স্বর্ণের থালা তার হাতে দেওয়ার পর সেটা হাত থেকে পড়ে যায় কাঁপতে-কাঁপতে!! নবাবের ছেলে হলে তো এরকম হওয়ার কথা না। সব ঘটনা চলে যায় ঢাকার নবাবের কাছে। পরে আলিম উদ্দিনকে বন্দি করে বগুরার নবাব। এমন কলঙ্ক হতে পারে না মেয়েরা বিয়ের পিরিতে এতবারই বসে। রাতে চুপি-চুটি নবাবের মেয়ে চরে যায় আলিম উদ্দিনের রুমে। তুমি কেন এমন করতেছ? আমার এত বড় সর্বনাশ কেন করিলে? আলিম উদ্দিন ছাদতুন্নেছাকে সব খোলে বলে, ছাদতুন্নেছা ছিল একজন রূপসী ও বিদ্রোহী নারী। তিনি বললেন যে, আমি তোমার সাথেই বিয়ে বসব।
আসলে বাড়ি থেকে পালিয়ে ছোট বেলায় আলিম উদ্দিন চলে আসে বহু-দূর. রেল লাইনের পথ ধরে। তিনি রাস্তায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, ঘুম থেকে ওঠে দেখে লোকেরা কোথায় যেন যাচ্ছে। পরে তিনিও গেল, গিয়ে দেখে ঘোড়া দৌড়। আর সেখানে অতিথী হয়ে আসে ঢাকার নবাব পরিবার। নবাবের ছেলে আর আলিম উদ্দিন সমবয়সী ছিল, স্টেইজ থেকে নেমে নবাবের ছেলে তার কাছে এসে বলে তুমি আমার সাথে থাকবে, আমাদের পরিবারে থাকবে ও তুমি আমার ভাই।
পরে তাকে নিয়ে যায় ও সেখানে বড় হয়।
আলিম উদ্দিরকে ঢাকার নবাব পরিবার ছোট বেলায় একদিন মেরেছিল মানে অপমানিত করেছিল এই জন্য যে তাকে স্বর্ণ মুদ্রা চুরির মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল "!
আর এই জিদটাই তিনি বড় হয়ে মিটিয়েছিলেন চিঠির জবাব দিয়ে ঢাকার নবাবের ফেলে সেজে চলে যায় বগুরার নবাবের মেয়েকে বিয়ে করতে।
পরে বগুরার নবাবের মেয়ে তার সাথে রাতে পরামর্শ করল যে, তারা রাতে পালিয়ে চলে যাবে।বগুরার নবাবের বউ ভালো ছিল তিনি মেয়ের কল্যাণ চাই। তাই স্বর্ণ মুদ্রা ও অলংকার দিয়ে মেয়েকে বিদায় জানায়। তারা রাতে নবাবের নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায় ও টের পেয়ে নবাবের লোকেরাও নৌকা নিয়ে তাদের পিছু ছুটে কিন্তুু মেঘনা নদীতে এসে তাদেরকে আর ধরতে পারে নি
তারা অবশেষে আলিম উদ্দিনের মানে আমাদের আমীরগঞ্জের আটকান্দী গ্রামে আসে ও সেখানেই বস-বাস করে।
বগুরার নবাবের মেয়ে বলে যে, ঢাকার নবাবের সাথে টাক্কর দেওয়ার জন্য,এ সেটাই করেছিল।
নবাব পরিবারের ছলিম উদ্দিনের সাথে আর বিয়ে হয় নি, বগুরার নবাবের মেয়েকে রিয়ে আসে আমাদের আটকান্দীর বিদ্রোহী মাওলানা আলিম উদ্দিন। দাম্পত্য জীবন চলিল, আহ! মৃত্যু শয্যায় যখন নবাবের মেয়ে আলিম উদ্দিনের বুকে মাথা রেখে বলে "তুমি কথা দাও আমার কথা রাখবে, আমাদের ছেলে-মেয়ে হয় নি,কিন্তুু তোমার সনে আমার ভালোবাসা ছিল পবিত্র, তুমি কথা দাও এই খানে মসজিদ নির্মাণ করবে। হ্যাঁ, করব। তারপর পাড়ি জমাল ঐ পরবারে। অবশেষে বিদেশ থেকে কারিগর এনে আলিম উদ্দিন নির্মাণ করের এখানে সেই মসজিদ।
আমি আপনাদে ইতিহাস বলব ও শুনাব কোনো একদিন ইনশাআল্লাহ।

Comments
Post a Comment