রেলস্টেশনের ঐসব লোকদের কথা বলতেছি
#ছবিঃআসাদুল্লাহ #তারিখঃ ২৮ শে মার্চ,5pm
১ম ও ২য় ছবি আমাদের আমীরগঞ্জ রেলস্টেশন
ও পরের ৩য় ছবি আমীরগঞ্জের আগের স্টেশন আমাদের নরসিংদীর রেলস্টেশন!!!
করোনার আগমনে থেমে গেছে,স্থির হয়ে গেছে প্রকৃতির গতিশীলতা।শুনা যায় না আর ঝন-ঝন রেলগাড়ির আওয়াজ,দেখা যায় না আর রেল-লাইনের লাল-নীল বাতিগুলো।স্টেশনে দেখা যায় না অপেক্ষমান যাত্রীদেরকে,দেখা যায় না সেই দৃশ্য মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে সময়টা দেখে বলে আজও ট্রেনটা দেরি করেছে।সেই সাথে দেখা যায় না তিতাস ট্রেনের ভীড়ের দৃশ্যগুলো। ঐসব শিশুগুলোকেও দেখা যায় না,যখন ট্রেনটা এসে থামে তখন দৌড়া-দৌড়ি করে মাথায় পানির বোতল নিয়ে বলে " ঠান্ডা পানি লাগবে পানি?"
প্রতিটি রেলস্টেশন হারিয়ে ফেলেছে তাদের ব্যস্ততা।পত্রিকার পাতা,চা,বাদাম,পানি ইত্যাদির বিক্রেতা রেলস্টেশনর আর আসে না,এই রেলস্টেশনই তাদের কর্মস্থল ও জীবিকার উৎস কিন্তুু এখন তারা যে নিঃস্ব,অসহায়, দুমোঠো খাবার পেটে আর দিতে পারে না।
দেখা যায় না আর রেলস্টেশনের রাতের দৃশ্য,দিনমজুররা সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে চটটা বিছিয়ে ঘুমিয়ে যেত এই আশায় যে ভোরে এসে কোনো এক কৃষক তাকে ডেকে বলবে "এই মিয়া ওঠ, আমার ক্ষেতে মুনি লমু তাড়াতাড়ি আইয়ো"।
দেখা যায় না আর সেই দৃশ্য, যাত্রীরা যখন ট্রেনের অপেক্ষায় তখন পিছন দিক দিয়ে এক ভিক্ষুক তার অসহায় হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলবে "বাবা দুইটা টাকা দিবেন?"
ট্রেনও আর স্টেশনে আসে না তাই যাত্রীরাও। কিন্তুু এক শ্রেণির অসহায় লোকগুলো আসতে চায় কিন্তুু এসে তো লাভ হবে না, খাবার জুটবে না উদরে।
ট্রেনও আর আসে তা, সেই সাথে ট্রেনের ধাক্কা থেকে বেঁচে যায় কিছু লোক। হয়ত আমাদের বালুয়াকান্দির কবরস্থানে শুয়ে থেকে বন্ধু মোফাজ্জিম হক (বাবু) করিমগঞ্জ,পলাশ ভাই (করিমগঞ্জ) তারা বলে ট্রেনটা আসে না ভালোই হয়েছে, আমাদের মতো ট্রেনের ধাক্কায় কারো যেন প্রাণ না যায় আর সেই সীমাহীন ব্যাথা সহ্য না করতে পেরে মৃত্যুর কোলো যেন ঢলে না পড়ে।আমাদের বালুয়াকান্দির পাগলা দেলু ভাই যেন একই কথা বলে, ট্রেনটা আসে না ভালোই, আমার মতো যেন কেহ আর ট্রেনের ইঞ্জিনের বগিতে ওঠে দু'হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে না থাকে,পরে কেহ আরেক পাগলা বা টোকাই এসে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মেরে না দেয়। সেই সাথে বালুয়াকান্দির কান্দাপাড়ার যুবক ভাইটি যেন একই কথা বলে, ইস ট্রেনটা আসে না ভালোই হয়েছে,যারা রেললাইন পাড়া-পাড় করার সময় মোবাইলে কথা বলে তারা বেঁচে যাবে।
তাদের কথাগুলো আমি যেন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে শুনিতে পেরেছি। ফজরের নামাজ পড়ে কবরস্থানে প্রবেশ করিয়া যেন এই কথাগুলোই তারা আমাকে বলেছিল।
আর আমি কি বলব?বলেও বলতে পারি নি, কিন্তুু ট্রেনটা যে না আসলে হাজার-হাজার অসহায় পরিবারের লোকদের পেটে খাবার জুটে না। ট্রেন আসবে যদি করোনারা চলে যায়।আমি তো শুধু ঐসব লোকদের কথা বললাম যাদের জীবন চলে রেলস্টেশনে কাজ-কর্ম করে। কিন্তুু ঐসব লোকদের কথা বলিনি হাজার-লাখো লোকদের দিন চলে দিনে এনে দিনে খায় কিন্তুু তাদের কাজও যে বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে রেলস্টেশনের লোকগুলোর জীবনটা যেন খুবই ভয়াবহ,স্টেশনই তাদের জীবিকার প্রধান উৎস কিন্তুু ট্রেন তো আসে না।যাত্রীরা খুবই বিরক্তবোধ করে ট্রেন যখন দেরিতে আসে,লেট করে, তখন তার যেন সহ্য হয় না। ও ভাই, একবার চিন্তা করে দেখেন এসব রেলস্টেশনের অসহায় মানুষগুলো কিভাবে সহ্য করবে ট্রেনটা যে কয়েকদিন লেট করবে?আপনি তো ট্রেনের ওঠার জন্য কিন্তুু তারা যে খাবার পেটে দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে!!!
অসহায় মানব জীবনের কথা এই সময়ে একবার হলেও ভেবে দেখিয়েন তারা কতটা কষ্টে আছে এই করোনার ফলে, করোনা যদি তাদের আক্রমণ করিত তবে সেটাই ভালো ছিল কষ্ট সহ্য করতে হতো না, কিন্তুু এখন যে কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। পেটে খাবার না থাকলে কেমন লাগে তা বুজতে চাইলে একদিন পেটে খাবার না দিয়ে থাকুন তবেই ঐসব লোকদের ব্যথা বুজতে পারবেন।
আমরা কি এসব অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে পারি না,আমাদের হাত কি বাড়িয়ে দিতে পারি না তাদের সাহায্যে।আপনি আপনার পাশের প্রতিবেশী বা গ্রামের দিকে তাকিয়ে একবার দেখেন কত অসহায় দিনমজুররা না খেয়ে আছে,কষ্ট করতেছে এই কয়েকদিন কিন্তুু বলতে পারতেছে না, কার কাছে বলবে, তাদের কথা কে শুনবে?? আসুননা তাদের পাশে দাঁড়ায়....
Comments
Post a Comment