উস্তাজুল ওলামা আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত
আমার স্নেহের ছোট ভাই বহু মাস পর বাড়িতে আসলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সকল কিছুই বন্ধ-ছুটি হয়ে গেছে।গতকাল বিকেলে নানা হুজুরের খেদমতে হাফেজ আব্দুল্লাহ গিয়েছিল।নানা হুজুরের, ছদর হুজুরের রুমে প্রবেশ করেই এই আয়াতটি হুজুরকে শুনাল।
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقٰمُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِى كُنتُمْ تُوعَدُونَ
নিশ্চয় যারা বলে, ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাযিল হয় (এবং বলে,) ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর তোমাদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল’।
(সূরা:ফুসসিরাত:৩০)
আয়াতটি শুনার পর হুজুরের চোখ দিয়ে স্রোতের ন্যায় অশ্রু ঝড়তে থাকল!! অর্থাৎ, নেক বান্দাদের, আল্লাহ ওয়ালা ব্যাক্তিদের মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা এসে এই আয়াতটি শুনায়।
তারপর ছোট ভাই হাফেজ আব্দুল্লাহ দেখতে পেল হুজুরের বিছানায় তায়াম্মুমটি পড়ে আছে।হুজুর অসুস্থ ও অযু করতেও কষ্ট হয়। তখন কোরআনের এই আয়াতটি সে তিলাওয়াত করে শুনাল, সাথে-সাথে নানাজ্বী তায়াম্মুমটি হাতে নিয়ে তায়াম্মুম করে পবিত্র হয়ে নিল।
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوٓا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلٰوةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضٰىٓ أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَآئِطِ أَوْ لٰمَسْتُمُ النِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَآءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ ۚ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُۥ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা যদি স্ত্রী সহবাস কর অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত তা দ্বারা মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নিআমত তোমাদের উপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
(মায়িদাহ:০৬)
নানা হুজুর একজন একজন বড় মাফের আল্লাহ ওয়ালা কিন্তুু প্রকাশ করতে চাই না।তিনি নিজেকে খুবই নগন্য মনে করেন।
আমি হুজুরের খেদমতে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আছি। আমিই জানি উস্তাজুল ওলামা নিজেকে কতটুকু ছোট মনে করে। তারপর নানা হুজুরকে সান্ত্বনা দিয়ে ছোট ভাই এই আয়াতগুলো শুনাই ও সুসংবাদ দেয়। এই আয়াতগুলো ঐসব ব্যক্তিদের প্রতি নাজিল হয়েছে যারা সফলকাম ও দুনিয়াতে আল্লাহর বিধান মতো চলেছে। মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারাও এই আয়াতগুলো শুনাই ও মৃত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেয়।আয়াতগুলো শুনে হুজুর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে যা বলার মতো নয়!!
নানা হুজুর, উস্তাজুল ওলামা দীর্ঘ ৬৩ বছর আল-জামিয়াতু শামসুল উলুম বালুয়াকান্দি মাদ্রসায় শিক্ষকতা করে আসতেছে ও টানা ১৮ বছর মোহতামীমের দায়িত্ব পালন করেছেন!!
এই শতবর্ষের জিন্দেগি শেষ জীবনে এসেও তিনি আল্লাহর ইবাদত করতে পারতেছেন যা আল্লাহর রহমত।
আল্লাহ বলেন,
يٰٓأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ
হে প্রশান্ত মন,
ارْجِعِىٓ إِلٰى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
فَادْخُلِى فِى عِبٰدِى
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
وَادْخُلِى جَنَّتِى
এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
(ফজর:২৭-৩০)
আল্লাহ উস্তাজুল ওলামাকে ঈমানের সহিত ও সুস্থ অবস্থায় কালেমার সহিত মৃত্যু দান করুক,আমিন।



Comments
Post a Comment