"১০০ বছর পূর্বের বালুয়াকান্দি মাদ্রাসার প্রথম শিক্ষক ও প্রথম ছাত্রের সেই ইতিহাস "
এই শতবর্ষের দিনে এসে আমি বার-বার স্মরণ করতেছি এই ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্সের আল জামিয়াতু সামসুল উলুম বালুয়াকান্দি মাদ্রসার সেই ১০০ বছর পূর্বের এই মাদ্রসার প্রথম শিক্ষক হাফেজ শাফি হুজুর(র) কে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেহনত দিয়ে গেছেন এই কমপ্লেক্সে।তার বাড়ি আমাদের পাশের গ্রাম করিমগঞ্জে। এই জামিয়ার প্রথম শিক্ষক ছিলেন তিনি।
১০০ বছর পিছনে আপনাদের নিয়ে যাব এখন। তখন মাদ্রসায় শুধু মক্তব ও হেফজ বিভাব ছিল।
হেফজ খানায় সেই যুগে প্রায় ৪০ জন ছাত্র ছিল। আপনারা জানেন যে, বর্তমানে পিচ্ছি-পিচ্ছি ছাত্ররা হাফেজ হয়ে যায়। সেই যুগে কয়েকটা গ্রাম খুজে ১-২ টা হাফেজ খুজে পাওয়া যেত। আর তখনকার ছাত্ররা ছিল বড়-বড় ও বয়স্ক।
বলতেছিল আমাদের এই মাদ্রসার কথা। শাফি হুজুর একলাই ছাত্রদের পড়াতেন ও মাদ্রসা দেখা-শুনা করতেন। কিন্তুু দুঃখের বিষয় কেহ পড়া-লেখায় মনোযোগ ছিল না,মনোযোগ বলতে হাফেজ হতে পারতেছিল না।তখন হাফেজ হতে খুবই কষ্টকর ছিল। একদিন শাফী হুজুর ছাত্রদের বললেন,বাবারা তোমারা কেন এখনও হাফেজ হতে পারতেছ না,কেন লেখা-পড়ায় মনোযোগ দাও না??
আল্লাহু আকবর। শাফী হুজুর দ্বীনের জন্য কি পরিমাণে উৎসর্গ করেছেন জানেন? তিনি চাইত কিভাবে ছাত্রদের লেখা-পড়ায় মনোযোগী করা যায়। আর সেদিন থেকেই ছাত্রদের মধ্যে শুরু হলো যুদ্ধ, প্রেম যুদ্ধ,হাফেজ হওয়ার যুদ্ধ।
শাফী হুজুর ছাত্রদের বললেন তোমাদের মধ্য থেকে যে প্রথম হাফেজ হতে পারবে তার সাথেই আমার অপরূপ রূপের রূপবর্তী একমাত্র আদরের দুলালীকে তুলে দিব ও বিয়ে দিয়ে দিব।
আর সেদিন থেকেই শুরু হলো ছাত্রদের মধ্যে লেখা-পড়ার প্রতিযোগিতা।আল্লাহু আকবর,তলেবুল এলম ছাত্র ভাইয়েরা লেখা-পড়ায় এতটাই মনোযোগ হয়েছিল যে তা শুধু কল্পনায় দেখতে পারি তাদের সেই সব রাত-জাগা মেহতনগুলো। আলহামদুলিল্লাহ, তারপর এই মাদ্রসার প্রথম হাফেজ হয়েছেন দোলোয়ার নামে এক ভাই তার বাড়ি হয় নীলক্ষা না হয় আলোকবালী, মনে হয় আলোকবালী।
তারপর শাফী হুজুরের মেয়ের সাথে হাফেজ দেলোয়ার ভাইয়েন বিয়ে হয় ও তাদের ছেলে-মেয়েদেরাও হাফেজ,হাফেজা , আলেম ও আলেমা হয়। তারপর থেকে যে কত জন হাফেজ হয়েছে তার হিসাব নাই। মনে পড়তেছে ১০০ বছর পূর্বের সেদিনের সেই দিনগুলো আজি শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের দিনে। আর এখন প্রতিবছর প্রায় ৩০-৪০ জন করে হাফেজ হয়, ২০-২৫ জন করে আলেম হয়।
এই শতবর্ষের দিনে এসে বার-বার স্মরণ করতেছি সেই প্রথম শিক্ষক হাফেজ শাফী হুজুরকে ও প্রথম ছাত্র হাফেজ দেলোয়ার ভাইকে। আর সেই শাফী হুজুর আমাদের এই বালুয়াকান্দির কবরস্থানেই জান্নাতের বাগানে ঘুমিয়ে আছেন।
হায় আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হায় আল্লাহ নিশ্চয় আপনি আপনার ওয়াদা ও পুরুষ্কার সেই হাশরের ময়দানে ঘোষণা করবেন। হায় আল্লাহ আপনার রাসূলের হাদিস কখনো মিথ্যা হতে পারে না ও আপনার বাণী :-
"আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়াছি, অতএব কেহ কি হেফজ করিবার মতো আছে? (সূরা কামার:১৭)
হায় আল্লাহ এই মাদ্রসা থেকে হাজার-হাজার ছাত্র হাফেজ হয়েছে আপনি তাদের সকলকে কবুল করুন সেই সাথে আমার দুই হাফেজ ভাইকেও। হায় আল্লাহ সাফী হুজুররের প্রতিদান হিসেবে আপনি তার কবরের আযাব মাফ করে দিন ও চিরস্থায়ী জান্নাত দান করুন ও তার পরিবারের সকলকে, আমিন।
[৩ বছর পূর্বে কমপ্লেক্সে প্রিয় মসজিদে ইতেকাফ বসেছিলাম তখন মোসলোউদ্দিন (খলাপাড়) দাদার কাছ থেকে শুনেছি আমিই প্রশ্ন করেছিলাম কে প্রথম শিক্ষক ও ছাত্র?]
এই শতবর্ষের দিনে এসে আমি বার-বার স্মরণ করতেছি এই ঐতিহ্যবাহী বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্সের আল জামিয়াতু সামসুল উলুম বালুয়াকান্দি মাদ্রসার সেই ১০০ বছর পূর্বের এই মাদ্রসার প্রথম শিক্ষক হাফেজ শাফি হুজুর(র) কে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেহনত দিয়ে গেছেন এই কমপ্লেক্সে।তার বাড়ি আমাদের পাশের গ্রাম করিমগঞ্জে। এই জামিয়ার প্রথম শিক্ষক ছিলেন তিনি।
১০০ বছর পিছনে আপনাদের নিয়ে যাব এখন। তখন মাদ্রসায় শুধু মক্তব ও হেফজ বিভাব ছিল।
হেফজ খানায় সেই যুগে প্রায় ৪০ জন ছাত্র ছিল। আপনারা জানেন যে, বর্তমানে পিচ্ছি-পিচ্ছি ছাত্ররা হাফেজ হয়ে যায়। সেই যুগে কয়েকটা গ্রাম খুজে ১-২ টা হাফেজ খুজে পাওয়া যেত। আর তখনকার ছাত্ররা ছিল বড়-বড় ও বয়স্ক।
বলতেছিল আমাদের এই মাদ্রসার কথা। শাফি হুজুর একলাই ছাত্রদের পড়াতেন ও মাদ্রসা দেখা-শুনা করতেন। কিন্তুু দুঃখের বিষয় কেহ পড়া-লেখায় মনোযোগ ছিল না,মনোযোগ বলতে হাফেজ হতে পারতেছিল না।তখন হাফেজ হতে খুবই কষ্টকর ছিল। একদিন শাফী হুজুর ছাত্রদের বললেন,বাবারা তোমারা কেন এখনও হাফেজ হতে পারতেছ না,কেন লেখা-পড়ায় মনোযোগ দাও না??
আল্লাহু আকবর। শাফী হুজুর দ্বীনের জন্য কি পরিমাণে উৎসর্গ করেছেন জানেন? তিনি চাইত কিভাবে ছাত্রদের লেখা-পড়ায় মনোযোগী করা যায়। আর সেদিন থেকেই ছাত্রদের মধ্যে শুরু হলো যুদ্ধ, প্রেম যুদ্ধ,হাফেজ হওয়ার যুদ্ধ।
শাফী হুজুর ছাত্রদের বললেন তোমাদের মধ্য থেকে যে প্রথম হাফেজ হতে পারবে তার সাথেই আমার অপরূপ রূপের রূপবর্তী একমাত্র আদরের দুলালীকে তুলে দিব ও বিয়ে দিয়ে দিব।
আর সেদিন থেকেই শুরু হলো ছাত্রদের মধ্যে লেখা-পড়ার প্রতিযোগিতা।আল্লাহু আকবর,তলেবুল এলম ছাত্র ভাইয়েরা লেখা-পড়ায় এতটাই মনোযোগ হয়েছিল যে তা শুধু কল্পনায় দেখতে পারি তাদের সেই সব রাত-জাগা মেহতনগুলো। আলহামদুলিল্লাহ, তারপর এই মাদ্রসার প্রথম হাফেজ হয়েছেন দোলোয়ার নামে এক ভাই তার বাড়ি হয় নীলক্ষা না হয় আলোকবালী, মনে হয় আলোকবালী।
তারপর শাফী হুজুরের মেয়ের সাথে হাফেজ দেলোয়ার ভাইয়েন বিয়ে হয় ও তাদের ছেলে-মেয়েদেরাও হাফেজ,হাফেজা , আলেম ও আলেমা হয়। তারপর থেকে যে কত জন হাফেজ হয়েছে তার হিসাব নাই। মনে পড়তেছে ১০০ বছর পূর্বের সেদিনের সেই দিনগুলো আজি শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের দিনে। আর এখন প্রতিবছর প্রায় ৩০-৪০ জন করে হাফেজ হয়, ২০-২৫ জন করে আলেম হয়।
এই শতবর্ষের দিনে এসে বার-বার স্মরণ করতেছি সেই প্রথম শিক্ষক হাফেজ শাফী হুজুরকে ও প্রথম ছাত্র হাফেজ দেলোয়ার ভাইকে। আর সেই শাফী হুজুর আমাদের এই বালুয়াকান্দির কবরস্থানেই জান্নাতের বাগানে ঘুমিয়ে আছেন।
হায় আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হায় আল্লাহ নিশ্চয় আপনি আপনার ওয়াদা ও পুরুষ্কার সেই হাশরের ময়দানে ঘোষণা করবেন। হায় আল্লাহ আপনার রাসূলের হাদিস কখনো মিথ্যা হতে পারে না ও আপনার বাণী :-
"আমি কোরআনকে হেফজ করিবার জন্য সহজ করিয়াছি, অতএব কেহ কি হেফজ করিবার মতো আছে? (সূরা কামার:১৭)
হায় আল্লাহ এই মাদ্রসা থেকে হাজার-হাজার ছাত্র হাফেজ হয়েছে আপনি তাদের সকলকে কবুল করুন সেই সাথে আমার দুই হাফেজ ভাইকেও। হায় আল্লাহ সাফী হুজুররের প্রতিদান হিসেবে আপনি তার কবরের আযাব মাফ করে দিন ও চিরস্থায়ী জান্নাত দান করুন ও তার পরিবারের সকলকে, আমিন।
[৩ বছর পূর্বে কমপ্লেক্সে প্রিয় মসজিদে ইতেকাফ বসেছিলাম তখন মোসলোউদ্দিন (খলাপাড়) দাদার কাছ থেকে শুনেছি আমিই প্রশ্ন করেছিলাম কে প্রথম শিক্ষক ও ছাত্র?]

Comments
Post a Comment