"বর্তমান বিশ্বের নির্যাতি মুসলিম উম্মাহকে শান্তনা দিয়ে তাদের প্রতি আমার চিঠি"
আসাদুল্লাহ (বাংলাদেশ)
তারিখঃ২৭-০২-২০২০ ইং
সময়ঃ ৩:০০ pm
আসসালামু আলাইকুম...
হে আমার প্রিয় মুসলিম উম্মাহ! তোমাদের ব্যথাতুর হৃদয়ের কথাগুলো যখন লিখতে যায় তখন অশ্রু বিসর্জন দিতে হয়। তোমারা ভাবতেছ আমরা কেন তোমাদের প্রতি সাহায্যের হাত এখনও কেন বাড়াই নি? তোমাদের ডাকে আমরা কেন সাড়া দেয় নি? তোমরা আর্তনাদ করতেছ আর বলতেছ ;" হে আমার মুসলিম ভাই, তোমরা আমাদের সাহায্য কর, আমাদেরকে এই জালিমদের জুলুম থেকে রক্ষা কর।তোমরা বিশ্বাস কর, যদিও তোমাদের থেকে আমাদের ব্যবধান বহু দূর তারপরও তোমাদের আর্তনাদ আমরা শুনতে পায়, আগুন তোমাদের পুরাচ্ছে কিন্তুু এর উত্তাপ এখান থেকেও পাচ্ছি।"আহ" শব্দ তোমাদের মুখে কিন্তুু এখান থেকেও আমরা ব্যথা অনুভব করতেছি
কতই না দুঃখজনত ও আশ্চার্য লাগে যখন শুনি ও দেখি যে তোমাদের মসজিদগুলো ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, বোম্বিং করে নামাজরত অবস্থায় তোমাদের ধ্বংসস্তুপে চাপা দেওয়া হচ্ছে! তোমাদের চিন্তিত হবার দরকার নেই কারন আল্লাহ তো তাদের এই কর্ম-কান্ডের কথা ও শাস্তির কথা বলেই দিয়েছেন তার পবিত্র কোরআনে
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسٰجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُۥ وَسَعٰى فِى خَرَابِهَآ ۚ أُولٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَ ۚ لَهُمْ فِى الدُّنْيَا خِزْىٌ وَلَهُمْ فِى الْءَاخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
তার চেয়ে বড় যালেম কে, যে ব্যক্তি আল্লাহর মাসজিদগুলোতে আল্লাহর নাম নিতে বাধা দেয় এবং ওগুলোর ধ্বংস সাধনের চেষ্টা করে? অথচ ভয়ে ভীত না হয়ে তাদের জন্য মাসজিদে প্রবেশ সঙ্গত ছিল না, এদের জন্য দুনিয়াতে আছে লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
(সূরা বাকারাঃ১১৪)
হে আমার প্রিয় মুসলিম উম্মাহ! বর্তমান বিশ্বে তোমরাই নির্যাতিত। তোমরা হয়ত ভাবতেছ ও বলতেছ আমাদের উপর কেন তারা নির্যাতন করে? তোমরা জেনে রাখ তোমাদের উপর এই কারনে কুফফার শক্তি নির্যাতন করে তোমরা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত কর। তোমদের দোষ একটাই তোমরা কেন আল্লাহর উপর ঈমান এনেছ। তোমাদের দোষ তো এটাই যে তোমরা কেন মুসলিম হয়ে জম্মগগ্রহন করেছ।
হে আমার মুসলিম উম্মাহ! তোমরা যে নির্যাতিত হবে এই কথা তো আল্লাহ বলেই দিয়েছেন আর কতই না সুভাগ্য তোমরা কারন তোমরা আল্লাহর পরীক্ষার মধ্যে আছ। আর তোমাদের এই নির্যাতনের কথা আল্লাহ এভাবে বলে দিয়েছেন:-
وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّآ أَن يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
তারা তাদেরকে নির্যাতন করেছিল একমাত্র এই কারণে যে, তারা মহাপরাক্রান্ত প্রসংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।
(সূরা বুরুজঃ৮)
হে আমার নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহ! এই কুফফার শক্তি তোমাদের নারী ও পুরুষদের উপর নির্যাতন করার পরও যদি তারা তওবা করে সঠিক পথে ফিরে না আসে তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করতেছে চিরস্থায়ী কঠিন জাহান্নামের শাস্তি, সেখানে তারা উত্তপ্ত আগুনে দ্বগ্ধ হবে আর বলবে : আহ, আমরা কেন সঠিক পথে ফিরে এলাম না? আমরা কেন তাদের উপর নির্যাতন করলাম?
আল্লাহ বলেন:-
إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابُ الْحَرِيقِ
যারা মু’মিন পুরুষ ও নারীদের প্রতি যুলম পীড়ন চালায় অতঃপর তাওবাহ করে না, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা।
(সূরাঃবুরুজ ১০)
হে নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহ! আজ মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকালেই তোমাদের আর্তনাদ আর হাহাকার শুনতে পাই। আজ ফিলিস্তিন,ইরাক,ইরান,আরাকান,চেসনিয়া, বসনিয়া,সোমালিয়া,কাস্মির,উইঘুরসহ প্রতিটি মুসলিম জাতির উপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন ও অত্যাচার।সকল কুফফার শক্তি জুট আজ একত্রিত হয়েছে, তারা একে অপরকে এই বলে আহ্বান করে যেন এসো, এসো বইঠক করি কিভাবে মুসলিমদেরকে নিধন করা যায়?
তোমরা দূর্বল তাই আমাদের প্রতি লক্ষ করে তোমরা আমাদের বলতেছ, হে আমার মুসলিম ভাই আমাদেরকে এই জালিমদের জুলুম অধ্যূষিত জনপথ থেকে রক্ষা কর। কিন্তুু আমরা তোমাদের ডাকে এখনও সাড়া দিচ্ছি না। তোমরা আর একটু অপেক্ষা কর তোমাদেরকে যিনি সাহায্য ও মুক্ত করবেন সেই ইমাম মাহদি (র) অতি দ্রুত আগমন করবেন ইনশাআল্লাহ। তারপর তোমরা ফিরে পাবে সোনালী দিনগুলো ও তোমরা আযাদ হবে জালিমদের হাত থেকে। তাদেরকে এমনভাবে লাঞ্চিত,বঞ্চিত, অপদস্ত, অপমানিত,করব যা তাদের অন্তরে ত্রাসের সৃষ্টি করব, তাদের পায়ের মাটি কম্পিত করব। হায়! আজ তোমাদের এই দুঃসময়ে সান্ত্বন ছাড়া কি দিতে পারি। যখন তাহাজ্জুতের মধ্য রাতে উঠি তখন এই পাপিষ্ঠে তোমাদের প্রতি আল্লাহর দরবারে অশ্রুবিসর্জন আর দোয়া ছাড়া কিছুই দিতে পারি না।তোমাদেরকে সাহায্য দেওয়ার মতো আর কিছু নেই, ভাবি যখন আল্লাহর নেয়ামত ও ধন-সম্পত্তি অর্জন করব তখন সে সবগুলো তোমাদের খেদমতে পেশ করব ও আল্লাহর রাজে যুদ্ধরত আল্লাহর সৈনিকদের ও রাস্তায় ইনশাআল্লাহ। এখন দোয়া ছাড়া কিছুই তোমাদের দিতে পারি না। আর আমরা মুসলিমরা তোমাদের প্রতি এখনও সাহায্যের হাত বাড়াই নি!
আর আমরা যে তোমাদের সাহায্য করতেছি না এটা আল্লাহ এভাবে বলেছে
وَمَا لَكُمْ لَا تُقٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدٰنِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْ هٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا
তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী করে দাও।’
(সূরা নিসাঃ ৭৫)
হে আমাদের নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহ! আমরা আজ তোমাদে ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারন একটাই আমরা আজ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি! যেদিন থেকে উসমানী খেলাফতের পতন ঘটেছে সেদিন থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। কুফফার বাহিনী আমাদেরকে ৫৭ টি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দিয়েছে অথচ আমরা ছিলাম একই দেহের একটা অংশ।
আমরা তোমাদের ডাকে এই কারনে সাড়া দিতে পারি না যে আজ আমরা মুসলিমরা পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত আছি। এক আলেম অন্য আলেমের বিরুদ্ধে,এক ভাই অপর ভাইয়ের বিরুদ্ধে, এক ইসলামী দল অন্য দলের সাথে, এক মুসলিম রাষ্ট্র অন্য মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে পরস্পর বিরুদ্ধে লিপ্ত আছি তাই আমরা দূর্বল ও ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছি!!! আল্লাহ বলেন:-
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَنٰزَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ۖ وَاصْبِرُوٓا ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصّٰبِرِينَ
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ করো না, তা করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে, তোমাদের শক্তি-ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
আনফালঃ৪৫)
আমরা বিচ্ছিন্ন মুসলিম উম্মাহ আবারও একত্রিত হতে পারব যদি আমরা আল্লাহর রজ্জুকে আকরে ধরতে পারি। আল্লাহ বলেন :-
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَآءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِۦٓ إِخْوٰنًا وَكُنتُمْ عَلٰى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا ۗ كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ ءَايٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আল্লাহর রজ্জুকে সমবেতভাবে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতির সঞ্চার করলেন, ফলে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নি-গহ্বরের প্রান্তে ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবে আল্লাহ নিজের নিদর্শনাবলী তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও।
(সূরা ইমরানঃ১০৩)
হে মুসলিম জাতি! হে মুসলিম বিশ্ব!! আজ সারা বিশ্বের কুফফার শক্তি একত্রিত হয়েছে আমাদের মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে।আমাদের ভয়ের কোনো কারন নাই কারন আমাদের জয়ের কথা আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, আমরাই জয়ী হব তাদের বিরুদ্ধে।
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমরা হীনবল ও দুঃখিত হয়ো না, বস্তুতঃ তোমরাই জয়ী থাকবে যদি তোমরা মু’মিন হও।
(সূরাঃইমরানঃ১৩৯)
হে বর্তমানের নির্যাতিন মুসলিম উম্মাহ! তোমরা আজ দেখতে পেয়েছ যে তোমাদের ডাকে মুসলিমরা সাড়া না দিলেও আল্লাহ তো সাড়া দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে চীনের জিংজিয়ান প্রদেশের উইঘুর এমন এক জাতি তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও অত্যাচারিত।চীন তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন করে আসতেছে। অথচ আল্লাহর গজব আসতে দেরি হয় নি। তাদেরকে করোনা ভাইরাস দ্বারা গজব দিয়েছেন অথচ এটা এমন এক বস্তুু যা চোখেও দেখা যায় না।আল্লাহ বলেন
إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ
তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও অবশ্যই বড় কঠিন।
(সূরাঃবুরুজ ১২)
হে নির্যাতিত মুসলিম! তোমরা ধৈয্যহারা হয়িও না, তোমরা ধৈয্যধারন কর নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদে সাথে আছেন। আর সালাতের মাধ্যমে তার কাছে চাও যেন তোমাদের উপর অতিদ্রুত বিজয় দান করেন।
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلٰوةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصّٰبِرِينَ
হে মু’মিনগণ! ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
(সূরাঃবাকারা ১৫৩)
অবশেষে তোমাদের লক্ষ করে বলি তোমরা ধৈর্যধারন কর।আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন ও তোমরাই বিজয় হবে। আল্লাহ বলেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করবেন ও যদি ধৈর্যধারন কর কবে তোমাদের বিজয় ও সুসংবাদ গ্রহন কর। আজ তোমরা হারিয়েছ তোমাদের ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্পত্তি, টাকা-পয়সা,তোমাদের গর্ভের ছেলে-মেয়ে,মা-বাব, আত্মীয়-স্বজনকে আর এটাই আল্লাহ দেওয়া পরীক্ষা।
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوٰلِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ۗ وَبَشِّرِ الصّٰبِرِينَ
তোমাদেরকে ভয় ও ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি (এসবের) কোনকিছুর দ্বারা নিশ্চয়ই পরীক্ষা করব, ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর।
(সূরাঃবাকারা১৫৫)
আমার চ্যানেল থেকে লেকচারটি শুনতে link এ ক্লিক করুন
https://youtu.be/QxgLSwZOvto
Blogger: Asadullah
Youtube Channel : Asadullah TV.BD
Webside : Asadullah News & Library
gmail: mdasadullah3434@gmail.com

Comments
Post a Comment