তারিখঃ১৫-০৯-২০১৯ইং
সময়ঃরাত ১২ টায়
আসসালামু আলাইকুম। স্নিগ্ধ জ্যোস্নার রজনীতে একা একলা নির্জনে-নিভৃতে ছাঁদে বসে তোমায় ভাবছি আর লিখছি ব্যকুল পরানের আকুল মিনতির তোমার প্রতি সত্য প্রেমের অমর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। চারিদিকে নীরবতা,স্তব্ধ,ঝিঝিপোকাদের গান আর নিকেতনের সামনের খোলা মাঠে শেয়ালগুলো ছুটা-ছুটি করছে।গ্রামে শত-শত শিয়াল, তারা সবাই আমাকে চিনে, প্রতিদিন রজনীতে ৫-৬ টা তো আমার সামনে পড়েই আর আমার লাইটের আলো তাদের চোখে নিক্ষেপ করি, তারপর লেজ লুটিয়ে পালিয়ে যায়। আর গ্রামের কুকুরগগুলোর ডাকা-ডাকিতে নীরবতার মাঝেও যেন ব্যস্ত এই চাঁদনী রাত। আর আমি ব্যস্ত তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের না বলার কথাগুলোর লেখা নিয়ে। মনোমুগ্ধকর অপরূপ গ্রাম যেন এই চাঁদনী রজনীতে নীরব হয়ে গেছে, থেমে গেছে সকল ব্যস্ততা,কাজ-কর্ম,জামিয়ার ছাত্ররাও ঘুমিয়ে গেছে, তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ আর শুনা যাচ্ছে না।
বাজারের দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে, সেই দশটা বাজে এক কাফ কফি খেয়ে এসেছিলাম। তারপর ছাঁদে এসে চাঁদ দেখতেছি, চন্দ্রকে উপভোগ করতেছি ,কত সুন্দর এই হিমাংশু? শুধু বলা যায় মনোহর,সুন্দর, অপরূপ। ইউটিউব থেকে চাঁদ সম্পর্কে অনেকগুলো ভিডিও ডাউনলোড দিয়ে ছিলুম সেগুলো দেখলাম।আর সেই সাথে সারা বিশ্বে উত্তেজনার ঢেউ বয়ছে ভারতের " চন্দ্রঅভিযান-২" নিয়ে, সেই চন্দ্রঅভিযান নিয়ে কয়েকটা ভিডিও দেখলুম। চাঁদকে দেখছি আর ভাবছি এই মুহুর্তে বিক্রম চাঁদের মাটিতে কোন অবস্থায় আছে।অবশেষে ইসরো বিক্রমের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারল না, ফলে চন্দ্রঅভিযান-২ ব্যর্থ!! চাঁদকে খুবই ভালোবাসি যখন তার স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে দেয় এই ভবে। এশার নামাজ পড়তে গিয়েছিলুম তখনও কমপ্লেক্স এর মসজিদের বারান্দায় দাড়িয়ে চাঁদকে দেখতে ছিলুম।
ওগো প্রিয়তমা! এই চাঁদনী রাতে জেগে আছি রাত জাগা চাঁদের মতো, রাত্রি জাগা পাখির মতো। পল্লীর সকলেই ঘুমে বিভোর, হয়ত তুমিও। আর আমি ব্যস্ত তোমায় লিখব বলে লিখা নিয়ে। আজ এই জ্যোস্নার রাত্রিতে সব লিখে যাব, বলে দিব মনের সব কথা। এই চন্দ্র সাক্ষী থাকিবে,যুগ-যুগান্তর ধরে এই রাত্রি অধীর অপেক্ষায় ছিল, এই রজনীতে চন্দ্রের স্নিগ্ধ আলো ছড়াবে আর সেই আলোতে লিখে যাব মনের কথাগুলো। এই চাঁদ আমায় দেখেছে, তার সাথে জেগে-জেগে প্রিয়তমকে লিখেছি চিঠি। একদিন যবে সকল বাঁধন ছিন্ন করিয়ে চলে যাব ঐপাড়ে তখনও সে আমায় মনে রাখবে,মনে রাখবে অনন্তকাল।তোমায় নিয়ে অনেকগুলো কবিতাই রচিয়েছি তার মধ্যে " অপরূপ চাঁদ" কবিতার কথাটা মনে পড়তেছে। সেই সাথে " সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে" কবিতার কথাও মনে পড়তেছে। আর মনে পড়তেছে বিজয়ী কবিতার কথাও, " সারাটি রাত্রি তারাটির খুঁজে" কবিতাটি ভারতবর্ষের একমাত্র ফেইজবুক গ্রুপ " ত্রিপুরা বাংলা সাহিত্য" এর ৮ম সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতায় আমার এই কবিতাটি বিজয় হয়েছিল। ভারতের কবিদের মাঝ থেকে আমার কবিতাটি বিজয় হওয়াতে পুলকিত হয়েছিলুম। সত্যি তুমি চাঁদের চেয়ে অপরূপ নন্দিনী। আকাশ যেমন তার বুকের ঐ চাঁদকে নিয়ে গর্ব করে ঠিক আমিও আমার মন আকাশের উদিত হওয়া তুমি নামের অপরূপ চাঁদকে নিয়ে গর্ব করি।
ওগো অপরূপ রূপের রূপবর্তী! ওগো পল্লীর রাণী!! শুধু চাঁদের সাথেই কথা বলতেছি না, ঐ দূর আকাশের তারাটির সাথেও কথা বলতেছি।আমি আকাশের সকল তারাদের চিনি, হয়ত তাদের নাম জানি না, তবে একেকটা তারার একেক নামকরন করিয়াছি। কোন ঋতুতে কোন তারাটা কোন দিকে উদিত হয় তা বলে দিতে পারি। নিকেতনের উপর বরাবর যে তারাটা দেখা যায় সেটা আমার নামে নামকরন করেছি আর দখিনে তোমাদের গৃহের উপর বরাবর যে তারাটি মিটি-মিটি করে জ্বলে সে তারাটিকে তোমার নামে নামকরন করেছি। দুটি তারা খুবই কাছের, সতত প্রজ্বলিত হয়, মিটি-মিটি জ্বলে, নাচে, হাসে, দৌড়ায়, কত না লোকোচুরি করে। এত কাছের হয়েও তারা একে অপরকে চিনে না, জানে না। ঐ তারাটিকে অন্য গ্রহে, অন্য তারারা নিয়ে যাওয়ার জন্য টানা-টানি করে।আর আমি ঐসব তারাদের সনে গ্রহদের সনে বিগ্রহ করিতেছি। এই তারা যেন আমার কাছেই অনন্তকাল প্রজ্বলিত হয়, তার দীপ্তীতে যেন আমার মন আকাশ আলোকিত হইয়া যাই আর সেই আলোতে যেন আমি স্বত্বিবোধ করি এটাই চির কাম্য।
ওগো নন্দিনী! ঐ দুটি তারা নিয়ে কতনা কবিতা রচে যায়, গেয়ে যায় কত না গান? চোখের জল শুকিয়ে যাবে তবুও ঐ দখিনের তারাটির কবিতা লেখা শেষ হয় না! তারাটির রূপে যেন আমি মুগ্ধ, বিমোহিত, অপ্লুত। তারাটির রূপের দৃপ্তিতে তৃপ্ত হয় না এই ব্যকুল পরান, তারাটি এতই রূপবর্তী। তার রূপে চোখ জ্বলে যায়,সে যেন ঐ হিমাংশুর সব রূপ শুষে নিয়েছে, নিয়ে গেছে সব সৌন্দর্য। ঐ তারাটি যেন আমার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়াছে। যেদিন থেকে তারাটিকে দেখি মন আকাশে অন্তর আর বাহ্যিক চক্ষু দিয়া সেদিন থেকেই দিশেহারা। এই তারাটির জন্য অপেক্ষা ছিলুম বহু দিন-রাত, মাস, বহু বছর।কখন যে মোর হৃদ আকাশে উদিত হবে, কখন তারে দিখব??
তুমি বল, বল প্রিয়তমা!ঐ তারাটিকে তাকিয়ে দেখা কি অন্যায়?তারে নিয়ে কবিতা লেখা কি অন্যায়? গান লিখা, সেই গানে সুর দেওয়া কি অন্যায়?তুমি বল, যদি তারাটির কাছে গিয়ে তার চরনতলে লুটিয়া পড়িয়া যদি ভিখ চাই সেটা কি অন্যায়? তারাটির দৃপ্তিতে যদি মোর তমিস্রা হৃদয় ভূবন আলোকিত হয়, আর সেই আলোতে যদি আমি বাঁচতে পারি, তাহলে সেটা কি অন্যায়? যদি তারাটির সনে তৃষ্ণার্ত মনের মিনতিগুলো পেশ করিয়া আমি স্বস্তি পায় তাহলে সেটা কি অন্যায়? যদি বকুল পুষ্প কুড়িয়ে সেই পূসুন দিয়ে মাল্য বানিয়ে তার নরম হস্তে সেই মালা তুলে দেয় তাহলে কি অন্যায়? যদি তারাটির ছুটা-ছুটি দেখে তার পিছু ছুটিয়া চলি সেটা কি অন্যায়? তুমি বল, এই দু'চোখের কি অন্যায় হয়েছে তারাটিকে দেখে। জানি, সবগুলো প্রশ্নের উত্তরে বলিয়া ওঠিবে কখনো নহে, কখনো অন্যায় হয় নি।
সালাম বর্ষিত হোক তোমাতে আর সেই সাথে সকল উম্মাহর যুবতীদের উপর। রাত্রি জেগে-জেগে লিখলুম তোমার প্রতি,তেমাতে মম এই অবুজ মন কেন যেন বারে-বারে ছুটে চলে আর সেই সাথে এই তৃষ্ণা ব্যকুল হৃদয় তোমার ঐ পরাণের সনে মিলন্তন হতে চাই। এই অশ্রু ভেজা নয়ন কোমল,সিক্ত,আর শান্ত হতে চাই তোমার দৃষ্টির উপর দৃষ্টি রেখে। ঐ কাজলমাখা দু' আখি দেখে যেন শুষ্ক হয় মম এই অশ্রুভেজা নয়ন। আর ভিতরের কান্না যেন থেমে যাবে শুনে তোমারও রাঙ্গা পদের নূপুরের ঝুম-ঝুম ধ্বনি শুনে। সেই সাথে যবে তোমার নরম হস্তখানি মোর হস্ত ছোয়ে দিয়ে যাবে তখন যেন এই কলেবর শান্ত হবে, কম্পন থেমে যাবে, অশ্রু ঝড়া থেমে যাবে আর শান্ত হয়ে এই অবুজ হৃদয়।আর তোমা ঐ সুখের হাসি মোর সব ব্যথা-বেদনা ভুলিয়ে দিবে, মুছে দিবে যত মোর নয়ন জল।
কল্যানীয়া প্রয়সী, তোমায় খুব মনে পড়ছে, মনে পড়ছে বারে-বার সেইসব দিনগুলো!যবে মনে পড়ে যায় তখন তোমায় ভেবে মনের ভাব ব্যক্ত করি তারপরে ব্যথাগুলো প্রশমিত হয়। ওগো নন্দিনী,মনে পড়ে কি, পড়ে কি স্মৃতিগুলো গহীন হৃদে?বহু প্রহন কাঁটিয়েছি, কাঁটিয়েছি বহু বছর তোমা বিহীন একলা একাকীত্ব। ওগো, ঐ অন্তঃরীক্ষ আর কতটুকু প্রসারিত,তার চেয়ে বেশি প্রসারিত মোর এ পূত হৃদয়! ঐ মহা অর্নব আর কতটুকু গহীন? তারচেয়ে বেশি গহীন মোর এ হৃদয়।কল্যানীয় প্রয়সী! তোমা চিঠি আর পাই না, পাই না তোমা দেখা, দেখি না তোমা সেই পরশমাখা হাসি, এই নয়ন দেখে না তোমা মায়াবী ঢল-ঢল কাজলমাখা আখি, এই কর্ন আর শুনিতে পাই না তোমা সেই ঝুমুর-ঝুমুর নূপুরের ধ্বনি। শুনি না আর তোমা শান্ত নরম মুখের নরম ধ্বনি। কত বসন্ত আসে আর যাই তবু তুমি আর আস না। তোমাতে লুকায়িত মোর যত স্মৃতি আর মায়া। তোমাতে খেলছে,উড়ছে মোর চপল আবেগী মন।
ওগো প্রয়সী! তুমি ভুলে গেলে এত সহজে স্মৃতি? আজি মোরে সেই স্মৃতিগুলো কাঁদায়।
কল্যানীয়া প্রয়সী! রজনীর ঐ অন্তঃরীক্ষের প্রতিটি তারাকে আমি চিনি, তাদের একেকটা নাম আমি দিয়াছি, কোন ঋতুতে তারা উদিত হয় তা আমি জানি! আমি দেখিয়াছি গভীর রাতে কোন কোন তারাগুলো বেশি উজ্জ্বলিত হয়। ঐ তারাগুলোকে একেকটা কবিতা উৎসর্গ করিয়াছি শুধু তোমা জন্য। আর ঐ চন্দ্রকে বলিয়াছি তোমি তাে তার চেয়েও বেশি রূপের রূপবতী নন্দিনী। জেগে থাকি রাত জাগা চন্দ্র,তারা আর পাখির মতো শুধু তোমার অপেক্ষায়। প্রতিটি বসন্তকে বরন করি কতনা কব্য, কবিতা লিখে, নববর্ষ কে স্বাগতম জানাই কবিতা দিয়ে শুধু তোমার জন্য। মোর বিরহিনীর ব্যথার সুর বাঁশির বুক ফেটে ধ্বনিত হয় শুধু তোমা লাগি। এমন একটি দিন, একটি রজনী খুজে পাই না যে তোমায় ভেবে নি?তোমার কথা স্মরন করে নি?
চির সুখের প্রেম তুমি মোর বান্ধবী,আমি চাই তোমা সুখ,তোমায় ভালো। তাই তো আজ এত ব্যবধান। যেথায় থাক না কেন, তোমায় কল্যাণ কামনা করি, কামনা করি তোমা উন্নতি। তবু তুমি থাক চির সুখে।
ওগো মোর স্বপ্ন-সহচারী!তোমায় স্বপ্নে পেয়ে স্বপ্নে হারিয়েছি বারে-বারে।আর আজি যখন স্বপ্ন-সহচারীকে নয়ন সম্মুখে পেয়েছি তখন কি তাহারে আর হারানো যায়, যায় কি হাতছাড়া করা ?ওগো মোর স্বপন ঘরের স্বপ্ন-সহচারী! তুমি যে এত কাছে ছিলে তা কখনো জানা ছিল না, ছিল না মোর কল্পনাতে। দু'চোখে দূরত্ব খুবই অল্প কিন্তুু এক চোখ আরেক চোখতে দেখিতে পারে না।ঠিক তুমিও গো পূনয়িণী এত অল্প ব্যবধানের, এত কাছের হয়ে, একই পল্লীতে হয়েও তোমায় দেখিতে পেলুম না। কোনো এক বিকেলে(১০ মাস পূর্বে) তোমায় যবে এই নির্জনে-নিভৃতে এই মোর সবুজের লীলাভূমির নিকেতনের সামনের পথে যবে নিদ্যানিকেতন থেকে গৃহে ফিরে যাচ্ছিলে। আর তখনই ভালোলাগা, ভালোবাসা, আর তখনই স্বপ্ন-সহচারিণীর দেখা মিলল। ওগো মোর কাব্যের রাণী! কত পথে-ঘাটে-বাটে, কত নির্জন নিভৃতে, কত অরন্যে তোমায় খুজেছি কিন্তুু পাই নি। কত রজনীতে তোমায় ভেবেছি, কত বার তোমায় কল্পনাতে তোমায় নিয়ে কত ভাবনায় বিভোর হয়েছি, তোমায় নিয়ে খেলেছি, রচিয়েছি কত গল্প,কবিতা??
১৬-০৯-২০১৯ ইং( রাত ১১ টায়)
ওগো স্বপ্ন-সহচারিণী!গত রাতে লিখতে-লিখতে রাত একটা বেজে গিয়েছিল, তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলুম।আজ রজনীতে আবার লিখতে শুরু করলুম। আজ ১১ টায় লিখতে শুরু করলুম। সারা রাত লিখতে পারব, তবুও লিখা শেষ হবে না। চন্দ্র পূর্ব-আকাশে হাসি দিয়ে তার কিরন ছড়াচ্ছে। এই চাঁদ ভোরে পশ্চিশ আকাশে গিয়ে ডুবে যাবে। রাত দিনের মধ্যে প্রবেশ করিবে তবুও মোর লেখা শেষ হবে না। তুমি এমনই একজন যার কথা, রূপের গুনগান আমি লিখে যাব আমৃত্যু, তুমি আমার সাহিত্য, আমার কাব্য-কবিতা, গল্প, উপন্যাস সবই তুমি।
মূল কথায় এখনও আসে নি, লিখেনি সেই লেখা যা লিখার জন্য,বলার জন্য ব্যকুল হয়ে আছি। সূচনা কোথা থেকে শুরু করব তা খুজে পাচ্ছি না, মোর হাতে, কলমে,লিখনিতে যে শক্তি সেই শক্তি যদি মুখে থাকিত,বক্ষে হিম্মত থাকিত তাহলে হয়ত লিখতাম না। তোমায় সেই সব মনের লেনা-দেনা,আমার ভাষা তোমার কর্নে পাঠিয়ে দিতাম।
তুমি বিশ্বাস কর মোরে,আমি ভীতু, আমি বলার বেলায় দূর্বল,পিছু হাঁটার সময় পদে কম্পিত শুরু হয়ে যায়, বলার বেলায় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়,চোখে তাকিয়ে দেখার সময় নয়নে লজ্জার ছায়া নেমে আসে। যখন পরিচিত হতে যাব এবং পরিচিত হব এই বলে যে; " হায়" তখন ভিতর থেকে কে যেন বলে ওঠে " বিদায় " তখন আর সেই " Hi " বলা হয়ে ওঠে না, ফিরে আসি, এভাবে বারে-বার, প্রতিনিয়ত। এই যে আমার পরাজিত এটা শুধু তোমার বেলায়।প্রতিটি নন্দিনীদেরকে ভয় পায়,খুব বেশি, লজ্জায় যেন রক্তিম হয়ে যায়। যে মেয়েকে জীবনে কখনো দেখি নি সে মেয়ের বেলাতেও এরকম হয়, লজ্জায় বিভোর হয়ে যায়। আমি আমার বিষয় সম্পর্কে অবগত, কোথায় আমার দূর্বলতা, কোথায় সবলতা। এই বিংশ শতাব্দীতেও যে আমি এরকম তা ভেবে নিজের কাছেই অবাক লাগে। এই আধুনিক যুগেও কেন যেন পূর্বের যুগের বৈশিষ্ট্য আমাতে দেখিতে পায়? যখন দেখি কোনো নির্জন জনশূন্য পথে কয়েকজন পথিক যারা মেয়ে তারা হেঁটে যাচ্ছে, তাদেরকে দেখিয়া তখন অন্য পথের পথিক হয়ে যায়। অথচ আমার পথ চলার উদ্দেশ্য ছিল এই পথেই!কিন্তুু ভয়ে, লজ্জায়, তাদের দেখে পথ পরিবর্তন করিতে বাধ্য হয়। আমি আমার গুন কৃর্তন করিতে চাচ্ছি নহে বরং বলিতে চাচ্ছি, আমি তোমাদের কাছে পরাজিত, ভীতু, লজ্জাময়ী তনয় ইত্যাদি।
ওগো মোর প্রিয়তমা!তোমায় পহেলা এই আঁখি সামনে দেখি আজি প্রায় ১০ মাস হয়ে যাচ্ছে। অথচ........ তোমার সনে কথা বলার হিম্মত অদ্যাপি অর্জন করিতে পারিলুম না। তারপরও কি বলার প্রশ্ন রাখে আমি কে?? আমি কতটুকু ভীতু? অথচ আমার কলমের যে শক্তি সেই শক্তি দিয়ে একটা জাতিকে,সমাজকে, একটা দেশকে জাগিয়ে তুলার ক্ষমতা ইনশাআল্লাহ আছে। কিন্তুু কোনো ঘুমন্ত মেয়েকে জাগিয়ে তুলার সেই শক্তিটুকু মুখে নাই। আর কিভাবে একজনে সামনে গিয়ে পেশ করিব মনের ভাবার্থগুলো, মনের কথাগুলো,ভালোলাগার, ভালোবাসার অনুভূর্তিগুলো??? কিন্তুু এই কাজগুলো যে পারি না তা কিন্তুু নহে। খুব বেশি পারি, তবে তা কলম আর কগজের সনে, নিজের লাইব্রেরিতে বসে, নীরব নির্জনে-নিভৃতে কাননে বসে খুব পারি এই ভাবার্থ ব্যক্ত করিতে।এই ভাবার্থ ব্যক্ত করিতে পারি সখা আর সখীদের সনে।সোশ্যাশ মিডিয়াতে খুব বেশি সেলেব্রেটি!!সেই হাজার-হাজার বন্ধুদের সাথে মনের ভাবার্থ ব্যক্ত করিতে পারি কিন্তুু পারি না তোমার সনে।
আমি সৌন্দর্যের পূজারী। সৌন্দর্যকে খুব ফুটিয়ে তুলতে পারি এবং যেকোন একটি বিষয়কে সহজে ফুটিয়ে তুলতে পারি সকলের সামনে, সকলের কাছে। কিন্তুু ফুটিয়ে তুলিতে পারি না তোমাতে যে আমার লোকোচুরি, হামেশা ভাবনা, কল্পনাতে ঘুরাঘুরি সেই বিষয়টা। মন রাজ্যে রাজত্ব করিতে পারি কিন্তুু সেই মন রাজ্যের যে রূপবর্তী নন্দিনীকে দু'চোখে খুব বড় বেশি ভালো লাগিয়াছে সেই ভালোলাগার বিষয়টি বলিতে পারি নহে।ওগো বান্ধবী মোর!কালি দাস দীর্ঘ পনের বছর কাটিয়ে দিয়েছিল তার প্রিয়তমকে দেখিয়ে। তোমায় সবে মাত্র দস মাস দেখিয়া কাঁটিয়া দিলুম। তুমি বিশ্বাস কর ১০ বছর কাঁটিয়ে দিতে পারিব।আর এটাই প্রেম এটাই ভালোবাসা। এটাই সত্য আর প্রকৃত ভালোবাসা। এটাই সেই লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ,কবিগুরু, প্রেমিক কবি নজরুল আর নার্গিসের ভালোবাসা। আমি বাহ্যিক চক্ষুর ভালোলাগার, ভালোবাসার কথা বলিতে চাচ্ছি না, এই বাহ্যিক চোখের ভালোবাসা এটা ভালোবাসা নহে বরং তা ভালোলাগা আর সেই ভালোলাগা যৌবনের তৃপ্তি মেটানো মূল লক্ষ যা এই বিংশ শতাব্দীর যুবক-যুবতীদের মধ্যে হয়।এটা তো ক্ষনিকে জন্য শুধু, এই ভালোবাসার স্থায়িত্ব কতটুকু জান? যবে নন্দন তার ভালোলাগার নন্দিনীর মহা মূল্যবান লজ্জা,ইজ্জত নিয়ে নিবে, নন্দন তার যৌবন ক্ষুদা মিটিয়ে ফেলিবে আর তখনই এই ভালোবাসার সমাপ্ত হয়ে যায়।হায় মোর বিংশ শতাব্দীর প্রেম-পিরিতি-ভালোবাসা!!!এটা ভালোবাসা কখনো হতে পারে না। ওগো নন্দিনী! আমি শত-শত ভালোবাসার গল্প শুনিয়াছি। আমার সনে অনেকে তাদের ভালোবাসার গল্প শেয়ার করেছে আর সবগুলো ভালোবাসাই এই ভালোবাসার মধ্যে পড়ে যা উপরে বলিয়াছি।
কিন্তুু একটা ভালোবাসার গল্প দেখিয়াছি, শুনিয়াছি,নিজে ঘটিয়েছি বাহক হয়ে এবং সেই ভালোবাসার ঘটনা হয়ত তুমিও জান!!
[১ ঘন্টা যাবৎ লিখেছি এখন ১২ ট ১২ মিনিট বাজিয়াছে, ঘুমিয়ে পড়ি,তা না হলে ফজর নামাজ মিস হয়ে যাবে গতরাতের মতো]
তারিখঃ১৭-০৯-২০১৯ ইং( সকাল ৯:৩০ মিনিট)
তুমি হয়ত জান যে, গ্রামের এক নন্দিনী সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামে প্রবেশ করেছিল। আর সেই তনয়া মোর প্রিয় বান্ধবী আর যাকে চির জীবন সঙ্গিনী করেছেন সেই তনয় মোর বন্ধু। আমি ছিলাম ফাস্ট বয় আর সেই মেয়ে সেকেন্ড গালর্স ছিল দশম শ্রেনিতে। আমরা মানুষকে সত্যের পথে আহব্বান করিতে থাকি আর সেই সত্যকে যদি সত্য বলে মেনে নেয় তাহলে কখনো তা অন্যায় নয়।আর সেই ভ্রান্ত পথের পথিক মেয়েটির বেলাতেও তাই ঘটেছিল। আমি ও আমরা তাকে সত্য পথ দেখিয়েছি আর হেদায়েতের মালিক তো মহান আল্লাহ। অবশেষে সেই মেয়ে হেদায়েত পেয়েছে। সত্য ও সর্বকালের ধর্ম ইসলামে যে কেহ প্রবেশ করিতে পারে তাতে বাঁধা নেই। আল্লাহ থেকে চির জান্নাত দান করুক। আর সে তো সফলকাম হয়েই গেছে। আজ আর নাম হয়ে গেল " জান্নাতী" অথচ পূর্বে সে ছিল মূর্তিপূজারী আর এখন আল্লাহর পদতলে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে।
বলতেছিলাম যা, এই তাদের ভালোবাসাটাই সত্য ছিল। এরকম ভালোবাসাই পারে ভালোবাসার মূল দিতে। গ্রামের এবং অনেকেই হয়ত বলিয়াছে যে, ভালোবাসার জন্য মেয়েটি মুসলিম হয়ে গেছে তা কখনো না বরং আমিই তো তা ভালো জানি।
ওগো কল্যানিয়াসু! তোমার প্রতি মোর ভালোবাসা সত্য,আজীবন,অভিরাম!!!ভালোবাসা বলিতে এটা নয় যে, একে অপরের প্রতি দূর্বল হয়ে যাওয়া, না পাবার ভাবনায় পড়িয়া ব্যকুল ও পেরেশানী হইয়া যাওয়া। ভালোবাসা এটা নয় যে, জীবনের মহা মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করে দেওয়া এই ভাবনায় পড়িয়া। প্রকৃত প্রেমিকরা তা কখনো করে না বরং বিংশ শতাব্দীর প্রেমিকরা তা করিয়া থাকে। ওগো প্রিয়সী!তোমায় ভালোলাগে আর সেই ভালোবাসা শুধু আল্লাহর জন্যই। আজি কেন জানি স্কুল জীবনের সেই স্মৃতিগুলো খুব বেশি মনে পড়িতেছে?বন্ধু-বান্ধবী, সহপাঠী সকলেই আমায় বিরক্ত করে ফেলত,শুধু এই জন্য যে, আমার চোখে কোন নন্দিনীকে ভালোলাগে, কাকে ভালোবাসি?আজ বার-বার ইচ্ছে করতেছে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।
আমি কল্পনায় তোমাকে খুজতেছিলাম, খুজতেছিলাম এমন একজনকেই যে, খুব কাছের হবে, একই পল্লীর হইবে, যাককে প্রত্যহ দেখিতে পারিব।
তোমায় নিয়ে যে কাব্য " সত্য প্রেমের অমর কবিতা" রচিয়েছি সেই কাব্যই আমার জীবনের প্রথম। একদিন আমি থাকিব না এবং তুমিও? চিরতরে নীরব নিভৃতে ঘুমিয়ে থাকিব কমপ্লেক্স এর বৃহত্তম কবরস্থানে। কিন্তু প্রিয়সী, তোমাকে ও আমাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখিব এই কাব্য এই কবিতায়। আমার না হয় চির সংবরণ হবে কিন্তুু আমার লেখার, কবিতার তো মৃত্যু হবে না। কল্যানিয়াসু!তুমি বিশ্বাস কর আমি আমার নফসের সাথে এই আয়াদা করিয়াছি, আমার চক্ষুকে এই বলিয়াছি যে, কোনো মেয়ের দিকে একবার ভুলবশত দৃষ্টি গেলেও দ্বিতীয় বার যেন আর তাহার দিকে দৃষ্টিপাত না করে আর এই বিষয়টিকেই আমাদের ধর্মে ও হাদিসে বলিয়াছে যে তাহা কবীরা গুনাহ!!আর যদি এই বিষয়টি কেহ মানিয়া চলে তাহলে এই যে দ্বিতীয় বার সে ইচ্ছা করে দৃষ্টিপাত করিল না তার বিনিময়ে প্রভু তাহার আমল নামায় দশ হাজার রাকাত তাহাজ্জুতের নামাজের নেকি অর্পিত করিয়া দিবেন। অথচ এই ফল লাভ করিতে সময় লাগে এক সেকেন্ড। তুমি বিশ্বাস কর, আমি ইহা মানিয়া চলিতে চেষ্টা করি কিন্তুু শুধু তোমার বেলাতে তা পারি না। তুমি বিশ্বাস কর মোরে, আমার চোখে তুমি সেই নন্দিনী যার দিকে বারে-বারে দৃষ্টিপাত করিলেও তবুও চোখের তৃপ্তি মিটে না প্রিয়!! চোখকে বারে বার বুজিয়াছি কিন্তুু চক্ষু তাহা বুজিতে চাহি নহে। ওগো প্রিয়!আজ আমার চক্ষু আমার চির শত্রু হয়ে গেছে। যদি এই চক্ষু তোমায় না দেখিত তহলে কখনো এমন হইত না।
কল্যানিয়াসু!তোমাকে না দেখার পূর্বেও যেন কোথায় দেখিয়া ছিলুম মোর অন্তর চক্ষু দিয়া।তোমাকে যেন আজি জম্মে-জম্মে চিনি। তুমি বিশ্বাস কর, তুমি আসিলে দখিনা পবনে তোমার সুভাশ পাই।তুমি আসিলে তোমা নূপুরের ঝুম-ঝুম ধ্বনি মোর কর্নে বাজে। তোমা এলো চুলের গন্ধ মোর নাসিকাতে লাগে।যদি ঘুমিয়া থাকি তবুও। হা হা হা! একটা ঘটনা মনে পড়িয়া গেল, কোনো একদিন জোহরের নামাজ পড়িয়া কমপ্লেক্স এর মসজিদে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। তাছাড়া আমার একটা বালিশ মসজিদেই রেখে দিলুম, মাঝে-মাঝে ঘুমাই। পড়ে ঘুমিয়ে গেলুম, প্রায় দুই ঘন্টা ঘুমিয়েছিলুম। ঘুম থেকে ওঠিয়া দেখিলুম চারটা বাজিয়া গেল তার মানে বিদ্যানিকেতন ছুটি হইয়া গেছে, তোমাকে আজি দেখিতে পারিব না!! যখন কাঠ বাগানে এলুম তখন ঠিকই তোমায় দেখিতে পেলুম।ইস যদি আর কয়েক মিনিট পর ঘুম ভাঙ্গিত তাহলে তোমায় মিস করিতাম।
প্রিয়তমা,তুমি যে ভূমিতে তোমার চরন রাখ তা আমি বলে দিতে পারব,কোন পথে, কোন জমিনে তোমার চরন চিহ্ন পড়িয়াছে। তোমার জগতের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে প্রবেশ করিয়া গেছি। এটাই ভালোবাসা, এটার সকলের বেলায় কখনো হয় না যদি না সে প্রকৃত ও সত্য প্রেমিক না হয়। আমি বলিয়া দিতে পারমু,কোন দিনে কে তোমায়, কোন নন্দন বিরক্ত করিয়াছে,কোথায় কে তোমার প্রতি দূর্বল হয়ে গিয়াছিল।কোন ছেলে কোন পথে কতবার তোমার পিছু হেঁটেছিল, সে যা যা বাক্য ব্যক্ত করিয়াছে সেসব ভাষা আমার কর্ন শুনিয়াছে। কোন ছেলের সনে কোন সময়ে কোথায় তোমার কথা হয়েছিল, তুমি কোথায় কার সনে দেখা করিতে গিয়াছিলে তাও বলতে পারি।বলতে পারি কোন দিন কোন ছেলে তোমার জন্য অপমানিত, অপদস্ত এবং ব্যথা পেয়েছিল। কোন ছেলে কোন দিন তোমায় দেখে ব্যকুল হয়ে তোমার পিছু ছুটেছিল এবং এই আবেগী হস্য প্রেমের সূচনা হয়েছে।
কোন ছেলে কবে তোমার সনে দেখা করার জন্য গিয়েছিল। তুমি কোন ছেলের সনে ফোনে কি কথা বলিয়াছ কি কি মেসেজ করিয়াছ তা সব বলে দিতে পারব। বলে দিতে পারব তোমার দূর্বলতার বিষয়গুলো। কবে কোন সময় তুমি ব্যকুল হয়ে গিয়াছিলে। কতবার দেখা করিয়াছ সব বলে দিতে পারিব।কোন তনয় কোন পথে তোমার পিছু হেটেছে তাও বলে দিতে পারিব। বলে দিতে পারিব কোন ছেলের কাছে তোমার প্রতিবিম্ব আছে!!! বলে দিতে পারিব সব অজানা বিষয়।তোমার চক্ষুর ভাষা বলে দিতে পারব।কোন দিন কোন সময়ে তোমার মুখে হাসি ফুটেছিল তা বলে দিতে পারিব। কোন দিন কোন সময়ে তোমার চোখের লোনা জলে নয়নের কাজল মুছে গিয়েছিল তাও বলে দিতে পারিব। হা হা হা!!অবাক হয়ে গেলে, ভয় পেও না গো!!
নির্জনতার কবি জীবনানন্দ, গাছের পাতা পড়িলে যে শব্দ হইত তাও শুনিত। আর আমি তো তার চেয়ে বেশি। তোমার হৃদস্পন্দনের আওয়াজ আমি এত দূর থেকেও শুনিতে পাই। তোমার এলো চুল যবে বাতায়নে উড়ে সেই উড়ার ফিস-ফিস শব্দ আমি শুনিতে পাই। আমি তোমার এত কাছের হয়ে গেছি যা কল্পনার বাহিরে যা ভাবা যায় না। এই যে এত সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর কথা বলে দেওয়া যায় এটা তখনই সম্ভব হয় যখন কেহ খুব কাছের একজন হয়ে যায়।প্রিয়সী, আমি এত কাছের হয়েও সেই সব মনের কথা তোমায় বলিতে পারিলাম না আজও। এত কাছের হয়েও তোমায় প্রায় ৯ বছর পর তোমায় পহেলা দেখিলাম এই গ্রামে। এই যে, খুব কাছের বস্তুু কিন্তুু দেখা যায় না, আমাদের বিজ্ঞান বলে যখন কোনো বস্তুু চোখের খুব নিকটে থাকে তা অস্পষ্ট দেখা যায়। এর প্রমান তো আজি পেলুম। তাছাড়া দু' চোখের ব্যবধান কিন্তুু অল্প তবুও এক চোখ অন্য চোখকে দেখিতে পারে না।
প্রিয়তমা, তোমায় ভালোবাসি আর সেই ভালোবাসা সত্য, পবিত্র, অনন্তকাল।বন্ধুকে বলেছিলাম, মনের এই কথাগুলো। বন্ধু বলিল ; সামনে গিয়া সব বলে দাও মুখের ভাষা উদগিরন করে দাও। আরো বলেছিলাম ফেইজবুকের দুই বান্ধবীরও তারাও একই কথা বলিল। বলেছিলাম ঘরের সাথের বড় দুই আপুর সাথে তারাও একই জবাব দিল, পাশের এক ভাবীকেও বলেছিলাম একই কথা বলিল। যখন বহু মাস পর বন্ধু বলিল, বলিয়াছি কি না, তখন মোর উত্তর শুনিয়া বকা শুনিতে হইল। তারপর বন্ধু একদিন দেখিল বাগানে অপেক্ষায় আছি তোমায় দেখার জন্য, বন্ধুকে ডাকিয়া লইয়া আসিলাম। বন্ধু তোমায় দেখিল, কিন্তুু বন্ধু আমার ব্যকুল হইয়া আরো বকা-বাজি করিতে শুরু করিল কেন এখনও বলে দিচ্ছি না। এত সুন্দর, অপরূপ নন্দিনীকে কিভাবে হাতছাড়া করা যায়?বন্ধু আমার সত্য বলিয়াছে। কিন্তুু আমার বুকে কত আশা,বুকে কত ভয়,আমার ব্যকুলতায়,আমার চাহনিতে হলো না তো তোমার হৃদয় ক্ষয়!যে চোখের ভাষা বুজিতে পারে না তাকে কি মুখের ভাষা আর পত্রের ভাষা দিয়ে সেই কথা বুজানো যাবে?
তুমি বিশ্বাস কর, পূর্বে কখনো কোনো নন্দিনীকে দেখার জন্য পিছু হাঁটিনি, দেখার অপেক্ষায় থাকি নি! শুধু তুমিই যাকে দেখার জন্য এত ব্যকুল।প্রিয়তমা! কমপ্লেক্স এর দুটি বকুল পুষ্পের বৃক্ষ আছে। কোনো একদিন ফজর নামাজ পড়িয়া বকুল পুষ্প কুড়িয়ে ছিলাম এই জন্য যে, তাজা ঝড়া বকুল পূসুন দিয়ে বকুল পুষ্পের মাল্য বানাব। ফুল আমি ঠিকই কুড়িয়েছি, মালাও বানিয়েছি কিন্তুু তোমাকে আর দেওয়া হলো না। তোমায় দেখে-দেখে নীরব নিভৃতে বসিয়া,কোনো দিন গভীর রজনীতে জাগিয়া কবিতা রচিয়াছি ঠিকই কিন্তুু সেই কবিতা তোমাকে শুনানো হলো না, দেওয়া হলো না তোমার নরম হস্তে। শুধু কল্পনাতে কল্পনা করিয়াছি, সেই কাব্য তোমায় দিব, তুমি অধীর আগ্রহে গৃহে ফিরিয়া সেই কাব্য নিয়ে একা একলা রুমে বসিয়া তোমার কবিতাগুলো পড়িবে যা তোমায় নিয়ে রচিয়াছি। আর তোমার এলো অলক দু'দিক দিয়ে কবিতার কাগজে উড়িবে, কেহ যেন না দেখাতে পারে সেজন্য দরজাটা বন্ধ করিয়া দিবে। পড়িয়া বলিবে সুন্দর, নান্দনিক,অপরূপ,অনুপম, মুগ্ধকর!!!!
প্রিয়তমা, এই মনোমুগ্ধকর পল্লী আলো-বাতাসে বড় হয়েছে, সুতরাং এই পল্লীতেই জনম-জনম থাকিও, কারো হাত ধরিয়া দূরে কোথাও অন্য গায়ে গিয়ে নীড় তৈরি করার প্রয়োজন নাই!!! তোমার পল্লীতেই যে সুখের নীড় তাতেই থাকিও। এখানে লাখো-কোটি মানুষ নীড় তৈরি করিয়াছে। অজস্র লোক দূর-বহুদূর থেকে এসে এই মাটিতে নীড় বানিয়াছে চির জনমের জন্য। তোমার আত্মীয়-স্বজনরাও নীড় তৈরি করিয়াছে, তোমার দাদা-দাদীরাও এখানেই, তোমার মা-বাবারও এখানেই নীড় তৈরি করিবে।পল্লীর সকলেই এই ভূমে নীড় তৈরি করিবে এমনকি আমিও একদিন তৈরি করিব, এই নীড় থেকে আর কখনো বের হব না, এটা সুখের নীড়।এই নীড়ে যে একবার প্রবেশ করে সে আর বের হয় না। তবে বের হবে মহা দিবসের দিন। ওগো প্রিয়তমা, তোমায় পাব কিনা তা জানি নহে, কিন্তুু মোর একটা নিবেদন তোমা কাছে, তুমি মোর সেই কথা ফিরিয়ে দিও না। আমাদের লাখো-কোটি মানুষের সাথে তুমিও তোমার নীড়টা তৈরি করিও।জানি অন্যজনের হাত ধরিয়া বহু দূরে পাড়ি জমাবে। আমায় কথা দাও, তবুও এই জম্মভূমে ফিরিয়া আসিবে। এখানেই বাসা বানাবে। এই নীড় নিয়ে তোমার জন্য দু'খানা কবিতা রচিয়াছিলুম, তুমি বিশ্বাস কর এই নীড় নিয়ে একটি চদ্দো মিনিটের ভিডিও তৈরি করেছিলাম, যে ভিডিওতে আমাকে দেখা যাচ্ছিল আমার কন্ঠস্বর শুনা যাচ্ছিল। এই ভিডিওটি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড দেওয়ার পর ভাইরাল হয়েছিল, প্রায় শতজন শেয়ার করেছিল, হাজার-হাজার মানুষ দেখেছিল। শুধু তোমার জন্যই এই ভিডিওটি তৈরি করিয়াছিলাম।
যেথায় যাও না কেন, যেথায় থাক না কেন?তোমার কবর যেন এই কমপ্লেক্স এর কবরস্থানেই হয় তবেই আমি ধন্য, আমি স্বার্থক, পুলকিত,এটাই আমার মহা প্রাপ্তি, এটাই আমার ভালোবাসা, ভালোলাগা, এটাই আমার চির সুখ। তুমি বল মোরে, যাহার হাত ধরিয়া চলিয়া যাবে ও জীবনসঙ্গীনি হবে তার সাথে আর কত দিন? কত রাত্রি কাঁটাবে?? হয়ত ৭০ কি ৮০ বছর!! বেশি বলে ফেলছি না তো!!!কিন্তুু তোমার সাথে আমি কাঁটাব কোটি-কোটি বছর, অনন্তকাল, জনম-জনম।মহা দিবসের আগ পর্যন্ত,হাশরের ময়দান পর্যন্ত। আর এটাই আমার ভালোবাসা এটাই চাই যদিও না ভবে তোমায় পাই বা না পাই। কিন্তুু চিরতরে তো পেয়ে যাব ঠিকই।তবেই তো বলিতে পারিব এই তো তোমার বুকে একটু ঠাঁই পেয়ে গেছি। তুমি দেখ কত সুন্দর করিয়া তোমা নিয়া কবিতা রচিলাম.....
বালুয়াকান্দির কবরস্থানে
আসাদুল্লাহ
"জম্মিলে মরিতে হয়" জানি চির বাক্যখানি,
কে কবে বাঁচে ভবে?তবে বাঁচিবে কবিতাখানি।
প্রিয়ার স্মৃতিগুলো বাঁচবে মহীতে আবহমান,
স্মৃতিজন একদিন ধরিত্রিকে জানাবে মহাপ্রস্থান।
কত না স্মৃতি গড়েছি?অবুজ ব্যকুল তৃষ্ণার্ত প্রাণে,
জীবন ঘড়ি থেমে যাবে পরে চির ঘুমে কবরস্থানে।
এই পূত কলেবর মৃত্তিকা কভু করিবে না গ্রাস,
প্রভুর রাহে মুজাহিদ লাশ চির অক্ষত কর বিশ্বাস।
জিহাদের রণক্ষেত্র থেকে আসিবে
ফিরে রক্তাক্ত রঞ্জিত মোর দেহ!
মোরে ভাবিয়া অশ্রুপাত যেন না করে
না যেন করে আক্ষেপ কেহ।
ওগো প্রিয়া!তুমিও তখন ফেলিও না নয়ন জল,
তাহলে মুচে যাবে কাজলমাখা আখির কাজল।
জানি তখন মনে পড়ে যাবে কত না স্মৃতি?
বলবে, প্রভু কেন করিলে সমাপ্ত পূত প্রেম-প্রীতি?
তোমাতে মোর মায়ার বন্ধন বাঁধিয়াছ তোমা প্রাণে,
ভাবিও তুমি চিরতরে ঘুমাব তোমা হৃদ কবরস্থানে
হঠাৎ একদিন তোমাদের জানাব মহাপ্রস্থান,
আসিব না ভবে,মোরে পেয়ে ধন্য হবে বালুয়াকান্দির গোরস্থান।
মুজাহিদ আজি শহিদ,আজি চির শান্ত,
এ পথে চির সংবরণ ইহা নয় কভু ভ্রান্ত।
ওগো প্রনয়িনী! তোমা অপেক্ষায় ছোট ঘুম ভূমে,
আসিও ত্বরায় কাঁটাব প্রহর তোমার পরশ প্রেমে।
দুটি মায়ার বন্ধন সৃজন এই পূত দুটি প্রাণে,
হঠাৎ একদিন মিলন হবে বালুয়াকান্দি কবরস্থানে
মোর কবরের সনে দিও তার কবর শুন ওরে ভাই,
প্রিয়ার রূপ দেখিব,গল্প করিব যেন পাশে পাই।
তোমরা দিও একসনে দুজনার কবর,
যেন মোরা নিতে পারি দুজনার খবর।
হঠাৎ একদিন চিরতরে ঘুমাব বালুয়াকান্দির কবরস্থানে,
তখনও যেন প্রভু দুজনের মিলন হয় একই প্রাণে।
তারিখঃ২১-০৬-২০১৯ ইং,
সময়ঃ বেলা ১১ টায়
উৎসর্গ করিলামঃ ভালো লাগার, ভালোবাসার হাফসা আক্তারকে।
====================
বালুয়াকান্দির কবরস্থান
আসাদুল্লাহ
পাব নাহি তোমা আমি,বাসসি ভালো ওগো রাণী,
পল্লীর মধ্যে তুমি রাণী,তোমা নিয়ে করছে যুবা টানা-টানি।
এত কাছে তুমি,বাসলাম ভালো হলো না জানা-জানি,
কাব্যে নিয়ে খেলছি তোমায়,করছি কানা-কানি।
উত্তর প্রান্তে মম বাটী,দখিন প্রান্তে তুমি রাণী,
দিব্যাঙ্গনার রূপের ছটা,তোমায় নিয়া করছে টানা-টানি।
আমার বুকে কত আশা?তোমার বুকে ভয়,
এত কাছে তুমি রাণী?হয় নি আজও পরিচয়।
কাঁদছি আমি,কাঁদে এ মন, মম চোখে জল,
কেঁদ না গো রাণী তুমি,মুছে যাবে তোমা কাজল।
নাহি দিলে দেখা তুমি, নাই বা দিলে মন,
আসব ছুটে তবু রাণী,বিপদ মাঝে করিও স্মরণ।
বুজলে না গো রাণী তুমি----------------
কূল ভেঙ্গেছে আমার ধারে, তোমার ধারে নয়,
আমার বাঁশির সুরে, হলো না গো তোমার হৃদয় ক্ষয়।
লিখে গেলাম,চেয়ে গেলাম,গেয়ে গেলাম তোমার গান,
তবু রাণী পাইনি কভু তোমার মনে স্থান।
গান ফুরালে যাব যবে,বাঁশির সুর বাজবে ভবে,
বিদায় বেলা পড়বে মনে,মহা দিবসে দেখা হবে।
ওগো রাণী!তোমায় জানি গো জানি,
তোমায় নিয়া করে লোকে টানা-টানি।
বিদায় বেলায় যদি গো পাই, তোমার দেখার দান,
এই তো রাণী পেয়ে যাব তোমার হৃদয়ে মোর
কবরের স্থান।
ওগো মোর পল্লীর রাণী!
পেলাম না গো তোমার দেখা,
দুঃখের কাব্য হলো লেখা।
দিলে না গো দেখা তুমি, বললে না গো কথা,
জানলে না গো রাণী তুমি, আমার মনের ব্যথা।
তোমায় নিয়ে লিখে গেলাম, গেয়ে গেলাম গান,
তোমায় আমি বাসসি ভালো, কাঁদল যে মোর প্রাণ।
নাই বা পেলাম প্রিয়া তোমায়, চেয়ে গেলাম,গেয়ে গেলাম গান,
একদিন তোমায় পেয়ে যাব, লোকে তোমায় নিয়ে যাবে বালুয়াকান্দির কবরস্থান।
জীবন ফোরালে লোকে তোমায় করবে তাতে দান,
তোমার-আমার জন্য রাণী বালুয়াকান্দির কবরস্থান।
(সমাপ্ত)
#তারিখঃ১৩-০৮-২০১৯ ইং
#সময়ঃসকল ৭ টা ৪৫
========
ওগো পল্লীর রাণী!তোমার প্রতি এই মোর নিবেদন। এই রাত জাগা চিঠি লেখা তবেই তো ধন্য হবে এই বিষয়টিকে যদি তোমায় বুজাতে পারি। বিংশ শতাব্দী এসেও যে চিঠি লিখলাম এটাই বড় প্রাপ্তি। ভালোবাসার চিঠি অনেকেই লিখে কিন্তুু আমি তা লিখিতে পারি না আর বলিতে পারি না তোমায় ভালোবাসি, না পেলে মরে যাব,হাত কাঁটিয়া নাম লিখব ইত্যাদি আমি কেন জানি পারি নহে এসব। তবে এই তো পারিলাম তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাে বহিঃপ্রকাশ ব্যক্ত করিতে। এটাই আমার মহা কিছু,তাতেই আমি ধন্য এবং স্বস্তি পেলাম মনের আংশিক কিছু ভাবার্থ ব্যক্ত করিয়া। খুব যতনে রাখিও পত্রখানা, লিখতে গিয়ে খুব কষ্ট হইয়াছে। কষ্ট আর কি, আমার স্মার্ট ফোনের নোটপেডে লিখিয়াছি তারপর তা ইমেল করে প্রিন্ট আউট করিয়া সেই কপি তোমার নরম হস্তে তুলিয়া দিব। কাব্যের কবিতাগুলো প্রায়(২০টা) সবগুলো তোমাকে নিয়ে লেখা সেগুলোই কোনো একসময় দিয়ে দিব পড়িও।
শুন হে মোর প্রিয়তম, এই যুগ বড়ই ভয়ঙ্কার।চারিদিকে ফেতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় মুসলিমরা অত্যাচারিত-নির্যাতিত, অপমানিত,ধর্ষিত। সেইসব বিষয় বলতে গেলে কয়েক রাত্রি চলে যাবে। আজ মুসলিম মা-বোনেরা প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে অমুসলিমদের হাতে, হায়নাদের দ্বারা। আমার সেই সব বোনের কখনো পর্দা ছাড়া বাহিরে বের হত তা অথচ আজ তারাই ধর্ষিত হচ্ছে, শহিদ হচ্ছে। কোন ঘটনা শুনিবে?বোন ফাতেমার অত্যাচারের-ধর্ষণের ঘটনা নাকি শহিদ ডা.আফিয়া সিদ্দিকার ঘটনা, নাকি কাস্মিরের দশ হাজার ধর্ষিত বোনদের ঘটনা?নাকি বসনিয়া-চেসনিয়া, আরাকান,ফিলিস্তিন,ইরাক,ইরান, সোমালিয়া,আফগানিস্তানের বোনদের ধর্ষণের ঘটনা??নাকি শহিদদের ঘটনা?
নাকি দশ লাখ নির্যাতিত-ধর্ষিত উইঘুরদের ঘটনা?এই পরিস্থিতিতে মুসলিম যুবকদের প্রতি আমার একটা প্রশ্ন হচ্ছে " তবুও কি প্রেম বড় নাকি ঐসব বোনদেরকে জালিমদের জেলখানা থেকে মুক্ত করাটা বড় কাজ?
#নছিহা
নিজেকে সর্বদা পর্দার আড়ালে আবৃত করিয়া রাখিবে যখন বাহিরে বের হবে। নিজের আমল আখলাককে আরো সুন্দর করিতে থাকিবে। পরিপূর্ণভাবে ইসলামের পথে ধাবিত হইবে। যাহা কিছু চাহিবার প্রয়োজন পড়িবে তা প্রভুর কাছে চাইবে। বিপদের সময় ধৈর্যধারন করিবে। সকল পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করিবে।নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িবে এবং কুরআন তিলাওয়াতও। বিভিন্ন কিতাব পড়িবে তবে শুধু তেমাদের মহিলাদের জন্য একটা কিতাব অবশ্যই পড়া আবশ্যক। বাজারের যেকোন লাইব্রেরিতে পাবে " মহিলাদের ওয়াজ " (আমেনা খাতুন) এই বইটা অবশ্যই সংগ্রহ করিবে। মনে হয় পাঁচ খন্ডে বিভক্ত তবে সবগুলো এক সাথে।
অবশেষে বলি, তোমার দোয়াতে এই নাফরমান,গুনাহগার ছেলেটিকেও শরিক করিও।সর্বশেষে বলি, আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুক,সফলকাম করুক।
সত্যি বলিতে ভয় করার কথা না। আমার চেয়ে বেশি তোমাকে আর কেহ ভালোবাসিতে পারিবে না। বিপদ মাঝে যখন প্রয়োজন মন করিবে তখন স্মরণ করিও সেই ডাকে অবশ্যই সাড়া দিব। এই সময়গুলো কাজে লাগাও পাঠে ও অধ্যাবসায়ে। পরবর্তীতে যা করার তা করার যথেষ্ট সময় পাইবে হোক তা প্রেম অথবা অন্যকিছু।
অবশেষে বলি ফুলকে আঘাত করার একটা সীমা আছে যখন সেই সীমার চেয়ে বেশি আঘাত করা হয় তখন সেই ফুলের সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যায়।তোমাকে তোমার অজান্তে ভালোবেসে যদি ভুল করিয়া থাকি তাহলে ফুল মনে করিয়া তার সুভাশ নিয়ে সেই ফুলকে ফেলিয়া দিও, পুষ্প সকলের জন্যই নিবেদিত প্রাণ। তবেই আমার ভুল ফুলে পরিনত হইয়া যাইবে। আর যদি তা না করিতে পার তাহলে আমাকে সেই ভুলের প্রতিদান হিসেবে যা করার তা করিও আমি তা মেনে নিতে বাধ্য।ওগো প্রিয়তম, তোমাকে তোমার অজান্তে ভালোবেসে সাহিত্যের রস উপভোগ করিতে পেরেছি পরিপূর্ণভাবে যেমন উপভোগ করিয়াছিল প্রেমিক কবিগুরু কাজী নজরুল ইসলাম। কবিগুরু বলিয়াছিল, আমি ভালোবাসতে এসেছিলাম, ভালোবাসা দিতে এসেছিলাম সেই ভালোবাসা পেলাম না বলে তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। কল্যানিয়াসু, লাইলী-মনজু একে অপরকে পাই নি কিন্তুু তাদের মতো করে কোনো প্রেমিক কখনো তাদেরকে পাবে না।প্রিয়তমা, কবিগুরু কাজী নজরুল ইসলাম নার্গিসকে পেয়েও পেল না। যেদিন নার্গিসকে বিয়ে করেছিল সেদিন রাতেই আবার পরিত্যাগ করিয়াছিল, সেই নার্গিস কবির অপেক্ষায় ছিল দীর্ঘ সতের বছর অবশেষে আমাদের ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের নজরুল ধারার কবি আজিজুল হাকিম সেই নার্গিসকে বিয়ে করেছিল। এটা আজ থেকে ৪০-৫০ বছর পূর্বের ঘটনা।
প্রিয়তমা, তোমার প্রতি তোমার ভালোবাসা অনন্তকালের সেই ভালোবাসার কোনো মরন নাই, নাই কোনো বাঁধা। জানি গো জানি, আমার বাহ্যিক রূপে অন্য তনয়ের সাথে তুলনা করিয়া আমায় ছিন্ন করিবে।কিন্তুু আমারর ভিতর সৌন্দর্যময়তার পরিপূর্ণ, নান্দনিকে ভরপুর। আমার খুব ঈর্ষা লাগে তোমার হাতে পড়া থাকা ঐ কলমটা দেখে,শীতের রাতে তোমার নরম গায়ে ঝড়িয়ে থাকা ঐ চাদরটা দেখে,রাতে যখন তোমার গায়ে কাথাটা ঝড়িয়ে থাকে তা দেখে খুব ঈর্ষা লাগে। তোমার চোখের কোনায় লেগে থাকা ঐ কাজল থেকে আমায় ঈর্ষা লাগে, আরো ঈর্ষা লাগে তোমার চরনতলে পড়ে থাকা নূপুর দেখে। দখিনা বাতায়নে যখন তোমার লম্বা কালো এলো চিকর উড়ে তখন বাতাসের এই খেলা দেখে ঈর্ষা লাগে। কতই না ধন্য হতামা যদি তাদের মতো তোমার কলেবরে কাজল,নূপুর, কলম, চাদর,কাথা, বাতাস হয়ে পড়ে থাকতাম।
তুমি চোখের সামনে অথচ তোমায় দেখিতে পারি না।রাত দশটার দিকে যবে বাজারে গিয়ে একা একলা নির্জনে চায়ের কাপে চুমক দিয়ে তোমায় ভাবি তখন খুব ভালো লাগে। এই তো তোমায় পেয়ে গেলাম, এই তো গেয়ে গেলাম, লিখে গেলাম তোমার গান কবিতা।এই গান, কবিতা কখনো ভিতর থেকে বের হতো না যদি না তোমায় না দেখিতাম।
যখন ভাবি তখন চোখের কোনে জল জমে যায়, যবে একদিন সকল মায়ার বাঁধন ছিন্ন করিয়া চলে যাব বাড়ির পাশের কবরস্থানে। আমায় তখন আর পাবে না কো এই নির্জন কাননে, এই পথে। তখন আর লিখব না তোমায় নিয়ে কবিতা, গান। তখন আর দুজনে একই সাথে শুনিতে পারিব না মসজিদের মিনার থেকে মোয়াজ্জিম চাচার আযাদের সুমধুর ধ্বনি। প্রিয়তমা, আমি একদিন থাকিব না তবে থাকিবে আমারই নিজের হাতে লাগানো কবরস্থানের সর্ব পশ্চিমের দুই শত মেহগনী বৃক্ষ। এই গাছেগুলোতে মিশে আছে মোর স্মৃতি মোর ছোয়া।
আমায় যখন খুজে পাবে না তখন তুমি এই বৃক্ষরাজির সনে মনের ভাব ব্যক্ত করিও আমিও শুনিতে পারিব কেননা গাছগুলো লাগানোর সময়ও তোমার কথা ভেবেছিলাম। ওগো মায়াবিনী,ওগো লক্ষিনী, এমন একটা দিন রাত খুজে পাই না যে দিনে, রাতে তোমাকে স্মরন করে নি!! জান, যেদিন তোমায় পহেলা দেখি সেদিন থেকেই আমার ভাবনায় তুমি। একুশে ফেব্রুআরির দিন ভাবলাম তোমার সনে কিভাবে দেখা করা যায়। তাই এই নিয়ত করলাম যে, কবিতার মাধ্যমে তোমার সনে দেখা করিতে পারিব। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির পূর্ব রাতে রাত দুই টার দিকে কবিতা লিখতে বসলাম একুশে ফেব্রুয়ারির মাতৃভাষাকে নিয়ে। লিখেছিলাম বড় ধরনের কবিতাই প্রায় আশি চরন। কিন্তুু কপাল মোর, সকালে ঘুম থেকে আর ওঠিতে পারিলাম না। নিয়ত ছিল স্কুলে গিয়ে আবৃত্তি করিব সেই যে কবিতা পাঠ করিব তখন তো আপাতত তুমি মোরে দেখিতে পারিবে তাতেই তো ধন্য আর কবিতা লিখেছিলাম তোমাকে এই দেখার জন্যই। তাছাড়া প্রাণের প্রিয় ম্যাডাম তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাইত।
তারিখঃ ২৬-০৯-২০১৯ ইং
রাতঃ ৩ টায়
প্রিয়তমা সুন্দরী গো! জীবন করিয়াছ ধন,শুধু তোমার জন্য। সাহিত্যের অঙ্গনে পদচারণ তোমার হাত ধরে, তোমার কল্পনাতে তোমায় এনে। তুমি মোর মহা কাব্যের রাণী, গল্প,উপন্যাস।তুমি বিশ্বাস কর, আমি গান বলতে পারি না, শীল্পীর মতো করে সুর তুলতে পারি না। কিন্তুু তোমায় দেখার পর গীতিকার, সুরকার হয়ে সেই লেখাে গানে সুর তুলেছি। বসন্তকালে বসন্তদূত যে সুমধুর কন্ঠে গান গাই সেই গান তোমার জন্য।বসন্তকালে কোকিল যখন গান গায় মোর নিকেতনের বৃক্ষে বসে হয়ত সেই গান তুমিও শুনিতে পাও, সেই সুর ভেসে যায় তোমার কর্নে। এই বসন্তদূত মোর বন্ধু, বসন্তের ফুলে-ফুলে ভ্রমন বসিয়া মধু আহরন করে, সেই মধুকরকে দেখিয়া বড় বেশি ইচ্ছে করে তুমি নামের অপরূপময় রঙ্গনে আমি ভ্রমর হইয়া বসিয়া থাকি আর সব মধু আহরন করি।প্রিয়তমা, যদিও ভ্রমন হতে পারি না কিন্তুু ভ্রমরের ন্যায় আমিও সাহিত্যের রস উপভোগ করতে পেরেছি শুধু তোমার জন্য।কল্যানিয়াসু, গৃহের গেইটের নিম বাগানের মাচায় বসিয়া সেই সাহিত্যের রস উপভোগ করি প্রত্যহ প্রভাতে আর বিকেলে যবে এই পথের পথিক হইয়া তুমি চলে যাও। ওগো লজ্জাবতী, তোমার আড়ালে থেকে-থেকে এই লাজুক পাষাণ তোমায় ভাবিয়াছে, তোমার ছায়ার মতো সতত তোমার সনে চলেছে হয়ত তুমি বুজনি। তোমায় নিয়ে কবিতার খাতায় ছন্দে-ছন্দে আনন্দে খেলেছি বারে-বার। ওগো নন্দিনী! কমপ্লেক্স এর গেইটের সাথে দুটো বকুল ফুলের বৃক্ষ আছে, যবে ফজরের নামাজ পড়তে যাই তখন ঝড়া বকুল পূসুনের সুভাসের ঘ্রাণ আমি মন ভরে উপভোগ করিয়াছি আর সেই সুভাসে তোমায় ভাসিয়াসি কল্পনার রাজ্যে। আবার যখন এশার সময় মসজিদের বারান্দার হাসনাহেনার ফুল ফুটে তখন সেই ঘ্রাণ, সুভাস আমায় পাগল করিয়া তুলে, তার সুভাস এতই মুগ্ধকর, মিষ্টি যার ভাষা ব্যক্ত করার মতো নয়।আর এই দুই ফুলের মতো তুমিও আমার মন বাগানর বারে-বারে পুষ্প হয়ে ফুট। ওগো সুস্মিতা! মন বাগানের অপরূপ পুষ্পতে আজও স্পর্শ করে নি। এই ফুল ফুটুক অনন্তকাল আর ছড়ার তার সুভাষ।
প্রিয়তমা, ভুল করে আমায় তুমি ঝড়া পুষ্প ভেবে নরম হস্তে নিয়া তারপর সেই রঙ্গনের ঘ্রাণ একটু নাসিকাতে স্পর্শ করিও, তারপর তোমার খোপায় বেঁধে নিও। তাতেই ধন্য,পুলকিত।আর যদি তা না করতে পার তাহলে আমি নামের সেই ঝড়া পুষ্পের উপর দিয়ে তুমি তোমার নরম রাঙ্গা চরন দিয়ে হাঁটিয়া যেও, এই ফুলে তোমার পদ চিহ্ন লাগিলেও ধন্য।তারপর সেই ঝড়া ফুলকে তোমার জুতোর তলায় ফেলিয়া তার সুভাষ নিঃশেষ করিয়া দিও, তারপর হত্যা করিও। এই যে তোমার চরন তলে চাপা পড়িয়া পুষ্পের মৃত্যু হবে তাতেই পুষ্প ধন্য,পুলকিত।
ওগো নব যৌবনা! এই যুবকের দৃষ্টি তোমা নব যৌবনার দিকে নয়।যে দৃষ্টি যৌবনার দিকে থাকে সেই দৃষ্টি দিয়া কখনো ভালোবাসার সৃষ্টি হতে পারে না। শিশিরের বিন্দুু দিয়া যেমন বৃষ্টি হতে পারে না তেমনি যে তনয়ের দৃষ্টি তনয়ার যৌবনার দিকে থাকে সেই তনয়ের মনে ভালোবাসা কখনো সৃষ্টি হতে পারে না।
তুমি বিশ্বাস কর,তোমায় বারে-বারে ভুলিতে পারিব কিন্তুু তোমার দ্বারা এই হাত দিয়ে যে নান্দনিকতার সাহিত্যের ভূবন সৃষ্টি করিয়াছি সেই সৃষ্টিকে কখনো ভুলিতে পারিব না। তুমি বল,ইচ্ছা করিলেই তুমি কি তোমার ভাষা ভুলে যেতে পারবে? ঠিক তেমনি ভাষা কখনো ভুলিতে পারিবে না তে
না তোমায় কখনো এই ভাষার মতো ভুলিতে পারব না। ওগো প্রেমময়ী রাণী!সাহিত্যের অঙ্গনে তোসার সনে পথ চলা হোক সুদূর প্রসারী। কেন যেন তোমার সম্মুখে গিয়ে বলেও বলতে পারি নি, " তোমায় ভালোলাগে " কিন্তুু মুখ শুকিয়ে যায়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।জানি, আমার বাঁশির সুর তোমায় কর্নে গিয়ে লাগলেও সেই সুরে তোমার হৃদয়ে দুল দিয়ে ওঠিবে না, তোমার হৃদয় ক্ষয় হবে না, কিন্তুু তোমার নূপুরের ধ্বনিতে মোর হৃদয় কেঁপে ওঠে।তুমি বিশ্বাস কর, তোমার বন্দনা করিয়া আমি আমাকে নতুন করিয়া আবিষ্কার করিতে পারিব কিন্তুু তোমার সম্মুখে গিয়া এটা আবিষ্কার করে দেখাতে পারিব না যে, তোমার প্রতি কতটুকু ভালোবাসার মায়া এই পূত বক্ষে ধারন করিয়াছি। ঐ দূর আকাশের সবচেয়ের সুন্দর তারাটিকে যদিও আবিষ্কার করিতে পারিব কিন্তুু তুমি যে চোখের নামনে অল্প দূরত্বে আছ, তোমায় ভালোবাসিয়াছি তোমা অজান্তে, চুপি-চুটি, আড়ালে এটা আবিষ্কার করিতে পারিলেও সেই আবিষ্কার মনের মধ্যেই থাকিল। হয়ত আমার কলম সেই কথা জানে, জানে চন্দ্র,তারা, প্রকৃতি আর রাতে ঘরের স্বপ্নরা।
কল্যানিয়াসু! চিঠি লেখা ইতি টানিয়া ফেলিব আমারও আর হাতে মানিতে পারিতেছে না তাছাড়া তুমি পড়তে গিয়ে বিরক্তবোধ করিবে।হয়ত আমার পত্র পাইবার পূর্বে বহু তনয়ের চিঠিই পেয়েছ, কিন্তুু সেগুলো পড়তে গিয়ে হয়ত তোমার অল্প সময় ব্যয় হয়েছিল, লেখাগুলোও মনে হয় সহজ সরল ভালোবাসার অনুভূর্তি ছিল। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এরকম রচনা মতো পত্র লিখার কারনে হয়ত তোমার সময় নষ্ট করিয়াছি।অন্য পত্রের মতো আমি বলিব না যে, পত্রের জবাব দিও, অপেক্ষায় থাকিব!! আমি এই পত্রে তোমার প্রতি কোনো ধরনের প্রশ্ন জুড়ে দেয় নি, পত্র যে পড়িবে তাতেই সব উত্তর পেয়ে যাব।
এই যে লেখিলাম এরকম লেখা এটাই প্রথম পূর্বে কখনো লিখেনি আর কখনো হয়ত লিখব নাও এত আগ্রহ নিয়া। শুধু তোমার জন্যই এত কষ্ট করিলাম।
যদি তোমার হৃদ দেশে কোথাও একটুখানি জায়গা খালি পড়িয়া থাকে তাহলে মোরে তাতে ঠাঁই দিও। দিও একটু আবেশ পরশ প্রেম।একটু অবসর সময়গুলোতে আমায় স্মরন করিও, যোগাযোগ, খবরা-খবর রাখিও, যদি লিখতে। চাও তাও লিখও। আর যদি প্রয়োজন না থাকিয়া থাকে তাহলে এর কেনোটাই করিও না। তুমি "হ্যাঁ" বলিলেও আমি খুশি "না" বলিও খুশি। যুগ-যুগান্তর ধরে তোমারই অপেক্ষায় থাকিব। যতদিন না নিজের স্বপ্নকে জয় করিতে পারিব, যতদিন না নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। এই সমাজ এই গ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যখন যাব তখনই তো তোমায় পাবার বন্দনা করিব। এই প্রতিষ্ঠা এই গ্রাম তো আমাদেরই দেখিতে হবে।
প্রিয়সী, তুমি মনে রাখিও সতত যে, কোনো এক যুবক তোমার অজান্তে খুব ভালোবেসেছে নীরবে, নির্জনে। মনে করিও সেই যুবকের ভালোবাসা শুধু তোমার প্রতিই প্রবাহমান অনন্তকাল।আমার হৃদের মধ্যে তোমান তোমার প্রতি ভালোবাসা জম্মিয়েছি ঠিক তেমনি হয়ত তোমার মনের মধ্য খানেও কোনো নন্দনের প্রতি ভালোবাসা জম্মিয়েছ। তবে আমি বলিব, যদি সত্য, প্রকৃত, পবিত্র ভালোবাসা হয়ে থাকে তাহলে সেই মন মানসিকতা নিয়ে চলিতে থাক এগিয়ে যাও। কিন্তুু সেই ভালোবাসাতে যদি পরিবার মা-বাবা অসমর্থন করিয়া থাকে তাহলে এক্ষুনি তা বর্জন করিয়া পবিত্রতা অর্জন করিয়া সুন্দর করিয়া জীবনকে সজ্জিত কর। আর যদি তা না করিতে পার তাহলে বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারিবে না হয়ত পরিবার অন্য ভাবনায় বিভোর হইয়া পড়িয়া বরের সন্ধান করিয়া জীবন সঙ্গিনী বানিয়া দিয়া এখানেই মীমাংসার ইতি টানিয়া ফেলিবে আর এটাই বর্তমানের বাস্তবতা। হয়ত মা-বাবার চোখে সেই স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থাকিয়া যাইবে যা প্রতিটি সন্তানকে নিয়া তাহারা দেখে থাকে।
প্রিয়তমা,তুমি আমায় বারে-বার ভুলিতে পারিবে কিন্তুু এই পাষানে তোমায় কখনো ভুলিতে পারিবে না, এই আমৃত্যু। তোমার জন্য আমার উত্তরের দোয়ার সর্বদা খোলা থাকিবে আসিও।আমার দৃষ্টি সর্বদা তোমাদের দখিনে থাকে।নিম কাননে কত সময় বসিয়া থাকিয়াছি তোমায় দেখিব বলে। যেদিন থেকে মোর মন আকাশে তুমি নামের তারাটি উদিত হয়েছিলে সেদিন থেকেই তোমার প্রতি মায়া, ভালোবাসা জম্ম হইল। এই তারার অপেক্ষায় বহু বছর ছিলাম। আর আজ সেই তারার দেখা পেলাম।
যাহোক, তোমার কল্যান কামনা করি, ভালো থেক, সুস্থ থেক। আর যখন প্রয়োজন পড়িবে আমায় স্মরণ করিও হোক তা বিদ্যার পড়ার ক্ষেত্রে, কোনো কাজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে।সতত তোমার ডাকে সাড়া দিব ইনশাআল্লাহ।
লেখায় ভুল থাকিলে ক্ষমা দৃষ্টির সাথে দেখিয়া ক্ষমা করিয়া দিবেন। আমার জন্য সবর্দা দোয়া করিও এটাই তোমার কাছে বড় চাওয়া, মেয়দের দোয়া আগে কবুল হয়।
যদি কখনো সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত হও যেমন: ফেইসবুক,মেসেঞ্জার, ইউটিউবে,ওয়েবসাইট,ই-মেইল, তখন মোরে স্মরণ করিও। আমায় রিকুয়েস্ট পাঠিও আর আমার ইউটিউব চ্যানেলকে সাবস্ক্রাইব করিও, চ্যানেল থেকে কবিতাগুলো শুনিও,শুনিও আমার লেকচারগুলো। কোনো বেশি প্রয়োজন হলে ফোন দিও,মেসেজ দিও।যদি দরকার হয়।
সুন্দর হোক, আলোকিত হোক তোমার জীবন এই কামনা করি। খুব ভালো থেক।এই ছিল তোমার প্রতি আমার সত্য, প্রকৃত,অমর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।আসসালামু আলাইকু।
ইতি
আসাদুল্লাহ আমার সাক্ষর:
তোমার সাক্ষার:
Social media address :
Facebook ID: Md Asadullah
Facebook Page: Asadullah TV.BD
My Youtube Channel: Asadullah TV.BD
E-mail: mdasadullah3434@gmail.com
My Website: Asadullah News & Library
Mobile: 01625101319,
=================================
প্রথম প্রিয়ার প্রতি মোর চিঠি
"যে ভালোবাসা আমাকে ঘুমাতে দেয় না"
প্রিয় প্রয়সী,
সালাম বর্ষিত হোক তোমাতে আর সেই সাথে সকল উম্মাহর যুবতীদের উপর। কত বছর পর আজ লিখলুম তোমার প্রতি,তেমাতে মম এই অবুজ মন কেন যেন বারে-বারে ছুটে চলে আর সেই সাথে এই তৃষ্ণা ব্যকুল হৃদয় তোমার ঐ পরাণের সনে মিলন্তন হতে চাই। এই অশ্রু ভেজা নয়ন কোমল,সিক্ত,আর শান্ত হতে চাই তোমার দৃষ্টির উপর দৃষ্টি রেখে। ঐ কাজলমাখা দু' আখি দেখে যেন শুষ্ক হয় মম এই অশ্রুভেজা নয়ন। আর ভিতরের কান্না যেন থেমে যাবে শুনে তোমারও রাঙ্গা পদের নূপুরের ঝুম-ঝুম ধ্বনি শুনে। সেই সাথে যবে তোমার নরম হস্তখানি মোর হস্ত ছোয়ে দিয়ে যাবে তখন যেন এই কলেবর শান্ত হবে, কম্পন থেমে যাবে, অশ্রু ঝড়া থেমে যাবে আর শান্ত হয়ে এই অবুজ হৃদয়।আর তোমা ঐ সুখের হাসি মোর সব ব্যথা-বেদনা ভুলিয়ে দিবে, মুছে দিবে যত মোর নয়ন জল।
প্রথমে মোর সালাম নিও।একটি, দুটি প্রহর করে চলে গেল দীর্ঘ ৪ টি বছর। তবু তোমা সনে কথা নাই, দেখা নাই, নাই কোনো আলাপন, খুজ-খবর। যবে কৈশোরে মিশে ছিল মোর যত স্মৃতি, যত হাসি-কান্না। আজ বার-বার মনে পড়ছে ফেলে আসা সেই অতীত দিনগুলোর কথা। তুমিই প্রথম এ জীবন মাঝে। কতনা স্মৃতি পড়ে আছে আম্র কাননে?হঠাৎ করে কেন যে কোন ভ্রান্তির কারনে চলে গেলে দূর-বহুদূর মোরে ছিন্ন করে তা আজি বার-বার ভাবি আর অশ্রপাত করি।এই ব্যথায় কত যে কাব্য-কবিতা লিখেছি তোমাকে নিয়ে। প্রতিটি কবিতা তুমি, প্রতিটি ছন্দ তুমি। তুমি আজ মোর পাশে নাহি তবে তোমাকে বেঁদে রেখেছি মোর কবিতায় চিরতরে। এই অজস্র কবিতা যবে পাঠ করি তখন তোমায় খুব মনে পড়ে।মনে পড়ে যায় সেই সব স্মৃতিগুলো।
এই ৪ টি বছরের মধ্যে তুমি এসেছিল কয়েকবার নিকেতনের পাশে অতিথি হয়ে।সামনে পড়েছ তবে অভিমান করে দৃষ্টিপাত করে নি, আমি তাকায় নি তোমার চোখে মোর চোখ রেখে। আমি সব ভুলে গিয়াছি যবে মোর সনে সেই জ্যোস্না রজনীতে অভিনয় করেছিলে। সেই ছলনা বহু দূর নিয়ে গেছে তোমা কাছ থেকে। তারপর থেকে প্রতিটি প্রহর,প্রতিটি দিন-রাত আমি একাকীত্ব। আমি বলেছিলাম না, তুমিই প্রথম, তুমিই শেষ, তাই তো আজও আমি একাকীত্ব দিন-রাত অতিবাহিত করি। তোমার দেওয়া ব্যথা আমাকে ধ্বংস করে নি বরং আমার জ্ঞানকে প্রসারিত করে দিয়েছি।
প্রেম-ভালোবাসা তা ধরার সূচনা থেকেই হয়ে আসতেছে। কিন্তু তোমার দেওয়া বিরহ বেদনা আমায় দূর্বল করে নি, আমায় পরাজিত করে নি বরং আমি জানতে পেরেছি উম্মাহর করুনন কাহিনী, আমি জানতে পেরেছি আমার বোনদের ধর্ষণের সেইসব ঘটনাগুলো।
আমি জানতে পেরেছি, আমি পড়তে পেরেছি আমার বোন সামিরার, সার্বিয়ার সেনা ক্যাম্পের ধর্ষণের কাহিনী, জানতে পেরেছি, পড়তে পেরেছি আবু গারীব কারাগারের বোন ফাতেমার চিঠি। আর শুনতে পেরেছি ড.আফিয়া ছিদ্দিক বোনের আমেরিকা কারাগার থেকে তার আর্তনাদ।
এরকম লাখো-কোটি বোন আজ ধর্ষিত-নির্যাতিন, অত্যাচারীত ইহুদি-খ্রিষ্টান, মালাউন-মুশরিকদের হাতে। আমার ঐসব বোনগুলো আজ আমাকে ডাকছে,।
হে প্রিয় প্রেমিকা,প্রিয় প্রয়সী,! তুমি বল তারপরও কিভাবে এরকম প্রেমে আমি মগ্ন থাকতে পারি?তুমি বলো তোমার ভালোবাসা আমায় কত দূরর নিয়ে যাবে? বল তুমি, তোমার এই ভালোবাসা আমায় কতটুকু কাজে আসবে ঐ হাশরের মাঠে। তুমি বল তোমার ভালোবায় আমাকে কতটুকু সম্মানিত করবে?
আমার সেই দিনটির কথা বার-বার মনে পড়ে, যেদিন রজনীতে তুমি মোরে ফিরিয়ে দিয়েছিলে, আমায় ছিন্ন, লজ্জিত, অপমানিত, অপদস্থ করেছিলে। আর সেদিন থেকেই আমি কাঁদতে শুরু করি কিন্তু সেই কান্না তোমার জন্য নয় বরং সেই কান্না আমার বন্ধী নির্যাতিত,ধর্ষিত মুসলিম উম্মাহর যুবতী বোনদের জন্য। আমি আজও তাদের জন্য কাঁদি আর তাদেরদেরকে জালিমের কারাগার থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখি।আজি আমি হৃদয়ে এমন ভালোবাসা তৈরি করেছি যে ভালোবাসা আমায় ঘুমাতে দেয়য় না।
অবশেষে বলি, হে মোর প্রিয় প্রয়সী,মোর স্বপ্ন দেখা সহধর্মিনী! তোমাকে ভালোবেসে যা জানতে পারি নি, যেদিন ঐ ভালোবাসার সমাপ্ত করে দিয়েছিলে সেদিন আমি তা জানতে পেরেছি। আমি তখন আমার সার্থের জন্য তোমায় ভালোবাসতাম। আর আজ আমি নির্যাতিত,ধর্ষিত, মুসলিম যুবতী বোনদের এই জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি শুধু আল্লাহকে ভালোবাসার জন্যই।
আমার প্রভু যদি চান তো আমার জন্য হয়ত ঐ পরপারে উওম কিছু রেখেছেন। রেখেছেন পবিত্র হুর,যারা আমার জন্য আমার মতো যুবকদের জন্য অপেক্ষা করছে। ইনশাআল্লাহ।
ইতি
আসাদুল্লাহ
তাং:২৬-০৪-২০১৯ ইং
সময়: ৩ টায়,
জুম্মা নামাজ পড়ে প্রিয় " বালুয়াকান্দি ইসলামী কমপ্লেক্স " এর মসজিদে বসে।
রায়পুরা,নরসিংদী
আমীরগঞ্জ,বালুয়াকান্দি গ্রাম।।
#যে_অদৃশ্য_ভালোবাসার_মায়ার_বন্ধনে_কাঁদে_মোর_নয়ন_আর_বৃথিত_এই_অন্তর "
কল্যানীয়া প্রয়সী, তোমায় খুব মনে পড়ছে, মনে পড়ছে বারে-বার কৌশোরের সেইসব দিনগুলো!যবে মনে পড়ে যায় তখন তোমায় ভেবে মনের ভাব ব্যক্ত করি তারপরে ব্যথাগুলো প্রশমিত হয়। ওগো নন্দিনী,মনে পড়ে কি, পড়ে কি স্মৃতিগুলো গহীন হৃদে?বহু প্রহন কাঁটিয়েছি, কাঁটিয়েছি বহু বছর তোমা বিহীন একলা একাকীত্ব। ওগো,সহযোগিনী! ঐ অন্তঃরীক্ষ আর কতটুকু প্রসারিত,তার চেয়ে বেশি প্রসারিত মোর এ পূত হৃদয়! ঐ মহা অর্নব আর কতটুকু গহীন? তারচেয়ে বেশি গহীন মোর এ হৃদয়।কল্যানীয় প্রয়সী! তোমা চিঠি আর পাই না, পাই না তোমা দেখা, দেখি না তোমা সেই পরশমাখা হাসি, এই নয়ন দেখে না তোমা মায়াবী ঢল-ঢল কাজলমাখা আখি, এই কর্ন আর শুনিতে পাই না তোমা সেই ঝুমুর-ঝুমুর নূপুরের ধ্বনি। শুনি না আর তোমা শান্ত নরম মুখের নরম ধ্বনি। কত বসন্ত আসে আর যাই তবু তুমি আর আস না। তোমাতে লুকায়িত মোর যত স্মৃতি আর মায়া। তোমাতে খেলছে,উড়ছে মোর চপল আবেগী মন।
ওগো প্রয়সী! তুমি ভুলে গেলে এত সহজে স্মৃতি? ভুলে কি গিয়েছ মোর নিকেতনের গেইটের সামনের পড়ন্ত বিকেলের আড্ডাগুলো? আজি মোরে সেই স্মৃতিগুলো কাঁদায়, তুমি কি ভুলে গিয়েছ আম্র কাননের আড্ডার সময়গুলোর কথা?
কল্যানীয়া প্রয়সী! রজনীর ঐ অন্তঃরীক্ষের প্রতিটি তারাকে আমি চিনি, তাদের একেকটা নাম আমি দিয়াছি, কোন ঋতুতে তারা উদিত হয় তা আমি জানি! আমি দেখিয়াছি গভীর রাতে কোন কোন তারাগুলো বেশি উজ্জ্বলিত হয়। ঐ তারাগুলোকে একেকটা কবিতা উৎসর্গ করিয়াছি শুধু তোমা জন্য। আর ঐ চন্দ্রকে বলিয়াছি তোমি তাে তার চেয়েও বেশি রূপের রূপবতী নন্দিনী। জেগে থাকি রাত জাগা চন্দ্র,তারা আর পাখির মতো শুধু তোমার অপেক্ষায়। প্রতিটি বসন্তকে বরন করি কতনা কব্য, কবিতা লিখে, নববর্ষ কে স্বাগতম জানাই কবিতা দিয়ে শুধু তোমার জন্য। মোর বিরহিনীর ব্যথার সুর বাঁশির বুক ফেটে ধ্বনিত হয় শুধু তোমা লাগি। এমন একটি দিন, একটি রজনী খুজে পাই না যে তোমায় ভেবে নি?তোমার কথা স্মরন করে নি?
চির সুখের প্রেম তুমি তোর সহযোগিনী, আমি চাই তোমা সুখ,তোমায় ভালো। তাই তো আজ এত ব্যবধান। যেথায় থাক না কেন, তোমায় কল্যাণ কামনা করি, কামনা করি তোমা উন্নতি। তবু তুমি থাক চির সুখে।
ওগো প্রনয়িনী! অবোজ হৃদয় আজ তোমায় জন্য ব্যকুল, তবে যে ব্যথা মোর মনের মাঝে সেই কথা তুমি জান নি। তুমি জাননি, ধরার অন্য প্রান্তে তোমা মতো লাখো যুবতী আজ সুখে নেই, ধর্ষিত,নির্যাতিত, অত্যাচারিত। এই উপরের বাক্যগুলো বলিলাম তাহা অনেক পূর্বের মনের ভাবার্থ ব্যক্ত করিয়াছি। আজি তোমা জন্য এ মন কাঁদে না, কাঁদে ঐ মোর ধর্ষিত, নির্যাতিত, বন্ধী যুবতী বোনদে জন্য। তুমি হয়ত ভাবিয়াছ, আমি তোমা কাছে ছুটি যাব ব্যকুল হয়ে।হা হা হা! কখনো না মিথ্যে ভাবিয়াছ। আমি এমনই একজন প্রেমিক,যে প্রেমিক এক নন্দিনীর ভালোবাসাকে পদাঘাত করে জীবন দিতে পারে ঐ বন্ধী যুবতীদের জন্য। আজি খুব ব্যকুল এবং অগ্নিরূপ ধারন করিয়াছি ঐ মালাউন-মুশরিক,ইহুদীদ,খ্রিষ্টানদের জন্য।
এই তুমি কি কুফার ঐ যুবক-যুবতীর প্রেমের ঘটনা পড়িয়াছ? আমি তো ঐ যুবককের ভালোবাসার ন্যায় ভালোবাসা এই হৃদয়ে ধারন করে রেখেছি। মনে রেখ, তোমার এই ক্ষনিকের প্রেম আমি চাই নি বলেই আজ এত ব্যবধানের সৃষ্টি করিয়াছি। মনে রেখ, আমি তোমার এমনই একজন প্রেমিক পুরুষ, যে পৃথিবীর কোনো প্রান্তের কোনো উম্মাহর আর্তনাদ শুনিলে অশ্রুপাতে করি ও বিদ্রোহ হয়ে ওঠি।
ওগো সহযোগিনী!মনে রেখ, এই প্রেমের ভাবনায় মোরে আল্লাহর ও মৃত্যুর ভাবনা থেকে ভুলে রাখে সেই সাথে যুবকদেরকেও। মনে রেখ আজি এই মহা সময়ে একেকজন উম্মাহ যুবকদেরকে খুবই প্রয়োজন উম্মাহর এই বিজয়ের জন্য।সেই বিজয়ের নিশান যেন মোর, মোদের হস্তে থাকে আর মুক্ত গগনে সমীরে উড়িবে কালোমার ধ্বজা। ওগো!তুমি মনে রেখ মোর বানী, এই প্রেমের বন্ধনে আর অন্য কোনো উম্মাহর যুবককে বাঁদিও না। এই প্রেমই আজ উম্মাহকে পরাজিত করে রেখেছে।
বরং,তুমি ও উম্মাহর যুবতীগন যেন এমন প্রেমিক তৈরি করে যেন তারা সেই প্রেমকে পদাঘাত করে ময়দানে ছুটে চলে শুধু আল্লাহকে ভালোবাসার জন্যই তাদেরকে ভালোবেসেছিল।
প্রয়সী, চিঠিখানা পড়িও, শুনিও কোনো এক ভরদুপুরে । একসময় থাকব থাকিব না এই ধরায় তখনও যেন এই চিঠি পড়ে জাগ্রত হয় প্রেমের জালে বন্ধী প্রেমিকারা। যে প্রেম স্বার্থের জন্য সে প্রেম কখনো উপকারে আসিতে পারে না। বরং লাখো যুবতীর প্রেম যবে হৃদয়ে তৈরী করা হবে তখনই সে প্রেম উপকারে আসিবে এবং কামিয়াবী হবে।
ওগো মোর স্বপ্ন দেখা প্রিয়া, তোমায় বলছি, শুন হে মন নীরব করে, কর্ন মেলে, এই মন তখন তোমা জন্য খুব ব্যকুল ছিনু কিন্তু আজ এই মন এত ব্যকুল, ব্যথার্থ এমন যুবতীদের জন্য যাদেরকে এই চোখ কখনো দেখে নি,তবে আমি শুনিয়াছি তাদের আর্তনাদ,পড়িয়াছি তাদের সেই চিঠি। তাই তো আজ তোমা প্রতি লিখিলাম এই চিঠি।
খুব ভালো থেকে,প্রভু তোমায় সহজ-সরল পথেরর
পথিক করুক, সেই সাথে মোরেও এবং সকলকে।
ইতি
আসাদুল্লাহ
সময়:২৭-০৪-২০১৯ ইং
সময় : রাত ১০:২০ pm
খোলা আকাশের নিচে ছাঁদে বসে।
===============================



Comments
Post a Comment